অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অন্যান্য

প্রভিডেন্ট ফান্ডের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৩৫০) : আমি সরকারী চাকরি করি। প্রতি মাসেই সরকার আমার বেতনের নির্দিষ্ট একটা অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামুলক কেটে রাখে। এই টাকার উপর চাকুরি শেষে সুদ দেওয়া হবে। আমার জানার বিষয় হলো, মূল বেতনের অতিরিক্তটা নেওয়া কি আমার জন্য বৈধ হবে? আর এই টাকার উপর কি প্রতি বছর আমাকে যাকাত দিতে হবে?

মীরাস সূত্রে পাওয়া গাড়ির ভাড়া বণ্টনের পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩২৩) : আমরা দুই ভাই। বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা মীরাস সূত্রে একটি মালবাহী কার্গো পাই। কার্গোটি আমরা ভাড়ায় খাটাই। কার্গোটির যাবতীয় কাজ-কারবার, দেখাশোনা, গ্রাহকদের সাথে কথাবার্তা সবকিছু আমি করি। আমাদের চুক্তি হল, যা আয় হবে তার ৪০% ভাইয়ের, বাকিটা আমার, আমাদের এই বণ্টন কি সহিহ?

জিপি ফান্ড থেকে প্রদত্ব সুদ নেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৩২২) : একজন সরকারী কর্মচারী চাইলে মূল বেতনের কমপক্ষে ৫% বাধ্যতামূলক এবং সর্বোচ্চ ২৫% টাকা ঐচ্ছিক কর্তন করাতে পারেন। জানার বিষয় হলো, জিপি ফান্ডের সরকার প্রদত্ব অংশ বা সুদ নেওয়া জায়েয আছে কি? জিপি ফাণ্ডের সরকার প্রদত্ত অংশ বা সুদ না নিয়ে এই টাকা দিয়ে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া ঠিক হবে কি? অথবা এই টাকা দিয়ে নিতান্ত অপারগতার কারণে অন্য কোনো সরকারী কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে পারব কি?

বাসে ভাড়া দেওয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩২৬৮) : মাঝেমধ্যেই এমন হয় যে, ঢাকার ভেতর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য সিটিং বাসে উঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের থেকে ভাড়া নিয়ে নেয়। কিন্তু আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার আগেই গাড়িটিকে আইনি কোনো কারণে পুলিশ আটকে ফেলে বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে গাড়িটি আর সামনে যাবে না। সে সময় আমরা অবশিষ্ট ভাড়া ফেরত চাইলে হেলপার তা আর দিতে চায় না। জানতে চাই, আমাদের জন্য উপরোক্ত অবস্থায় অবশিষ্ট ভাড়া ফেরত চাওয়া বৈধ কি? যদি বৈধ হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ কি তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য? জানালে উপকৃত হব। মাঝেমধ্যেই এমন হয় যে, ঢাকার ভেতর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য সিটিং বাসে উঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের থেকে ভাড়া নিয়ে নেয়। কিন্তু আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার আগেই গাড়িটিকে আইনি কোনো কারণে পুলিশ আটকে ফেলে বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে গাড়িটি আর সামনে যাবে না। সে সময় আমরা অবশিষ্ট ভাড়া ফেরত চাইলে হেলপার তা আর দিতে চায় না। জানতে চাই, আমাদের জন্য উপরোক্ত অবস্থায় অবশিষ্ট ভাড়া ফেরত চাওয়া বৈধ কি? যদি বৈধ হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ কি তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য? জানালে উপকৃত হব।

গাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর পূর্ণ সময় ব্যবহার না করলে কি ভাড়া কমানো উচিত?

প্রশ্ন (১৩২৫৩) : আমার একটি প্রাইভেট কার আছে। আমি এটি ভাড়ায় দিয়ে থাকি। অনেক সময় এমন হয় যে, কেউ সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া নিয়েছে। কিন্তু সারা দিনে মাত্র ১/২ ঘণ্টা গাড়ি ব্যবহার করেছে। অবশিষ্ট সময় কোনো কারণে গাড়িটির আর প্রয়োজন হয়নি। এমন ক্ষেত্রে দিন শেষে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার সময় অনেকে অনুরোধ করে কিছু টাকা কম রাখতে। জানতে চাই, এ ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩২১৪) : গত বছর মাদরাসার মাহফিলের পোস্টার ছাপানোর জন্য একটি ছাপার দোকানে যোগাযোগ করি। দরদামের পর চার কালারের ৫০০ পোস্টার বাবদ ২৫০০ টাকা নির্ধারিত হয় এবং সে মতে কাজ সম্পন্ন হয়। কিছুদিন আগে ভিন্ন একটি কাজে তার দোকানে গেলে সে আমাকে বলে যে, ঐ সময় তার ভুল হয়েছিল। এজন্য তার ৮০০ টাকা লস হয়েছে। তাই সে আমাকে ঐ ৮০০ টাকা দিতে অনুরোধ জানায়। এদিকে আমাদের মাহফিলের কার্যক্রম শেষ এবং এর টাকাও অবশিষ্ট নেই। বরং কিছু টাকা এখনো ঋণ আছে। এমতাবস্থায় আমার জন্য তার টাকা পরিশোধ করা কি আবশ্যক?

প্রতিনিধির মাধ্যমৈ কোনো পণ্য বিক্রি করার সঠিক পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২০৭) : আমরা একটি ইসলামী ব্যাংকের সাথে এভাবে চুক্তি করি যে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে আড়াই লক্ষ টাকার মেশিন কিনে দিবে। আর আমরা ব্যাংককে দুইলক্ষ আশি হাজার টাকা দিব। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরাসরি আমাদেরকে মেশিন দামদর করে কিনে দেয়নি। বরং আমরাই মেশিন বিক্রেতার সাথে দামদর করেছি। আর ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা আমাদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা যখন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে মেশিন বিক্রেতার কাছে যাই তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে একজন লোক আমাদের সাথে গিয়েছিল। মেশিন বিক্রেতার কাছে যাওয়ার পর ব্যাংক থেকে যে লোকটি আমাদের সাথে গিয়েছিল আমরা তার হাতে টাকা দেই আর তিনি মেশিন বিক্রেতাকে টাকা দেন। কিন্তু তিনি মেশিন বুঝে নিয়ে তা আমাদের হস্তান্তর করেননি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, এভাবে লেনদেন করা বৈধ হয়েছে কি? বৈধ না হয়ে থাকলে এখন আমাদের কারণীয় কী?

অনাবাদী জমিতে ঘাস জন্মালে জমিতে রেখে তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৫) : আমার চাচার একটি জমি আছে। সেখানে তিনি আগে সবজি চাষ করতেন। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে তিনি তাতে সবজি চাষ করেননি। ফলে তাতে ঘাস জন্মেছে। এখন তিনি সেই জমি অন্য কাজে লাগাবেন। তাই তিনি তাতে জন্মানো ঘাস বস্তা বস্তা আকারে বিক্রি করতে চাচ্ছেন। এজন্য দুই-তিনজন কৃষককে বলেছেন, তারা যদি ঘাস কিনতে চায়, তাহলে বস্তা প্রতি ৫০ টাকা করে দিয়ে তারা যেন সেই জমি থেকে ঘাস কেটে নিয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, এভাবে ঘাস বিক্রি করা কি বৈধ হবে?

ধান হওয়ার পর গাছসহ তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৮) : আমি ধানের ব্যবসা করি। আমার কয়েকটি ধানের জমি আছে। আমি সেগুলোতে ধান চাষ করি। আর ধান কাটার কয়েকদিন আগে যখন খেতে ধান পরিপূর্ণ হয়ে যায় তখন কিছু খেতের ধান গাছসহ ক্রয় করে নিই। কথা থাকে সপ্তাহ খানেক পর ধান কাটার সময় হলে ধান কেটে নেব। নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে দেই। আর সময়মত ধান কেটে নেই। এভাবে ব্যবসা করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি?

সেলুন দিয়ে ব্যবসা করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩১৮১) : আমার একটি সেলুনের দোকান আছে। সেটি খুব সাধারণ মানের। কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজন প্রস্তাব দিল, তোমার দোকানটি তো খুব সাধারণ। এতে উন্নত ও সুন্দর কোনো ব্যবস্থা নেই। আর আমার কাছে প্রায় লাখ খানেক টাকা আছে। সেটা দিয়ে দোকানটাকে সুন্দর করে ডেকোরেশন করে নাও। আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্রয় করে নাও। তাহলে কাস্টমারও বেশি হবে এবং চার্জও বেশি নিতে পারবে। আর আমিও তোমার সাথে থেকে কাজ শিখতেও থাকলাম, করতেও থাকলাম। এরপর মোট ইনকামের ৪০ ভাগ নেবে তুমি আর ৬০ ভাগ আমি। তার প্রস্তাব আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। আর এতে বর্তমানের চেয়ে ইনকাম বেশি হবে বলেই মনে হচ্ছে। আর আমি সব বিষয়ে হালাল-হারামের প্রতি লক্ষ রেখে চলার চেষ্টা করি। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করা আমাদের জন্য জায়েয হবে কি?

ব্যবসায়িক পণ্য ক্রয় করার পর কোনো একটিতে সমস্যা পেলে সম্পূর্ণ কার্টুন ফেরত দেওয়া কি ঠিক আছে?

প্রশ্ন (১৩১৮০) : আমি কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা করি। আমি ফ্যক্টরী থেকে ২৫-৩০ হাজার পিস গেঞ্জি একসাথে ক্রয় করি। যখন আমার গোডাউনে ২৫-৩০ কার্টুন গেঞ্জি আসে তখন সব গেঞ্জি চেক করা সম্ভব হয় না। আমরা ৮-১০ টা কার্টুন থেকে কয়েকটা গেঞ্জি চেক করি। তখন কোনো কার্টুনে যদি কোনো একটি গেঞ্জিতে খুঁত পাওয়া যায় তাহলে আমরা ঐ কার্টুনের সব গেঞ্জি ফেরত পাঠিয়ে দেই। এভাবে কখনো কখনো ২৫-৩০ কার্টুন থেকে ২-৩ টি কার্টুন ফেরত দিয়ে বাকিগুলো গোডাউনে তুলি। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমাদের ব্যবসার উক্ত পদ্ধতি কি জায়েয আছে? নাকি আমরা সমস্ত পণ্য রাখতে বা ফেরত দিতে বাধ্য?

গাড়ি ভাড়া দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩১৭৭) : আমি গ্রামে ভাড়ায় অটো চালাই। দৈনিক ভাড়া বাবদ মালিককে ৩০০ টাকা করে দিতে হয়। গরমের মৌসুমে আমাদের এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুত চলে যায়। যার কারণে অটোতে ভালভাবে চার্জ হয় না। তাই গ্রামের অটোচালকরা সকলে মিলে জেনারেটরের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। জেনারেটরের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়। এতে মালিকের ভাড়ার টাকা ও চার্জ-বিল পরিশোধের পর কামাই বলতে তেমন কিছু থাকে না। তাই আমি আমার মালিকের সাথে এভাবে চুক্তি করেছি যে, জেনারেটরের চার্জ-বিল বাদ দিয়ে সারাদিনের কামাইয়ের যা অবশিষ্ট থাকবে তা আমরা সমান দুই ভাগে বণ্টন করে নিব। আমার প্রতি মালিকের আস্থা থাকায় তিনি এতে সম্মত হয়েছেন। হুযুরের নিকট জানতে চাচ্ছি উক্ত পদ্ধতিটি কি বৈধ হবে?

কাউকে ব্যবসার জন্য ঋণ দিয়ে তার ব্যবসা থেকে লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৭) : এক কোম্পানী তাদের মাল বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোম্পানী জামানত সরূপ ডিলারদের নিকট হতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) করে টাকা চেয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে পণ্য বিক্রির পর প্রত্যেক পণ্য হতে ডিলারের ৭ টাকা করে লাভ থাকবে। একজন ডিলার তার নিকট জামানতের টাকা না থাকায় আমার নিকট ৫০,০০০/- টাকা ঋণ চেয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, টাকা দিতে পারি এই শর্তে যে, প্রত্যেক বিক্রিকৃত পণ্য হতে আমাকে ১ টাকা করে লাভ দিবেন। আমি জানতে চাই উক্ত পদ্ধতিতে আমার টাকা নেওয়া শরীয়তসম্মত হবে কি?

কিস্তির মেয়াদ অনুযায়ী পণ্যের দাম কম-বেশি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫৬) : আমাদের ওয়ালটনের শো-রুম আছে। আমরা বিভিন্ন মেয়াদে কিস্তিতে পণ্য বিক্রি করি। কিস্তির মেয়াদের হিসাবে পণ্যের দাম বিভিন্ন রকম হয়। যেমন: কেউ ৩ মাসের কিস্তিতে ফ্রিজ কিনলে মূল্য ৩০০০০ টাকা। আবার ঐ পণ্যটিই ১২ মাসের কিস্তিতে কিনলে এর দাম ৩২,৫০০ টাকা। আরেকটি নিয়ম হল, কেউ পণ্য কেনার সময় ৬ মাসের কিস্তির চুক্তি করার পর মাঝে যদি কোনো কিস্তি ফেল করে, তাহলে আমরা তাকে ডেকে বাধ্য করি, যাতে সে এরচে’ বেশি সময়ের কিস্তি গ্রহণ করে। তখন সে বাধ্য হয়েই ১২ মাসের কিস্তি গ্রহণ করে, ফলে সে ৩০,০০০ টাকার স্থলে ৩২৫০০ টাকা পরিশোধ করে। অতীতে ২-৩ জনের সাথে এমনটি হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন আগে এক হুযুর বললেন, উক্ত পদ্ধতি নাজায়েয। এখন মাননীয় মুফতী সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হল: ১. এভাবে কিস্তির মেয়াদের কম-বেশির ভিত্তিতে একটি পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা বৈধ কি না? ২. উল্লেখিত কিস্তি ফেইলের ক্ষেত্রে আমাদের বাস্তবায়িত পদ্ধতিটি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না? ৩. যদি বৈধ না হয়, তাহলে উক্ত পদ্ধতিতে আমরা যেই দুই-তিনজন থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছি, তার কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

গরু বর্গা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩১৪৭) : আমাদের এলাকায় গরু বর্গা দেওয়ার একটি পদ্ধতি আছে। সেটা হলো, উদাহরণস্বরূপ-আমি একজনের কাছে একটি গরু বর্গা দিলাম। এই শর্তে যে, গরুটি যে দামে ক্রয় করলাম তা আমার থাকবে। আর পালনকারী পালার পর যে দামে বিক্রয় করা হবে তা থেকে আমার ক্রয়ের টাকা রেখে যা থাকবে তা থেকে এক ভাগ আমার আর এক ভাগ পালনকারীর। এইভাবে বর্গা দেওয়া জায়েয কি না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

বাকিতে পণ্য বিক্রি করার পর তা বিক্রিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৩৭) : আমি একটি ল্যাপটপ দুই বছর ব্যবহার করার পর আমার বন্ধুর নিকট ৪০,০০০/- টাকায় বিক্রি করেছিলাম। সে ২০,০০০/- টাকা নগদ দিয়েছে। আর বাকি ২০,০০০/- টাকা পরিশোধের জন্য দুই মাস সময় নিয়েছে। কিন্তু দুই মাসে মাত্র ১৪,০০০/- টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য আরো এক মাস সময় চেয়ে নিয়েছে। ঘটনাক্রমে সেই মাসেই পারিবারিক কলহের মামলায় আসামী হয়ে আত্মগোপন করে। এর কিছুদিন পর আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বলে, আমি বাকি ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারব না। তুমি চাইলে ল্যাপটপটি ৩০,০০০/- টাকায় কিনে নিতে পারো এবং তোমাকে পরিশোধ করা ৩৪,০০০/- টাকার মধ্যে ৪০০০/- টাকা রেখে বাকি ৩০,০০০/- টাকা আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছে দিও। ল্যাপটপটি আমার বাড়িতেই রাখা আছে। জানার বিষয় হল, আমি কি আমার ল্যাপটপটি তার নিকট হতে পুনরায় ক্রয় করতে পারব?

অগ্রীম মূল্য দিয়ে কিছু ক্রয় করার পর ক্রয়কৃত পণ্যের পরিবর্তে অন্য কিছু গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৩৬) : আমাদের এলাকায় ধানের মৌসুমের শুরুতে চাষিরা নগদ টাকার প্রয়োজনে অগ্রিম ধান বিক্রি করে নগদ টাকা নেয়। আর ধান কাটার পর তা পরিশোধ করে। এলাকায় আমাদের একটি সমিতি রয়েছে। সে সমিতির টাকা থেকে আমরাও একজন হতে ৫০০ টাকা দরে ২০ মন ধান কিনেছিলাম। ধান কাটার পর তিনি আমাদেরকে ১০ মন ধান দিয়ে বললেন, এবার ধান কম হয়েছে তাই পুরোটা পরিশোধ করতে পারবো না। আমরা চাপ প্রয়োগ করলে সে বাকি ধানের পরিবর্তে একটি বকরীর বাচ্চা দিতে চাচ্ছে। যার আনুমনিক মূল্য ৬-৭ হাজার টাকা। আমাদের সমিতির সবাই বিষয়টিতে সম্মত রয়েছে। জানার বিষয় হল, এভাবে ধানের পরিবর্তে বকরীর বাচ্চা নেওয়া জায়েয হবে কি?

যৌথ ব্যবসায় শতকরা হারে লাভ বণ্টন কর যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১২০) : আমি আট লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে একটি দোকান শুরু করতে চাচ্ছি। আমার এক বন্ধু এবং আমি এটি দেখাশোনা ও পরিচালনা করব। আমি একটি চাকরি করি। তাই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে থাকব। ছুটির দিনেও থাকব। আর সে পুরো সময় থাকবে এবং যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেবে। চুক্তি হবে, খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ থাকবে তা থেকে ৩০% নেবে সে, আর ৭০% নেব আমি। শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের উক্ত চুক্তিতে কোনো সমস্যা আছে কি? দয়া করে জানাবেন।

গাড়ির ভাড়ার বিপরীতে অন্য গাড়ি ভাড়া দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১১৯) : আমার মামার দুইটি পিকআপ আছে। আর আমার একটি বড় ট্রাক আছে। বর্তমানে আমার ব্যবসায়িক কাজের জন্য ছোট পিকআপের প্রয়োজন বেশি। বিভিন্ন জায়গায় মাল পাঠাতে ছোট পিকআপ বেশি সুবিধাজনক। আর আমার মামা বড় ট্রাক দিয়েও ভালো ইনকাম করতে পারবে। তাই আমি মাসিক হিসাবে আমার ট্রাক তাকে ভাড়া দিয়ে বিনিময়ে তার পিকআপ দুটি ভাড়ায় নিতে চাচ্ছি। অর্থাৎ যার যার মালিকানা বহাল থাকবে। তবে আমার ট্রাক চালিয়ে যা ইনকাম হবে তা সে নেবে। বিনিময়ে তার পিকআপ দুটি আমি ব্যবহার করব। শরীয়তের দৃষ্টিতে এভাবে চুক্তি করার বিধান কী?

যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ সদকা করার শর্তে বিনিয়োগ গ্রহণ করা জায়ে…

প্রশ্ন (১৩১১০) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সবসময় ব্যবসার লাভের ২% মসজিদ-মাদরাসায় এবং ৩% গরিব-মিসকীনদের দান করে থাকি। বিভিন্ন সময় আমি অন্যদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে লাভ প্রদানের চুক্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে থাকি। তাদেরকেও বিষয়টি জানিয়ে দেই যে, মোট লাভ থেকে উক্ত অংশ বাদ দিয়েই লাভ বণ্টন হবে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?