ড্রেসিংয়ের আগে ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করলে কি ড্রেসিংয়ের পর পুনরায় মাসাহ করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৮৮) : একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমি হাতে চোট পেলে তাতে ব্যান্ডেজ লাগানো হয় এবং প্রতিদিনই ড্রেসিংয়ের প্রয়োজন হয়। ডাক্তার উক্ত স্থানে পানি লাগাতে নিষেধ করেন। তাই আমি ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করি। জানার বিষয় হল, যদি আমি ড্রেসিংয়ের আগে ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করে থাকি তাহলে কী ড্রেসিংয়ের পর পুনরায় মাসাহ করতে হবে?

জখম থেকে ইনজেকশন দ্বারা পানি বের করলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৭৮) : একবার আমার পায়ের গোড়ালিতে ভীষণ আঘাত পাই। এরপর সে আঘাত সারার পরও সেখানে বেশি চাপ পড়লে পানি জমে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন দিয়ে সে পানি বের করে ফেলতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, আমার যদি অযু থাকে তাহলে কি ইনজেকশন দ্বারা সে পানি বের করার দ্বারা আমার অযু ভেঙ্গে যাবে?

থুথুর সাথে কী পরিমাণ রক্ত বের হলে অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৫) : কিছু দিন আগে ডাক্তারের নিকট গিয়ে কয়েকটি দাঁত ওয়াশ করাই। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ছিল। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাসায় এসে গরম পানি দিয়ে কুলি করলে বেশ সময় পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। নামাযের সময় হওয়ায় বাসা থেকে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মসজিদের কাছে গিয়ে থুথু ফেলে দেখি তা লালবর্ণ ধারণ করে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সতর্কতাবশত নতুন অযু করে নামায পড়ি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি তখন আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

চোখে ব্যান্ডেজ করলে অযুর বিধান কী হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৪) : আমাদের এক আত্মীয়ের দুই চোখে অপারেশন হয়েছে। বেশ বড় ধরনের অপারেশন। সাত দিনের আগে ব্যান্ডেজ খোলা হবে না এবং খোলার পর এক মাস পর্যন্ত ডাক্তার চোখে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। এমন অবস্থায় তার অযুর বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কুলি করার পর মুখের ভেতরে পানির যে আর্দ্রতা থাকে তা গিলে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬০৮) : রমযান মাসে অনেককে দেখা যায় যে, তারা অযু করার পর মুখের ভেতরে অযুর পানি থাকার ভয়ে বারবার থুথু ফেলতেই থাকে, ফলে দ্রুত গলা শুকিয়ে যায়। আবার কেউ কুলির পর একবারও থুথু ফেলে না। তো প্রশ্ন হল, অযু করার পর মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সাথে গিলে ফেলা যাবে, না ফেলে দিতে হবে? এক্ষেত্রে আসলে সঠিক মাসআলাটি কী?

বাসের সিটে বসে ঘুমালে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৫) : একবার দূরে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাতে গাড়িতে উঠেছি। ফজরের সময় দশ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হল। আমি এবং আমার পাশের সিটের সাথী একসাথে নামায আদায় করলাম। আমি তো অযু করেছি কিন্তু সে অযু করেনি। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমি অযু করে উঠেছিলাম, আর বাসের সিটে বসে ঘুমালে অযু ভাঙে না। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

অযু করার সময় কথা বললে কি মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০১) : অযু করার সময় অনেকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে থাকে। উত্তর দিতে না পারায় নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগে। জানার বিষয়, তার মনের দিকে লক্ষ করে যদি উত্তর দেওয়া হয়, তাহলেও কি অযু মাকরূহ হবে?

ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে না পড়লেও কি অযু ভাঙে?

প্রশ্ন (১২৩৮৪) : মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাত ছিলে যায়। এ অবস্থায়ই নামাযে শরীক হয়ে যাই। নামায শুরু করার সময় হাতের ছিলা জায়গাটা সাদা হয়ে ছিল। যখন নামায শেষ করি তখন দেখি রক্তে চামড়াটা লাল হয়ে আছে। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই নামায কি সহিহ হয়েছে?

অযুতে কুলি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৩৬৪) : আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

অযু করার সময় এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬১) : একদিন মসজিদে অযু করার সময় হাত ও মুখ ধোয়ার পর পানি চলে যায়। তখন মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে অযু শেষ করি। ততক্ষণে আমার চেহারা এবং হাত শুকিয়ে যায়। জানার বিষয় হল, আমার এ অযু কি শুদ্ধ হয়েছে? এবং তা দ্বারা যে নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে?

রঙমিস্ত্রি হাত পরিষ্কার করার পরেও হাতে রঙ লেগে থাকলে কি তার অযু শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৮) : আমি একজন রঙমিস্ত্রি। রঙের কাজ করে তারপিন ইত্যাদি দিয়ে হাত পরিষ্কার করার পরও অনেকসময় নখের কোণায় কিছু রঙ আটকে থাকে, যা উঠানো খুবই কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় আমার অযুর কী হুকুম? আমার অযু কি শুদ্ধ হবে?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩০৯) : কয়েকদিন আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। ডাক্তার আমার শরীরে স্যালাইন দেওয়ার আগে আমি অযু করে নিয়েছিলাম, যেন সময়মত নামায পড়ে নিতে পারি। তবে আমার হাতে সুচ ঢুকানোর পর স্যালাইন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নলের ভেতর কিছুদূর পর্যন্ত রক্ত বেরিয়ে আসে। এরপর স্যালাইন ছাড়লে আবার তা শরীরের ভেতর চলে যায়। জানার বিষয় হল, ঐ দিন স্যালাইন চলা অবস্থায় উক্ত অযু দ্বারা আমি দুই ওয়াক্ত নামায পড়েছিলাম। ঐ নামাযের কী হুকুম?

পাট ভিজানো পানি দিয়ে কি অযু-গোসল করা যাবে?

প্রশ্ন (১২২৬০) : আমাদের এলাকায় অনেকেই পাট চাষ করেন। পাটগাছ কাটার পর তা থেকে আঁশ বের করার জন্য খালে বা পুকুরে এগুলো ভিজিয়ে রাখা হয়। কিছুদিন পর পাট পঁচে পানির রং পরিবর্তন হয়ে যায় এবং পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধও সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন হল, এই পানি দ্বারা কি অযু-গোসল করা যাবে? এছাড়া পাট ধোয়ার সময় শরীরে বা কাপড়ে এই পানি লেগে থাকলে সে অবস্থায় নামায পড়া যাবে কি না?

অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৬) : আমি ওযুর মধ্যে সাধারণত পূর্ণ মাথা মাসাহ করি। একদিন তাড়াহুড়োর দরুন পূর্ণ মাথা মাসাহ করতে পারিনি। মোটামুটি অর্ধেকের মত করেছি। মুহাতারামের কাছে জানার বিয়ষ হল, অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৫) : আমি মগের মধ্যে পানি ভরে বারান্দায় রেখে প্রস্রাব করতে যাই। এসে দেখি আমাদের ঘরের বিড়াল পানিতে মুখ ‍দিয়েছে। যেহেতু ঘরের বিড়াল, তাই আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অযু করে নিই। পরবর্তীতে আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে,এই পানি দিয়ে আমার ওযু হয়েছে কিনা। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, বিড়ালের ঝুটা পাক না নাপাক? উক্ত পানি দিয়ে অযু করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, উক্ত পানি ছাড়াও অন্য পানির ব্যবস্থা ছিল।

ওযু করার পর কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৪৩) : আমি অযু করার পর লক্ষ করলাম, ডান হাতের কিছু অংশ শুকনো রয়ে গেছে। তখন আমি পুনরায় অযু করে নিই। জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

পানিতে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা পড়লে সেই পানি দিয়ে ওযু সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৩৯) : গতকাল ওযু করার সময় পাত্রে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা দেখেছি। পরে ঐ পানি দিয়েই ওযু শেষ করি। ঐ অযু দিয়ে আসরের নামায পড়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

বার বার টিস্যু দিয়ে রক্ত মুছে ফেললে কি ওযু বহাল থাকবে?

প্রশ্ন (১২০২৫) : আমি তিলাওয়াত করা অবস্থায় আমার শরীরের ঘা থেকে রক্ত ঝরছিল। তাই আমি অযু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগেই তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলছিলাম। এভাবে একটু পরপর অনেক রক্ত ঝরছিল , আর প্রত্যেকবারই আমি রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগেই তা মুছে ফেলছিলাম। আমি জানতে চাচ্ছি, রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগে মুছে ফেলার দ্বারা কি আমার ওযু বহাল আছে নাকি ভেঙে গেছে?

সামান্য সময় অজ্ঞান থাকলেও কি ওযু নষ্ট হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২০০১) : আমি যোহরের নামায আদায় করে এক জায়গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছি। আমি বাসে করে যাচ্ছিলাম। বাসে আমার পাশের সিটে যে লোকটা বসেছিল সে আমার মুখে কিছু একটা চেপে ধরেছিল, যার ফলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। সে আমার পকেট থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাসে অনেক মানুষ থাকায় আমার টাকাগুলো নিতে পারে নি। পরে আমার আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি ওযু না করেই দুই রাকাত শুকরিয়ার নামায আদায় করি। নামাযের পরে আমার মনে সন্দেহ জাগল যে, আগের ওযু দিয়ে আমার নামায হলো কিনা। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, অজ্ঞান হওয়ার কারণে কি আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেছে? আর আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

হাতে প্লাস্টার থাকলে কিভাবে ওযু করব?

প্রশ্ন (১২০০০) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি রাস্তা অতিক্রম করার সময় গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করে আমার হাত ভেঙে গেছে। পরে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার আমার হাতে প্লাস্টার লাগিয়ে দেয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমি কিভাবে ওযু করব?