হজ্জ ও উমরাহ

হজ্বে একে অন্যের মাথা মুন্ডিয়ে দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৪৭) : গত বছর আমি হজ্ব করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। তো আমরা যিলহজ্বের ১০ তারিখ কংকর নিক্ষেপ ও কুরবানী করার পর আমি কাফেলার এক হাজ্বী ভাইয়ের মাথা মুণ্ডিয়ে দিই। তারপর তিনি আমার মাথা মুণ্ডিয়ে দেন। জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় মাথা মুণ্ডানোর কারণে আমার উপর কি দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছিল?

কোনো মহিলা তার চাচাতো বোনের স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৩) : আমার মামা সৌদিতে থাকেন। এখন মামি হজ্ব করতে চাচ্ছেন। তবে সাথে যাওয়ার মত কোনো মাহরাম না থাকায় জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত চাচাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে মামা তাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার চাচাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?

অবৈধ উপার্জন দিয়ে হজ্ব আদায় করলে কি কবুল হবে?

প্রশ্ন (১৩৫১২) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার উপর অনেক আগে হজ্ব ফরয হয়েছে। তখন দ্বীনের বুঝ না থাকায় আমার উপার্জনের মাধ্যম অবৈধ ছিল। উক্ত অবৈধ উপার্জন দিয়েই আমি হজ্ব করেছি। এখন আমি জানতে চাই যে, উক্ত হজ্বের মাধ্যমে আমার ফরয হজ্ব কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় হজ্ব করতে হবে?

বাড়ি বানানোর জন্য টাকা সঞ্চয় করলে উক্ত টাকায় কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৫১১) : আমার বসবার উপযুক্ত কোনো বাড়ি নেই। তাই আমি বাড়ি বানানোর জন্য কিছু টাকা সঞ্চয় করেছি। আমি যে পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করেছি তা দিয়ে আমার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে হজ্ব করলে আমি আর বাড়ি বানাতে পারব না। আমি জানি যে, বাড়ি হল, হাজতে আসলিয়া অর্থাৎ মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হবে? ফরয হলে হাজতে আসলিয়ার অর্থ কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

মাথা থেকে কয়েকটা চুল কাটলে কি ওমরার ইহরাম থেকে হালাল হওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৯২) : এক ব্যক্তি ওমরার ইহরাম করে তাওয়াফ সায়ী করেছে। এরপর সে মাথার দুই তিন স্থান থেকে তিন/ চারটা চুল কেটে নেয় এবং পুনরায় মসজিদে আয়েশা থেকে ওমরার ইহরাম করে আরেকটি ওমরা আদায় করে এবং শেষে মাথা মুণ্ডিয়ে নেয়। এ ব্যক্তির পূর্বের ওমরা এবং পরের ওমরার কী হুকুম?

তাকবীরে তাশরীক বলার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৪৮১) : আমরা শুনেছি, যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রতি ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক একবার পড়া ওয়াজিব এবং একের অধিক পড়া সুন্নত। এটা কি সঠিক?

হজ্বে মাথা মুন্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৭২) : ইহরাম ত্যাগ করার সময় হলক তথা মাথা মুণ্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা কি জায়েয? কেউ যদি এমনটি করে তবে কি তার উপর কোনো জরিমানা আসবে?

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৭১) : এ বছর আমি হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। শুনেছি, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় না। জানার বিষয় হল, এমন খাবার যা সুগন্ধিযুক্ত জিনিস দিয়ে রান্না করা হয় তা খাওয়া যাবে কি? যেমন পোলাও, বিরানী এগুলোতে এলাচ-দারচিনি ইত্যাদি সুগন্ধিযুক্ত জিনিস দেওয়া হয়। তাই তা খাওয়া যাবে কি?

নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬১) : আমি ছোট থেকেই আমেরিকায় বড় হয়েছি। বিয়ের পরেও স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে আমি দ্বীনের পথে ফিরে আসি। কিন্তু আমার স্বামী তা মেনে নেয় না। তাই এক পর্যায়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বর্তমানে আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে শুধু আমার মা ও ছোট বোনেরা থাকে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্পদ দান করেছেন। এখন আমি হজ্ব করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই। আমি কি একাকী হজ্ব করতে পারব?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৪৪) : আমাদের কাফেলার কয়েকজন মুযদালিফা থেকে মিনায় না গিয়ে সরাসরি মক্কায় চলে গেছে। মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করেছে। অথচ তারা কংকর মারেনি, হালালও হয়নি। জানার বিষয় হলো, এ কারণে তাদের কি দম দিতে হবে? তাদের এ তাওয়াফে যিয়ারত কি আদায় হয়েছে?

তাওয়াফের দুই রাকাত নফল নামায পড়তে ভুলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪১০) : একদিন নফল তাওয়াফ করার পর তাড়াহুড়োর কারণে তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায পড়া হয়নি। মক্কায় থাকা অবস্থায় আর ঐ নামাযের কথা স্মরণ হয়নি। পরবর্তীতে দেশে আসার পর স্মরণ হয়। এখন কি ঐ নামাযের কাযা আদায় করতে হবে? আর এ কারণে কি কোনো জরিমানা বা কাফফারা দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৯) : এ বছর আমি ও আমার স্ত্রী হজ্ব করেছি। হজ্বের সময় ১০ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে ক্লান্ত থাকায় ঐ দিন তাওয়াফে যিয়ারত করিনি। ইচ্ছা ছিল পরের দিন আমরা তাওয়াফ করব। কিন্তু সেদিন রাতেই আমার স্ত্রীর স্রাব শুরু হয়ে যায়। প্রতিমাসের ন্যায় আট দিন তার স্রাব চলে। তার স্রাবের সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা মদীনায় চলে যাই। মদীনায় অবস্থান করার পর ফ্লাইট বিড়ম্বনার কারণে মক্কায় এসে মাত্র চারদিন অবস্থান করি। এ সময় আমার স্ত্রী পবিত্র ছিল। তাই সে তাওয়াফে যিয়ারত করে নেয়। এরপর আর কোনো তাওয়াফ করিনি। দেশে আসার পর একজন আলেম বললেন, আপনার স্ত্রীর দম দিতে হবে। প্রশ্ন হল, আমার স্ত্রীর হজ্ব কি হয়েছে? এবং তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে কি? যদি দম ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে এখন আমাদের কী করণীয়?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৬) : আমি আমার বাবার মিরাস থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ পেয়েছি। এই সম্পদ দিয়ে আমার হজ্বে যাবতীয় খরচ বহন করা সম্ভব। আর এ সম্পদ আমার প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে অতিরিক্ত। কিন্তু আমার মাহরাম পুরুষদের কারো হজ্ব করার সামর্থ্য নাই। এমতাবস্থায় আমার জন্য হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

বদলী হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৩৯৩) : অনেক আগে থেকেই আমার হজ্ব করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু টাকা জমা করতে না পারায় হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না। এ বছর হজ্বের অর্ধেক টাকা তথা ২ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আমার এক বন্ধু এটা জানতে পেরে আমাকে বলল, তুমি আমার বৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করবে। হজ্বের বাকী অর্ধেক টাকা তথা দুই লক্ষ টাকা আমার বাবা তোমাকে দিবে। তিনি নিজে হজ্ব করতে অক্ষম। বর্তমানে একেবারে শয্যাশায়ী।’ তাই জানতে চাচ্ছি, এভাবে নিজের অর্ধেক এবং অন্যের অর্ধেক টাকা দিয়ে তার বদলী হজ্ব করা যাবে কি?

ইহরাম অবস্থায় আতর মাখলে কি জরিমানা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৮৫) : রমযান মাসে আমি ওমরা করেছি। আমি যখন ওমরার তাওয়াফ করছিলাম তখন মাতাফের এক পাশে এক ব্যক্তি আতরের শিশি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সে আমার শরীরে আতর মেখে দেয়। তাওয়াফ শেষ করে শরীর ও কাপড়ের যে অংশে আতর লেগেছিল সে অংশ ভালোবাভে ধুয়ে ফেলি। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে অন্য কেউ শরীরে আতর লাগিয়ে দেয়ার কারণে আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি?

ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কাউকে দিয়ে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করালে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৬৭) : আমার দাদীর এ পরিমাণ সম্পদ ও জমি ছিল যার একাংশ বিক্রি করে তিনি হজ্ব করতে পারতেন। কিন্তু তিনি হজ্ব করেননি। চাচাকে এ ব্যাপারে বুঝালে তিনি দাদীর পক্ষ থেকে হজ্ব করতে রাজি হলেন। পরে চাচা বললেন, আম্মা আমাকে তো এ ব্যাপারে কিছু বলে যায়নি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, অন্য কাউকে দিয়ে দাদীর পক্ষ থেকে বদল হজ্ব করালে কি তা আদায় হবে?

৯ যিলহজ্ব রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৩৬৬) : এ বছর হজ্বের সময় ৯ যিলহজ্ব মাগরিবের পর আমরা আরাফা থেকে হেঁটে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। এক জায়গায় এসে আমীর সাহেব বললেন, রাতে আমরা এখানেই অবস্থান করব। হজ্বের পরে জানতে পারলাম যে, রাতে আমরা যে জায়গায় অবস্থান করেছি তা মুযদালিফার বাইরে ছিল। আমীর সাহেবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা জরুরি নয়। সকালে ফজরের পর কিছু সময়ের জন্য মুযদালিফায় অবস্থান করাই যথেষ্ট। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমীর সাহেবের এ কথা কি ঠিক? এছাড়া সকালেও আমরা মুযদালিফায় অবস্থান করিনি। বরং মুযদালিফার উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে তা অতিক্রম করে গিয়েছি। এভাবে কি আমাদের মুযদালিফায় অবস্থানের ওয়াজিব আদায় হয়েছে? আর এ কারণে আমাদের উপর কোনো জরিমানা আসবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় উকুন মারলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৫২) : আমি যখন চুল আঁচড়াই তখন আমি খুব উকুন মারি। ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ- এ মাসআলা আমি জানতাম না। হজ্বের পর এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা করতে গিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম, ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ। কিন্তু আমি হজ্বের পাঁচ দিনেও তো অনেক উকুন মেরেছি। সে বলেছিল, আমার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু আমি তো হজ্ব শেষ করে দেশে ফিরে এসেছি। এখন এ দম কীভাবে আদায় করব। দম কি মক্কা শরীফ থাকতেই দিতে হয় নাকি পরে দেশে এসে আদায় করা যায়?

ভাড়া বাড়ি থেকে প্রাপ্ত টাকার উপর কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৩৫) : আমার একটি তিন তলা বাড়ি আছে। বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় আমি আমার পরিবারসহ থাকি। বাকি দুই তলা ভাড়া দেয়া আছে। সেগুলোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৩২,০০০/- টাকা পাই। এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। মাস শেষে কখনো কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে। কখনো থাকে না। এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হয়েছে?

মুহরিম ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে বেখেয়ালে কম্বল মুড়ি দিয়ে ফেললে কি তার উপর কোনো জরিমানা আসবে?

প্রশ্ন (১৩৩২৫) : সাধারণত আমি কাঁথা/কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাই। হজ্বের সময় ১০ তারিখ (দিবাগত) রাতে আমি হোটেলে ঘুমাচ্ছিলাম। প্রথম দিকে শুধু গায়ের উপর কম্বল ছিল। চেহারা ও মাথা খোলা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার অজান্তেই কম্বল মুড়ি দিই। রাত তিনটার সময় ঘুম থেকে উঠে আমি নিজেকে এভাবেই পেলাম। জানতে চাচ্ছি, আমার অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের কারণে কি দম দিতে হবে? নাকি এক্ষেত্রে অন্য কোনো বিধান রয়েছে?