হজ্বের ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নাত-মুস্তাহাব

তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হলে কোনো দম আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৫৭) : গত বছর হজ্বের সফরে একদিন তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে ভুলে যাই। বাসায় আসার পর স্মরণ হলে ঐ দুই রাকাত নামায পড়ে নিই। প্রশ্ন হল, তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হওয়ায় আমার উপর কোনো দম আবশ্যক হয়েছে কি?

তাওয়াফের দুই রাকাত নফল নামায পড়তে ভুলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪১০) : একদিন নফল তাওয়াফ করার পর তাড়াহুড়োর কারণে তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায পড়া হয়নি। মক্কায় থাকা অবস্থায় আর ঐ নামাযের কথা স্মরণ হয়নি। পরবর্তীতে দেশে আসার পর স্মরণ হয়। এখন কি ঐ নামাযের কাযা আদায় করতে হবে? আর এ কারণে কি কোনো জরিমানা বা কাফফারা দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কাপড়ে রক্ত লাগলে উক্ত কাপড় নিয়ে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬২) : এ বছর হজ্বের সময় ফরজ তাওয়াফের পূর্বে আমার পা অনেকটা কেটে যায়। ফরজ তাওয়াফ করার সময় ক্ষত স্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। তখন তাওয়াফ ছেড়ে দিয়ে ক্ষত স্থান ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করে নতুন করে অযু করে তাওয়াফ করি। তাওয়াফের পর মীনায় চলে যাই। মীনায় যাওয়ার পর দেখি জামার পেছনে প্রায় এক বিঘত পরিমাণ জায়গায় রক্ত লেগে আছে। জামায় রক্ত কোন সময় লেগেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই। তবে আমার প্রবল ধারণা হল, তাওয়াফের সময় যখন রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল তখন লেগেছে অথবা ব্যান্ডেজ করার সময় লেগেছে। কারণ ব্যান্ডেজ করার পর আর রক্ত বের হয়নি। হযরতের কাছে প্রশ্ন হল, কাপড়ে রক্ত লেগে থাকলে ঐ কাপড় পরে তাওয়াফ করা সহিহ কি? এবং ঐ কাপড় পরে তাওয়াফ করলে কোনো জরিমানা দিতে হবে কি? আর উপরে বর্ণিত ঘটনায় আমার ঐ তাওয়াফ সহিহ হয়েছে কি? এবং আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি?

ইহরাম পরিহিত ব্যক্তি নিজে হালাল হওয়ার আগে কি অন্য কারো চুল কাটতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৭৯৫) : আল্লাহর রহমতে আমি এ বছর আমার স্ত্রীসহ হজ্ব করেছি। হজ্বে যাওয়ার কিছুদিন আগে হজ্ব প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, উমরার সমস্ত কাজ শেষ করার পর এবং ১০ যিলহজ্ব কুরবানী করার পর হালাল হওয়ার জন্য প্রথমে কাফেলার একজন কোনো নাপিত বা হালাল ব্যক্তির কাছে মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হবেন। তারপর সেই ব্যক্তি অন্যদের মাথা মুণ্ডন করতে পারবেন। এভাবে যারা হালাল হয়ে গেছেন শুধু তারাই অন্যদের মাথা মুণ্ডন করবেন। আর হালাল হয়েছেন এমন কোনো পুরুষ তার স্ত্রী বা মাহরামের চুল কেটে দেবেন। তারপর সেই মহিলা অন্য মহিলাদের চুল কেটে দিতে পারবেন। মোটকথা প্রশিক্ষণে বলা হয়েছে, কেউ নিজে হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কাটতে পারবে না। এ কথা কি ঠিক? কেউ যদি হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কেটে দেয় তাহলে এর ফলে কি দম বা সদকা ওয়াজিব হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলক করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৮) : আমি আমার মাকে নিয়ে গত বছর হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা করি। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ্বের কাজগুলো করতে থাকি। দশম তারিখে তাওয়াফের সময় প্রচন্ড ভিড়ের আশংকা করে কংকর নিক্ষেপ না করে সরাসরি মক্কায় চলে যাই এবং তাওয়াফ করে নেই। তারপর ঐ দিনের বাকি আমলগুলো যথানিয়মে আদায় করি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ কি কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলকের পরই করতে হবে? কংকর নিক্ষেপ করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি? যদি তাওয়াফ করা না যায় তাহলে আমরা যে তাওয়াফ করেছি তার কারণে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকাত নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৫) : তাওয়াফের শেষে যে দু’রাকাত নামায পড়তে হয়; এর কী হুকুম? কখনো যদি ভুলক্রমে এ নামায ছুটে যায় তাহলে কি এতে দম আবশ্যক হবে, নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে?

হাঁটতে অক্ষম ব্যক্তি কি হুইল চেয়ারে বসে তাওয়াফ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৬) : আমার পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে হাঁটতে সক্ষম নন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা তিনি হজ্ব করবেন। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, ১. হুইল চেয়ারে তাকে তাওয়াফ করালে তাঁর তাওয়াফ কি আদায় হবে? এবং এর কারণে কোনো দম বা সদকা আবশ্যক হবে কি? ২. আমি যখন তাকে হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করাব তখন এর দ্বারা কি আমার তাওয়াফ আদায় হবে, নাকি আমাকে পুনরায় পৃথক তাওয়াফ করতে হবে?

রমল না করলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৩০৭) : হজ্বের একটি প্রশিক্ষণে হুজুর থেকে জেনেছি যে, যেই তাওয়াফের পর সাঈ করা হয় সেই তাওয়াফে রমল করতে হয়। কিন্তু আমি তাওয়াফে যিয়ারতের সময় প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে রমল করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় চক্করের বাকি অংশে এবং তৃতীয় চক্করে রমল করেছি। জানার বিষয় হল, প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে ভুলে রমল না করার কারণে কি আমার উপর দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছে?

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

হজ্ব বা উমরায় অল্প চুল কাটার দ্বারা কি হালাল হওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২১৮০) : পাঁচ বছর আগে আব্বুর সাথে ওমরা করার তৌফিক হয়। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ওমরা। আমরা যখন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য চুল কাটবো। তখন একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। বিষয়টি হল, আমরা দুজনই তো ইহরাম অবস্থায় আছি। আর শুনেছি যে, এক মুহরিম আরেক মুহরিমের চুল কাটলে দম দিতে হয়। এজন্য আব্বু মারওয়াতে এক ব্যক্তিকে, যে আগেই হালাল হয়ে গিয়েছিল অনুরোধ করলে সে কাঁচি দ্বারা আমাদের উভয়ের অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। পরে আমরা হোটেলে এসে পূর্ণ মাথার চুল কাটি। প্রশ্ন হল, আমাদের এভাবে হালাল হওয়া সহিহ হয়েছে কি না? অল্প চুল কাটার দ্বারাও কি হালাল হওয়া যায়?

হজ্বে মাথা মুন্ডানোর আগে নখ-চুল কাটলে কি জরিমানা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১১৭৬৯) : হজ্বের সফরে আমি ১০ জিলহজ্ব কুরবানি করার পর এহরাম ত্যাগ করার আগে মাথা মুন্ডাতে যাই। কিন্তু সেখানে অনেক ভীড় ছিল। তাই আমি মাথা মুন্ডানোর আগেই নখ-মোচ কাটতে শুরু করি। তখন এক সঙ্গী আমাকে বললেন, মাথা মুন্ডানোর আগে নখ-চুল কাটলে জরিমানা ওয়াজিব হয়। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, মাথা মুন্ডানোর আগে কি নখ-চুল কাটলে জরিমানা ওয়াজিব হয়? এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করতে অক্ষম হলে অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে নিক্ষপ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১১৭৩২) : আমি আমার আম্মুকে নিয়ে হজ্বে এসেছি। আমার আম্মুর জন্য জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করা কঠিন মনে হচ্ছে। কারণ সেখানে অনেক ভীড় হয় এবং উনি বেশি হাঁটতে পারেন না। তাছাড়া মানুষের ধাক্কা লাগলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। এমতাবস্থায় তার পক্ষ থেকে আমি কংকর নিক্ষেপ করতে পারব কি?

অসুস্থতার কারণে হজ্বের সাঈ পূর্ণ না করলে সমস্যা হবে কি

প্রশ্ন (১১০৩৭) : আমি অসুস্থতার কারণে হজ্বের সাঈ তিন চক্কর দিয়ে হোটেলে চলে যাই। পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার পরও তা আর পূর্ণ করিনি। জানতে চাচ্ছি, এতে কোনো সমস্যা হবে কি?

১৩ তারিখ রমী না করলে কি দম আসবে

প্রশ্ন (৯৬২৯) : আমি শুনেছি, কেউ যদি ১২ই জ্বিলহজ্ব সূর্যাস্তের পর মিনায় অবস্থান করে তাহলে পরবর্তী দিন ১৩ই জ্বিলহজ্বও রমী করতে হয়। আমার প্রশ্ন হল, কেউ যদি ১২ই জ্বিলহজ্ব সূর্যাস্তের পর মিনায় অবস্থান করে কিন্তু ১৩ তারিখ রমী না করেই ফিরে আসে তাহলে তার উপর দম আসবে কি?

হজ্বে কঙ্কর নিক্ষেপ না করলে করণীয় কী

প্রশ্ন (৬৮৯৩) : গত বছর আমি হজ্ব করেছিলাম। কিন্তু ভিড়ের কারণে কঙ্কর নিক্ষেপ করিনি। আমি তখন এটাকে তেমন কিছু মনে করিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বড় ভুল হয়ে গিয়েছে। তাই জানতে চাচ্ছি, এখন আমার করণীয় কী?