রোজা বা সিয়ামের বিধি-বিধানসমূহ

বৃদ্ধ ব্যক্তি তার পূর্বের কাযা রোযার জন্য কি ফিদয়া দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩১) : কয়েক বছর আগে রমযান মাসে অসুস্থতার কারণে আমি কিছু রোযা রাখতে পারিনি। সুস্থ হওয়ার পর সেগুলো কাযা করিনি। এখন বার্ধক্যের কারণে এত দুর্বল হয়ে পড়েছি যে, রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমার জন্য করণীয় কী? আমি কি ঐ রোযাগুলোর জন্য ফিদয়া আাদায় করতে পারব?

রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেললে কি কাযা-কাফ্ফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৮৪) : আমি রমযানের ২০ তারিখ বালেগ হই। প্রায়ই এমন হত যে, আমার রোযা রাখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মায়ের পীড়াপীড়িতে রোযা রাখতাম না। আবার কয়েকদিন আমি নিজেই রোযা রাখিনি। এ দশদিনের মধ্যে কতদিন আমি রোযা রেখেছি আর কতদিন রাখিনি সেটা আমার পুরো স্মরণ নেই এখন আমি কী করব?

সফর অবস্থায় রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেললে কি উক্ত রোযার কাযা-কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৩৯) : এবার রযমানে আমি এক জায়গায় সফরে যাই। তো সফর অবস্থায় একদিন রোযা রেখে কোনো কারণ ছাড়াই আবার তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাই, উক্ত কারণে আমাকে এই রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে নাকি শুধু কাযা করলেই হয়ে যাবে?

ইচ্ছাকৃত রোযা ভেঙ্গে ফেললে কাযা কাফ্ফারা আদায় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৬১১) : এবার রমযান মাসে আমি ক্ষুধার কারণে খাবার খেয়ে তিনটি রোযা ভেঙে ফেলি। এরপর সারাদিন অন্যান্য সময়ের মতো পানাহার করি। এখন আমি চাচ্ছি রোযাগুলোর কাযা আদায় করতে। তাই হযরতের কাছে জানার বিষয় হলো, আমাকে কি ওই রোযাগুলোর জন্য শুধু কাযা আদায় করলেই চলবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে?

মহিলারা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৫৫৯) : আমি দুই বছর আগে শরীয়তসম্মত কোনো ওজর ছাড়াই রমযানের একটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। এখন আমি সে রোযার কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমাদের জন্য তো ধারাবাহিক ষাটটি রোযা রাখা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিমাসেই ছয়-সাতদিন ঋতুস্রাব হয়। এখন আমার করণীয় কী?

মৃত ব্যক্তির কাযা রোযা কি অন্য কেউ আদায় করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৭৩) : আমার মামা দুই বছর আগে মারা গেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু রোযা রাখেননি। তার মৃত্যুর পর আমার খালারা কি এখন তার অনাদায়ী রোযাগুলো রাখতে পারবে? রাখলে কীভাবে রাখবে? কারণ আমরা জানি, ইচ্ছাকৃত একটি রোযা ভাঙলে একটানা ৬০টি রোযা রাখতে হয়। রোযার কাযা করা অবস্থায় ১দিন ছুটে গেলে তা কি আবার শুরু থেকেই রাখতে হবে? আর রোযা কি ১টির বদলে ৬০টি রাখতে হবে নাকি ১টি রাখলেই হবে?

অসুস্থতার দরুণ রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৮৮) : গত রমযান মাসে আমার দাদা ইন্তেকাল করেন। অসুস্থতার দরুণ তিনি কোনো রোযা রাখতে পারেননি। আমার বাবা-চাচারা এখন তার উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া আদায় করতে চাচ্ছেন। তাই জানতে চাই, তার ছুটে যাওয়া প্রতি রোযার জন্য কত টাকা করে ফিদয়া আদায় করতে হবে?

রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের নফল রোযার নিয়ত একসাথে করলে কি শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১৩২৮২) : রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

রোযা রাখা অবস্থায় মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে থুথুর সাথে পেটে চলে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৮১) : আমি রোযা রাখা অবস্থায় মিসওয়াক করছিলাম। তখন দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। এবং তা থুথুর সাথে পেটে চলে যায়। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে? ভেঙ্গে থাকলে এখন আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রোযা রাখা অবস্থায় মুখের মধ্যে বৃষ্টির পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১০১) : আমি রোযা রেখে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছিলাম। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমার মুখে কিছু বৃষ্টির পানি ঢুকে ভেতরে চলে যায়। হুযুরের কাছে জানতে চাই, আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? আর ভেঙ্গে গেলে কি শুধু কাযা করতে হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

বিমানে সফরকারী ব্যক্তি কিভাবে ইফতার করবে?

প্রশ্ন (১৩০৮১) : রমযানে যখন বিমানে সফর করা হয় তখন ইফতারের সময় নিয়ে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, যে দেশ থেকেই সফর শুরু হয় এক সময় দেখা যায়, সে দেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিমান যমিন থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে থাকায় স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীদের যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাহলে দেখা যায় কখনো কখনো রোযার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের অবস্থায় আমরা কখন ইফতার করব?

ইচ্ছাকৃত ভাবে একাধিক রোযা ভেঙে ফেললে কি সবগুলোর কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০০২) : আমি বালেগ হওয়ার পর থেকেই প্রতি রমযানে রোযা রাখি। কিন্তু শুরুতে বন্ধুদের প্ররোচনায় গোপনে পানাহার করে বেশ কিছু রোযা ভেঙে ফেলেছিলাম। এখন আমি সেগুলোর কাযা-কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। আমি শুনেছি যে, বিনা ওজরে একটি রোযা ভাঙলে ৬০ টি রোযা কাযা হিসেবে রাখতে হয়। তাহলে কি আমাকে প্রত্যেক রোযার জন্য ৬০ টি করে রোযা রাখতে হবে? এ ব্যাপারে কোনো ছাড় আছে কি? শরীয়তের সমাধান জানানোর অনুরোধ রইল।

বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০০) : আমাদের এলাকায় অনেক পরিবারে দেখি যে, পরিবারের কেউ বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে রমযান মাসে মাদরাসা থেকে একজন দরিদ্র ছাত্রকে লজিং রাখে। তাকে ভোররাতে ও সন্ধারাতে খাবার খাওয়ায়। আমার জানার বিষয় হল, বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম হলে কী করবে? আর উপরোক্ত পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ানোর দ্বারা রোযার ফিদয়া কি আদায় হবে?

রমযানের শুরুতে একসাথে সব রোযার ফিদইয়া আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২৪) : জনৈক অসুস্থ মাযূর ব্যক্তি যিনি রোযা রাখতে পারেন না তিনি তার রোযার ফিদইয়া পুরা রমযানেরটা একসাথে রমযানের শুরুতেই আদায় করে দিতে পারবেন কি না?

রমযানের রোযার কাফ্ফারা বিরতিহীন রাখা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৬১৭) : আমার স্ত্রীর উপর রমযানের একটি রোযার কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোযার মধ্যে এগারোটি রোযা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোযা রাখতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল, সে তার গণনা বারোতম রোযা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ওযরবশত রোযা না রাখতে পারলে কি ফিদইয়া দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৮৮) : আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনী প্রায় অচল। তাকে এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করতে পারেন। তার হাই প্রেসারও আছে। তাকে প্রতিদিন কিডনীর জন্য এবং হাই প্রেসারের জন্য বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। গত রমযান মাসে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রোযা রাখেন। সারাদিন রোযা রাখায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। বেশি সমস্যা হয়- নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার কারণে। এতে তার প্রেসার হাই হয়ে যায়। আর রমযান মাসে আমেরিকায় দিন দীর্ঘ (প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা) হওয়ার কারণে কেবল রাতে ওষুধ খেলে হয় না। তাই বেশিরভাগ দিনই তার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোযা রাখতে পারেননি। মাঝে খুব কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ১/২টি রোযা তিনি রেখেছেন। আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি তার রোযার পরিবর্তে ফিদইয়া দিতে পারবেন? আর ফিদইয়া দিলে কীভাবে আদায় করবেন।

রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৪৪০) : এবার রমযানে অসুস্থতার কারণে আমার একটি রোযা ভাঙা পড়ে। শাওয়াল মাসে একদিন ঐ রোযার কাযা করার উদ্দেশ্যে একটি রোযা রাখতে মনস্থ করি। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগে ঘুম না ভাঙায় আযান হওয়ার পরপরই রোযার নিয়ত করে নিই। এদিকে বেলা বাড়ার আগেই পুনরায় অসুস্থতা বোধ করতে থাকি এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনে রোযাটা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযানের ঐ রোযা কাযা করতে গিয়ে ওযরবশত ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাকে কি অতিরিক্ত আরেকটি কাযা রোযা রাখতে হবে?

ওজরের কারণে রোজা ভাঙা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৩) : রমযান মাসে একদিন দুপুরে তীব্র গরমের কারণে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তখন আমি এক গ্লাস পানি ও শরবত খেয়ে রোযা ভেঙে ফেলি। অবশ্য আমার রোযার কথা স্মরণ ছিল, আর না ভাঙলেও তেমন অসুবিধা হত না। এরপর বিকাল থেকে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। বিষয়টি আমাদের তালীমের আপাকে জানালে তিনি বলেছেন, ‘কাফফারা ওয়াজিব হয়নি, তবে রোযাটি কাযা করতে হবে।’ হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? আমাদের তালিমের আপা কি সঠিক বলেছেন?

রোযার কাফ্ফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৮) : আমি বালেগ হওয়ার পর ৭টি রমযান অতিবাহিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে শেষ ৩ রমযান আমি ঠিকমত রোযা রেখেছি। কোনো রোযা ছাড়িনি। বাকি ৪ রমযানে নিয়মিত রোযা রাখিনি। কোনো দিন রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছি। কখনো মায়ের চাপাচাপিতে ভেঙেছি। আবার কোনো দিন একেবারেই রাখিনি। তবে মনে হয়, রেখে ভেঙে ফেলার সংখ্যাই বেশি। এভাবে কত রোযা গেছে তার সঠিক হিসাব আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে, বিনা ওজরে রোযা ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হয়। তাই একবার লাগাতার ৬০টি রোযা রেখেছি। এ অবস্থায় আমার ঐ রোযাগুলোর কাযা কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

মুসাফির ব্যক্তি রোযা না রাখলে তার জন্য করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২৩০৩) : গত বছর শাবান মাসের ত্রিশ তারিখে রাত দশটায় আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্লেনে উঠি। আমেরিকায় যখন নিজের বাসায় পৌঁছাই তখন দুপুর একটা বাজে। সেখানে দ্বিতীয় রমযান চলছিল। সফরের কারণে আমি রোযা ছিলাম না। তাই বাসায় এসে দুপুরের খাবার খাই, কিন্তু পরে সন্দেহ হয় যে কাজটি ঠিক হল কি না। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত হয়েছে?