ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

অর্ডারকারী তার অর্ডারকৃত বস্তু না নিলে কি দোকানদার তা অন্যত্র বিক্রি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩২১৫) : ঢাকার একটি বড় মাদরাসার পাশে আমার একটি কাঠমিস্ত্রির দোকান আছে। অনেক সময় ছাত্ররা টেবিল বানানোর অর্ডার দিয়ে যায়। কিন্তু যে তারিখে নিয়ে যাওয়ার কথা ঐ তারিখে আর টেবিল নিতে আসে না। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমি কি ঐ টেবিল অন্যত্র বিক্রি করতে পারব? যদি অন্যত্র বিক্রি করা জায়েয হয় তাহলে অর্ডার নেয়ার সময় যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এর বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারবো কি? দয়া করে জানিয়ে উপকার করবেন।

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩২১৪) : গত বছর মাদরাসার মাহফিলের পোস্টার ছাপানোর জন্য একটি ছাপার দোকানে যোগাযোগ করি। দরদামের পর চার কালারের ৫০০ পোস্টার বাবদ ২৫০০ টাকা নির্ধারিত হয় এবং সে মতে কাজ সম্পন্ন হয়। কিছুদিন আগে ভিন্ন একটি কাজে তার দোকানে গেলে সে আমাকে বলে যে, ঐ সময় তার ভুল হয়েছিল। এজন্য তার ৮০০ টাকা লস হয়েছে। তাই সে আমাকে ঐ ৮০০ টাকা দিতে অনুরোধ জানায়। এদিকে আমাদের মাহফিলের কার্যক্রম শেষ এবং এর টাকাও অবশিষ্ট নেই। বরং কিছু টাকা এখনো ঋণ আছে। এমতাবস্থায় আমার জন্য তার টাকা পরিশোধ করা কি আবশ্যক?

কসম করে চার মাসের অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকার পর উক্ত কসম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২১৩) : একদিন আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আমি রাগের মাথায় তার সাথে এই বলে কসম করে ফেলি যে, আমি কোনোদিন তোমার সাথে মেলামেশা করব না। অতপর এক সপ্তাহ বাড়িতেই আলাদা ঘরে ছিলাম। কিন্তু সেই বিষয়টি নিয়ে আবার ঝগড়া হলে আমি ঢাকায় বোনের বাসায় চলে আসি এবং পাঁচ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখি। এর মধ্যে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হলে আমি বাড়ি ফিরে যাই। এখন হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি এই কসম থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাব? এবং কসমের কাফফারা কীভাবে আদায় করব?

টেইলার্সে কাজের চাপ বেশি হওয়ায় অন্য টেইলার্সে দিয়ে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২১২) : আমার একটি টেইলার্স আছে। এবং দর্জি হিসেবে মানুষের মাঝে আমার বেশ সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে। তাই মানুষ জামা-কাপড় বানানোর জন্য আমার টেইলার্সে ভীড় করে। ইদানিং আমার আশপাশে নতুন কিছু টেইলার্স হয়েছে। সেগুলোতে জামার মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও মানুষ শখ করে আমার টেইলার্সে অর্ডার দেয়। ঈদের সময় আমার টেইলার্সে অনেক চাপ পড়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে অর্ডার থাকে। কিন্তু আমি কাজ করে শেষ করতে পারি না। তাই কিছু কিছু অর্ডার কাস্টমারদের অগোচরে অন্য দর্জিদেরকে কিছু কম মজুরিতে দিয়ে দেই। যেমন, আমি কাস্টমার থেকে ৫০০ টাকা নিলে তাদেরকে দেই ৪০০ টাকা। এক্ষেত্রে কোনো কোনো অর্ডারের কাপড় আমি নিজে কেটে তাদেরকে শুধু সেলাই করতে দেই। আবার কোনো কোনো অর্ডার পুরোটাই তাদের হাতে সোপর্দ করি। তারা অপরিপক্ক হওয়ায় বাহ্যতই সে জামাগুলো একটু নিম্নমানের হয়। যা কাস্টমার সাধারণত ধরতে পারে না। জানার বিষয় হল, আমার জন্য এমনটি করা কি জায়েয? অন্যথায় এ পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

চার্চ নির্মাণের জন্য খ্রিস্টান মিশনারীর কাছে জমি বিক্রি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২১১) : আমাদের গ্রামে খ্রিস্টান মিশনারীদের একটি গ্রুপ উচ্চমূল্যে জমি ক্রয় করছে। এখানে তারা মিশনারী স্কুল, চার্চ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত করবে। তারা উচ্চমূল্য দেওয়ার কারণে আমার জমির আশেপাশের জমিগুলো ইতোমধ্যেই কিনে ফেলেছে। আমি প্রথমে তাদের কাছে জমি বিক্রি করব না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। কিন্তু এখন তারা তাদের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে এবং আমার জমিতে যাওয়ার জন্য সরু একটি রাস্তা রেখেছে। এদিকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভবন তৈরির পরিকল্পনা করবে। এতে আমার জমিতে যাওয়া-আসার রাস্তা বন্ধ হলে এবং ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা দায়ী থাকবে না। এমতাবস্থায় আমি যদি তাদের কাছে জমি বিক্রি না করি তাহলে ভবিষ্যতে জমিটি কারো কাছে বিক্রিও করতে পারব না। আবার কোন ফায়েদাও উঠাতে পারব না। সুতরাং জানতে চাচ্ছি, সেখানে চার্চ তৈরি এবং খ্রিস্টধর্ম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কি আমি তাদের নিকট জমি বিক্রি করতে পারব? এবং এর অর্থ কি আমার জন্য হালাল হবে?

জমি বন্ধক নিয়ে তা ভোগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৯) : আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক দেওয়ার নিয়ম হলো, যতদিন ঋণ আদায় না করবে ততদিন ঋণদাতা জমি ভোগ করবে, ঋণ আদায় করলে কোনো কর্তন ব্যতীতই জমি ফেরত দিবে। এখন কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে প্রচলিত নিয়মে জমি বন্ধক দিয়ে ঋণ নেয় এবং এই টাকা তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তাহলে তার সম্পূর্ণ আয় কি হারাম বলে গণ্য হবে? দয়া করে জানাবেন।

নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২০৮) : ইদানিং অনেক মহিলাকে দেখি হিজাব পরে, কিন্তু চেহারা ঢাকে না। তারা বলে যে, পর্দার জন্য চেহারা ঢাকতে হয় না। আমি জানতে চাচ্ছি, কথাগুলো আসলেই ঠিক কি?

প্রতিনিধির মাধ্যমৈ কোনো পণ্য বিক্রি করার সঠিক পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২০৭) : আমরা একটি ইসলামী ব্যাংকের সাথে এভাবে চুক্তি করি যে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে আড়াই লক্ষ টাকার মেশিন কিনে দিবে। আর আমরা ব্যাংককে দুইলক্ষ আশি হাজার টাকা দিব। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরাসরি আমাদেরকে মেশিন দামদর করে কিনে দেয়নি। বরং আমরাই মেশিন বিক্রেতার সাথে দামদর করেছি। আর ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা আমাদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা যখন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে মেশিন বিক্রেতার কাছে যাই তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে একজন লোক আমাদের সাথে গিয়েছিল। মেশিন বিক্রেতার কাছে যাওয়ার পর ব্যাংক থেকে যে লোকটি আমাদের সাথে গিয়েছিল আমরা তার হাতে টাকা দেই আর তিনি মেশিন বিক্রেতাকে টাকা দেন। কিন্তু তিনি মেশিন বুঝে নিয়ে তা আমাদের হস্তান্তর করেননি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, এভাবে লেনদেন করা বৈধ হয়েছে কি? বৈধ না হয়ে থাকলে এখন আমাদের কারণীয় কী?

অনাবাদী জমিতে ঘাস জন্মালে জমিতে রেখে তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৫) : আমার চাচার একটি জমি আছে। সেখানে তিনি আগে সবজি চাষ করতেন। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে তিনি তাতে সবজি চাষ করেননি। ফলে তাতে ঘাস জন্মেছে। এখন তিনি সেই জমি অন্য কাজে লাগাবেন। তাই তিনি তাতে জন্মানো ঘাস বস্তা বস্তা আকারে বিক্রি করতে চাচ্ছেন। এজন্য দুই-তিনজন কৃষককে বলেছেন, তারা যদি ঘাস কিনতে চায়, তাহলে বস্তা প্রতি ৫০ টাকা করে দিয়ে তারা যেন সেই জমি থেকে ঘাস কেটে নিয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, এভাবে ঘাস বিক্রি করা কি বৈধ হবে?

অযুর পানিতে কাপড় ভিজলে কি উক্ত কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২০৪) : অযুতে চেহারা ও হাত ধোয়ার সময় কিছু পানি কাপড়ে পড়ে ভিজে যায়। আবার কখনো কখনো অযুর পরপরই নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। টাওয়াল ব্যবহার না করার কারণে তখন হাতের অবশিষ্ট পানিতে জামা ভিজে যায়। দাড়ি থেকেও পানি পড়তে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, অযুর পানিতে কাপড় ভেজা অবস্থায় নামায পড়লে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি?

যোহরের ফরযের পূর্ববর্তী চার রাকাত সুন্নত নামায ভেঙে ভেঙে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৩) : যোহরের ফরযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত দুই রাকাত আদায় করে যদি নামাযে শরীক হয়ে যাই তাহলে নামাযের পর বাকি দুই রাকাত আদায় করে নিলেই হবে, নাকি পুনরায় চার রাকাত আদায় করতে হবে?

ডায়মন্ডের অলংকারের যাকাতের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২০০) : আমার কাছে ডায়মন্ডের কিছু অলংকার আছে। যেগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ব্যবহার করি। সাধারণত আলমারিতেই পড়ে থাকে। এ অলংকারগুলোর যাকাত দিতে হবে কি? যদি এগুলোর যাকাত দিতে হয় তাহলে কোন মূল্য হিসেবে যাকাত দিব? ক্রয়মূল্য, না বিক্রয়মূল্য?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩১৯৯) : আমি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট বিভাগে কর্মরত। এ বছর সকল কর্মকর্তার জুন মাসের সেলারি রমযানের পূর্বেই (মে মাসের শেষে) একসাথে ব্যাংক থেকে উঠিয়ে আমার কাছে রাখা হয়। এর মধ্যে আমার সেলারিও ছিল। এমডি স্যারের নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত সময়ে (জুনের ২০ তারিখে) সকল কর্মকর্তার সেলারি পরিশোধ করা হবে। এর পূর্বে কারো সেলারি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে ২০ তারিখেই সকলের সেলারি দেয়া হয়। আমার সেলারিও ২০ তারিখেই নিয়েছি। আমি যাকাতের হিসাব করি রমযানের ১ তারিখে। রমযানের ১ তারিখে (২৮শে মে) জুন মাসের সেলারি আমার কাছেই ছিল। এখন আমার প্রশ্ন হল, গত বছরের যাকাতের হিসাবে জুন মাসের সেলারি হিসাব হবে কি?

ধান হওয়ার পর গাছসহ তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৮) : আমি ধানের ব্যবসা করি। আমার কয়েকটি ধানের জমি আছে। আমি সেগুলোতে ধান চাষ করি। আর ধান কাটার কয়েকদিন আগে যখন খেতে ধান পরিপূর্ণ হয়ে যায় তখন কিছু খেতের ধান গাছসহ ক্রয় করে নিই। কথা থাকে সপ্তাহ খানেক পর ধান কাটার সময় হলে ধান কেটে নেব। নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে দেই। আর সময়মত ধান কেটে নেই। এভাবে ব্যবসা করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি?

পশু জবাই করা ও বিসমিল্লাহ বলার মাঝে কথা বললে কি উক্ত পশু খাওয়া হারাম হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১৯৭) : আমি একদিন মুরগি জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলার পর একজনকে বললাম, ‘ভাল করে ধর’ জবাইয়ের পর উপস্থিত একজন বলে উঠল, বিসমিল্লাহ বলার পর কথা বলার কারণে বিসমিল্লাহ বাতিল হয়ে গেছে। আর নতুন করে বিসমিল্লাহ না বলে জবাইয়ের কারণে মুরগিটি খাওয়া হালাল হবে না। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? এই মুরগিটি কি খাওয়া যাবে না?

ইতিকাফ আদায়কারী ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করার জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৬) : আমি যে মসজিদে ইতিকাফ করি সে মসজিদে প্রায় প্রতি বছরই একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইতিকাফকারী জানাযার নামাযের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। আর কেউ বলেন, বের হতে পারবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, কোন কথাটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।