সেজদায়ে সাহু বা নামাযে ভুল হলে করনীয়

তাশাহ্হুদের কোনো অংশ ছুটে গেলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৬৪) : আসরের নামাযে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার সময় ভুলে আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ছুটে যায়। এজন্য নামায শেষে আমি সাহু সিজদা আদায় করেছি। জানার বিষয় হল, ঐ অংশটুকু ছুটে যাওয়ার কারণে আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল? যদি ওয়াজিব না হয় তাহলে আমি সাহু সিজদা করার কারণে আমার নামায হয়েছে কি?

ফরয নামাযের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর বিসমিল্লাহ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩৭) : চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ভুলে বিসমিল্লাহ পাঠ করলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

নামাযের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৭২২) : একদিন আমি আসরের নামায পড়ার সময় নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদের পরিবর্তে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। এরপর তাশাহ্হুদের কথা স্মরণ হলে তাশাহ্হুদ পড়ি এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করি। এখন প্রশ্ন হল, আমার ঐ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দেওয়া ঠিক হয়েছে কি?

নামাযে ভুলবশত একটি সিজদা ছুটে গেলে তার পরিবর্তে সাহু সিজদা দিলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৬৯) : আমি একদিন যোহরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে শুধু একটি সিজদা করি। পরে নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় আমি সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার এ নামায কি সহিহ হয়েছে, নাকি তা আবার আদায় করতে হবে?

ফরয নামাযের চতুর্থ রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৫৫) : আসরের নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে বসে পড়েছেন। এরপর চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব না বসে সোজা দাঁড়িয়ে যান। কেননা তিনি ভেবেছেন, এটি তৃতীয় রাকাত। মুসল্লিরা শেষ বৈঠকে বসে লোকমা দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম সাহেব বৈঠকে ফিরে না আসায় মুসল্লিরা বৈঠক ছেড়ে ইমাম সাহেবের অনুসরণ করে। মাসআলা জানা থাকায় আমি ও কয়েকজন মুসল্লি শেষ বৈঠকে বসে ছিলাম। এরপর ইমাম সাহেব যখন পঞ্চম রাকাতের সিজদা করেছেন তখন আমরা সালাম ফিরিয়েছি। এরপর অবশ্য আমরাও সকলের সাথে সতর্কতাবশত পুনরায় আসরের নামায আদায় করে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, আমাদের প্রথম নামায সহিহ হয়েছিল কি?

ইমাম সাহেব নামাযে ভুল করলে কি সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দিবে নাকি আল্লাহু আকবার বলে?

প্রশ্ন (১৩৬৪৬) : নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি ঠিক?

জুমার নামাযে কোনো ওয়াজিব বিধান ছুটে গেলে সাহু সিজদা না করার কোনো সুযোগ আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৬১৮) : আমি একজন ইমাম। গত শুক্রবার জুমার নামায পড়াতে গিয়ে ভুলে একটি ওয়াজিব ছুটে যায়। শুনেছি, জুমার নামাযে ভুলে ওয়াজিব ছুটে গেলে নাকি সাহু সিজদা না দিলেও হয়। তাই আমি সাহু সিজদা করিনি। মাসআলাটি কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযের কোনো রাকাতে তিনটি সিজদা আদায় করলে উক্ত নামায সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬৬) : আমি গতকাল আসরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলে তিনটি সিজদাহ করে ফেলেছি। নামাযের শেষে সাহু সিজদাও করেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, সাহু সিজদা তো ওয়াজিব হয় নামাযের কোনো ওয়াজিব বিধানে ত্রুটি হলে। সিজদা আদায় যেহেতু ফরয তাই এতে ত্রুটির কারণে হয়ত আমার নামায কি ভেঙ্গে গেছে?

নামাযের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৬১) : কয়েকদিন ধরে প্রায়ই নামাযের মধ্যে আমার রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, আমি তিন রাকাত পড়লাম নাকি চার রাকাত। এ অবস্থায় আমি কীভাবে নামায আদায় করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নামাযের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬০) : আমি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। সূরা ফাতিহা শেষ করার পর আমার বৈঠকের কথা মনে হয়। পরে তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা আদায় করে নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাই, নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩৭) : গতকাল এশার নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করেন। নামাযের পর কয়েকজন মুসল্লি সাহু সিজদার ব্যাপরে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়ে ফেলি। এই কারণে সাহু সিজদা করেছি। তখন একজন বলল, দরূদ তো নবী (সা.)-এর জন্য দুআ। এর কারণে তো সাহু সিজদা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জানতে চাই, এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী?

মাসবুক ব্যক্তি কি ইমামের সাথে সাহু সিজদা আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৩) : আমি আসরের নামাযের সময় চতুর্থ রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই। নামায শেষে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা আদায় করেন। কিন্তু আমি সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকি। কারণ আমি এক ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা দিবে না। কিন্তু নামায শেষে পাশের এক মুসল্লি বলল, মাসবুক ব্যক্তিও ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে। অন্যথায় তার নামায সহিহ হবে না। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সঠিক মাসআলা কোনটি? জানালে উপকৃত হব।

নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে রুকু ছুটে গেলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৩) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে রুকু না করেই সিজদায় চলে যান। পেছন থেকে তাকবীর বললেও তিনি উঠেননি। ফলে সবাই তার সাথে সিজদায় শরিক হয়ে যায়। পরে তিনি দ্বিতীয় রাকাতে দুটি রুকু করেন এবং চতুর্থ রাকাতের পর সাহু সিজদা করে নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, আমাদের ঐ নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফরয নামাযে ভুলে দুইবার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫২) : আমি মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ করে ভুলবশত পুনরায় সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। তারপর যথারীতি নামায পড়ে সাহু সিজদা দেই। জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ নামায কি হয়ে গেছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

নামাযের বৈঠকে সূরা ফাতিহা পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১৩৪৩৪) : আমি একদিন যোহরের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে বসে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়তে শুরু করি। কয়েক আয়াত পড়ার পর আমার মনে পড়ে। তখন সাথে সাথেই তাশাহহুদ পড়ে নেই এবং যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল? এবং সাহু সিজদা করার দ্বারা কি আমার নামায হয়ে গেছে?

রুকুতে গিয়ে ভুলে তিলাওয়াত করলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪২১) : আমি একদিন একাকী নামায পড়ার সময় রুকুতে গিয়ে ভুলে কিরাত পড়তে শুরু করি। দুয়েক আয়াত পড়ার পর মনে হয় যে আমি রুকুতে আছি। তখন সাথে সাথেই রুকুর তাসবীহ পড়ে যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে সাহু সিজদা করে কি আমি ঠিক করেছি?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ভুলে দুআয়ে কুনুত না পরে রুকুতে সামান্য ঝুঁকে আবার উঠে গেলে কি সাহু সিজদ…

প্রশ্ন (১৩৪১৬) : একবার বিতরের নামাযের ৩য় রাকাতে ভুলে দুআয়ে কুনূত না পড়েই রুকু করতে যাচ্ছিলাম। সামান্য ঝুঁকামাত্রই দুআর কথা স্মরণ হয়। তাই দাঁড়িয়ে দুআয়ে কুনূত পড়ি। এরপর সিজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

নামাযের শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৩০) : আমি ফরয নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে দু’বার তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। পরে সাহু সেজদা না দিয়েই নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাই, আমার নামায কি আদায় হয়ে গেছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে তিন সিজদা করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩২৭) : আমি এশার নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে ৩ টা সিজদা করে ফেলি। পরে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে?

সাহু সিজদা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৩২১) : আমার জানামতে যে সমস্ত নামাযে নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে হয়, সেগুলোতে ইমাম সাহেব ভুলে ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত সশব্দে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। এমনিভাবে যে সমস্ত নামাযে সশব্দে কেরাত পড়তে হয় সেগুলোতে ঐ পরিমাণ কেরাত নিম্নস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। একদিন মসজিদে এক মুসল্লি বললেন, সূরা ফাতিহার ক্ষেত্রে হুকুম একটু ভিন্ন। আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা ও অন্যান্য সূরার মাঝে হুকুমে কোনো পার্থক্য আছে কি?