মুসাফিরের নামাজ

সুন্নত নামাযের কি কসর আছে?

প্রশ্ন (১২৯৭৪) : আমি ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় সফর করি। আমার জানার বিষয় হল, সুন্নত নামাযের কি কসর করতে হয়? আর সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযের হুকুম কী?

সফরে বের হয়ে যোহরের নামায আদায় করার পর কোনো কারণে ওয়াক্তের মধ্যেই সফর বাতিল করে বাড়িতে ফিরে আসলে কি…

প্রশ্ন (১২৯৫৭) : আমি গত ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ৪/৫ মাইল দূরবর্তী স্টেশনে পৌঁছি এবং সেখানে যোহরের নামায কসর করি। কিন্তু পরবর্তীতে বিশেষ কারণে সফর বাতিল করে বাড়িতে এসে দেখি যোহরের ওয়াক্ত এখনো বেশ বাকি। এখন প্রশ্ন হল, আমাকে উক্ত যোহরের নামাযটি কি পুনরায় পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে?

সফর পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করার পর বাড়িতে ফিরে আসলে নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৮৮১) : কেউ যদি সফরে বের হয়ে সফরের দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই ফেলে যাওয়া কোনো কিছু নিতে আবার বাড়িতে ফিরে আসে তাহলে বাড়িতে আসার পথে সে কসর করবে, না পূর্ণ নামায আদায় করবে?

মুসাফিরের জন্য কি সফর অবস্থায় কসর করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

মুসাফির ব্যক্তি যোহরের নামায চার রাকাত আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৬) : সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহিহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহিহ হয়েছে কি?

শহরের স্থায়ী বাসিন্দা গ্রামে গিয়ে কি কসর করবে নাকি পূর্ণ নামায পড়বে?

প্রশ্ন (১২৭৪১) : আমার গ্রামের বাড়ি খুলনা। ঢাকাতে আমার বাবা বাড়ি করেছেন। তাই আমরা ঢাকাতেই থাকি। গ্রামে আমার বাবার ঘর-বাড়ি কিছুই নেই। বছরে এক-দুইবার আমার বাবা সেখানে চাচাদের বাড়িতে বেড়াতে যান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার বাবা সেখানে গিয়ে কি নামায কসর করবেন, না পূর্ণ নামায পড়বেন?

মুসাফির জুমার নামাযের ইমামতি করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৯৬) : আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ। কয়েকদিন আগে আমি খুলনায় আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাই। সেখানে একটি ছোট মসজিদে জুমা আদায় করি। জুমার খুতবা দেওয়ার পর হঠাৎ খতীব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মুসল্লিরা আমাকে ইমামতির জন্যে অনুরোধ করলে আমি নামায পড়াই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মুসাফির হয়েও আমি যে জুমার নামাযে ইমামতি করেছি তা কি সহিহ হয়েছিল? না হলে এখন আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

সফরে নামায পড়ার বিধান।

প্রশ্ন (১২৬৫৭) : আমি বেনাপোলে থাকি। একদিন একটা প্রয়োজনে যশোর শহরে যাওয়ার দরকার হয়। শহরে পৌঁছার পর আব্বু ফোন করে বললেন, তোমার আপুর বাসা খুলনা থেকে ঘুরে আসো। তাই আমি যশোর থেকে খুলনায় যাই এবং সেখানে এক দিন অবস্থান করি। বেনাপোল থেকে যশোরের দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। অনুরূপভাবে যশোর থেকে খুলনার দূরত্বও সফর পরিমাণ তথা ৭৮ কি. মি. নয়। কিন্তু বেনাপোল থেকে খুলনার দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮০/৮১ কি. মি. বা তার চেয়ে বেশি। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি খুলনায় গিয়ে কি কসর পড়ব না পূর্ণ নামায পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪১) : তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০, ২০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে? কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা-সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু ঠিক? এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

কসর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭৫) : আমি ঢাকা লালমাটিয়ায় এলাকায় থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে আমাকে আমার ছোট ভাইয়ের মাদরাসা (কেরানীগঞ্জ) যেতে হয়। ওখান থেকে তাকে নিয়ে আবার লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে বাড়ি (সিলেট) যেতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কেরানীগঞ্জ তো সিটির বাইরে। তাই সেখানে গেলে কি আমি কসর করতে পারব। কেরানীগঞ্জ থেকে লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় আমি যদি মুহাম্মদপুর বা লালমাটিয়ায় নামায পড়ি তাহলে আমি কসর করব, না পূর্ণ নামায পড়ব। দলীলসহ উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

নামায কসর করা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৯০) : আমার গ্রামের বাড়ি সিলেট। আমি লন্ডনে থাকি । লন্ডনের সিটিজেনশিপ আছে। সিলেটে আমাদের বাড়ি ও জায়গা-জমি আছে। বছরে আব্বা-আম্মাসহ একাধিকবার দেশে আসা হয়। সামনে আমার বিবাহ-শাদী ইত্যাদি দেশেই করার খেয়াল এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই থাকার খেয়াল। কিছু সময় দেশে থাকব, বাকি সময় লন্ডনে থাকব। জানার বিষয় হল, আমি দেশে আসলে কি কসর করব?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীদের জন্য মুকিম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন (১২২৫২) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীরা মুকিম হওয়ার নিয়ত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৮) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

কোথাও সফরে গেলে কি সুন্নত নামায আদায় করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১২২) : কিছুদিন আগে দশ দিনের জন্য আমরা তাবলীগে গিয়েছিলাম। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথি সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

সফর অবস্থায় নামায কাযা হয়ে গেলে মুকীম অবস্থায় সেই নামায কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১১৭০৭) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাড়ি খুলনা। কয়েকদিন আগে আমি দুই দিনের জন্য ঢাকায় মামার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার আসরের নামায কাযা হয়ে যায়। কিন্তু আমি তা আদায় করি নি। এখন আমি বাড়িতে চলে এসেছি। তো এখন সেই ছুটে যাওয়া নামায কি আমি দুই রাকাত আদায় করব নাকি চার রাকাত আদায় করব?

মুসাফির ব্যক্তি জুমার নামায পড়ালে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৪) : আমি একজন আলেম। আমি ঢাকা থাকি। একবার আমি সিলেট আমার এক বন্ধুর বাড়ি দুই দিনের জন্য বেড়াতে যাই। সেখানে জুমার দিনে বন্ধুর আবেদনে তাদের মসজিদে জুমার নামায পড়াই। নামাযের পর স্থানীয় একজন লোক বলল, হুজুর তো মুসাফির। আর মুসাফিরের উপর তো জুমার নামায ফরয না। তাহলে হুজুরের জুমার নামায পড়ানো কি সঠিক হয়েছে? হযরতের নিকট জানতে চাচ্ছি, মুসাফির ব্যক্তি জুমার নামায পড়ালে কি শুদ্ধ হবে?

সফর অবস্থায় নামায কাযা হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৩) : কয়েকদিন আগে আমি কোনো কারণে সফর অবস্থায় আসর নামায পড়তে পারিনি। জানার বিষয় হল, এখন মুকীম অবস্থায় ঐ ওয়াক্তের কাযা কীভাবে আদায় করব? দুই রাকাত আদায় করব নাকি চার রাকাত?

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩৫৪) : আমি মদীনা ভার্সিটিতে পড়ি। এখান থেকে মাঝে মাঝে আমরা ছাত্ররা উমরা করতে মক্কায় যাই। পথে আমার সাথীরা ভিন্ন মাযহাবের হওয়ায় একই ওয়াক্তে দুই নামায একসাথে পড়ে। এ কারণে আমি তাদের সাথে নামায না পড়ে একাকি পড়ি। গাড়ি না থামানোর কারণে অন্য ওয়াক্তের নামায কাযা হয়ে যায় যা পরবর্তীতে পড়ে নেই। জানতে চাচ্ছি, তাদের মত আমি দুই ওয়াক্তের নামায একসাথে পড়তে পারব?