হিজড়াদের কাফন-দাফনের বিধান।
প্রশ্ন (১২৫০৭) : মুসলিম হিজড়া মারা গেলে তাদের গোসল দেয়া, কাফন পরানো, দাফন করা ও জানাযার নামায পড়া বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?
প্রশ্ন (১২৫০৭) : মুসলিম হিজড়া মারা গেলে তাদের গোসল দেয়া, কাফন পরানো, দাফন করা ও জানাযার নামায পড়া বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?
প্রশ্ন (১২৪৭৯) : গ্রামে আমাদের একটি জমি অনেক বছর ধরে এক ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ভোগ করে আসছিল। আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর কিছুদিন আগে আমাদের পক্ষে রায় আসে। জমিটিতে আমরা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে চাচ্ছি, কিন্তু তাতে তাদের একটি কবর আছে, যার বয়স প্রায় আট মাস। কবর স্থানান্তর করা না করা নিয়ে গ্রামে সালিশ বসে। তাতে এই সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু এটা দ্বীনী বিষয়, তাই এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান যেমন হবে তা উভয় পক্ষ মেনে নিবে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি কী?
প্রশ্ন (১২৪১৬) : আমরা চরাঞ্চলে বসবাস করি। এ অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে কেউ মারা গেলে কখনো কখনো তার দাফনের বিষয়ে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়ি। কবরস্থানের জায়গাটা তুলনামূলক উঁচু স্থানে হলেও মাটি খুঁড়তেই সেখান থেকে পানি উঠতে থাকে। ফলে লাশ রাখতেই কাফন নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ কাঠের কফিনে করে দাফন দেয়। এভাবে দাফন করতে কি কোনো অসুবিধা আছে?
প্রশ্ন (১২৩৯০) : যোহরের নামাযের পর সুন্নত পড়ছিলাম। ইতিমধ্যে মসজিদে জানাযার নামায শুরু হয়ে যায়। সুন্নত শেষ করতে করতে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় তাকবীর বলে ফেলেন। সুন্নত শেষ করে দুই তাকবীর বলে ইমামের সাথে শরীক হয়েছি এবং যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করেছি। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? অন্যথায় এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১২৩৮৮) : জনৈক ব্যক্তি তার বড় পুত্রবধুর খেদমতে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য নির্দিষ্ট একটা জমির অসিয়ত করেন। তখন সেখানে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী ও এক ছেলে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি অন্য দুই পুত্রবধু জানতে পারলে তাদের মাঝে কানাঘুষা হয়। একপর্যায়ে তা পারিবারিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতি দেখে বড় পুত্রবধু সবার সামনে তার শ্বশুরকে বলে আমার কোনো জমি লাগবে না। আমি আপনার জমি নিব না। তখন ঐ ব্যক্তি বলেছিল, আমি অসিয়ত করেছি, তুমি পাবে। ঐ ঘটনার পর আর এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বর্তমানে সে ব্যক্তি বেঁচে নেই। বড় পুত্রবধু যেহেতু শ্বশুরের জীবদ্দশায় তার পক্ষে কৃত অসিয়ত প্রত্যাখ্যান করেছে তাই মৃতের ওয়ারিসরা তাকে ঐ জমি দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু সে এখন জমিটি নিতে খুবই আগ্রহী। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তির কৃত অসিয়ত বহাল আছে কি না? এবং উক্ত পুত্রবধু কি অসিয়তসূত্রে ঐ জমি দাবি করতে পারবে?
প্রশ্ন (১২৩২৬) : আমাদের স্কুলমাঠে একবার জানাযার নামায হয়। আমি অযু করে জানাযার নামাযে শরীক হই। কাতারে দাঁড়ানোর পর পাশের এক ভাই বললেন, জুতা খুলে সামনে রেখে দিন। জুতা পরে নামায হয় না। আরেক ভাই বললেন, জুতার উপরে দাঁড়ালেও নামায হবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার কি জুতা পরে নামায পড়াটা ঠিক হয়েছে, নাকি খালি পায়ে নামায পড়া আবশ্যক ছিল?
প্রশ্ন (১২৩২০) : জানাযার খাটিয়া বহনের সুন্নত তরীকা কী? আমাদের এলাকায় এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি দেখা যায়। কখনো দেখা যায় কিছুদূর বহন করার পর যারা বহন করেনি তারা বহন করে। আবার কখনো পায়া পরিবর্তন করে নেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসহ জানালে খুবই উপকার হবে।
প্রশ্ন (১২৩১৯) : মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল (সা.) একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী (সা.) তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই। এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল- ১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী? ২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহিহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৩০২) : কয়েকদিন আগে এক জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব পাঁচটি তাকবীর দিয়ে জানাযার নামায পড়ান। পঞ্চম তাকবীরের সময় মুক্তাদীগণ অনেকেই ইমামের সাথে তাকবীর বলেন আর কেউ কেউ বিরত থাকেন। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামাযের কী হুকুম? এছাড়া ইমাম সাহেব ভুলে চারের অধিক তাকবীর বললে মুক্তাদীদের করণীয় কী?
প্রশ্ন (১২২৭৭) : আমাদের এলাকায় এক মুরব্বী মৃত্যুর পূর্বে তার এক বন্ধুকে জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করে যান। কিন্তু তার ছেলে এই অসিয়তের কথা জানা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে অন্য হুজুরকে দিয়ে জানাযা পড়ান। পরে এ নিয়ে তার আত্মীয়দের মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়ে যায়, ছেলে তার বাবার অসিয়ত পালন করেনি, অথচ অসিয়ত পালন করা জরুরি। জানার বিষয় হল, শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে এ অসিয়ত পালন করা কি জরুরি ছিল? এবং এ কাজের কারণে কি তার অন্যায় হয়েছে?
প্রশ্ন (১২২৭৩) : আমাদের এলাকায় একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ মতবিরোধ চলে আসছে। তা হল, জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব মায়্যেতের কোন বরাবর দাঁড়াবেন? সিনা বরাবর, নাকি কোমর বরাবর? এবং এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলার কেনো পার্থক্য হবে কি না? মুফতী সাহেবের কাছে এ বিষয়ের সঠিক সমাধান কামনা করছি।
প্রশ্ন (১২২৪৩) : একজন আলেমকে বলতে শুনলাম, জানাযার নামাযে দু’দিকে সালাম ফিরানো ঠিক নয়। বরং সুন্নাহসম্মত পন্থা হচ্ছে জানাযার নামাযে এক দিকে সালাম ফেরানো। নবী কারীম (সা.) এমনটি করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? আমরা কি জানাযায় এক দিকে সালাম ফেরাব?
প্রশ্ন (১২২২৬) : বর্তমান কবরস্থানগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফলক লাগিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। আত্মীয়স্বজন চাচ্ছেন যে, তার কবরেও নাম ইত্যাদি লিখে দেওয়া হোক, যাতে যিয়ারত করার সময় কবর চিনতে সুবিধা হয়। তাই আমরা মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো ফলক ইত্যাদি স্থাপন করা কি জায়েয আছে?
প্রশ্ন (১২২২৫) : কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। মাঝেমাঝেই আমরা তার কবর যিয়ারত করতে যাই। কয়েকদিন যাবৎ আমার চাচাতো বোন ও চাচার কয়েকজন পুত্রবধু চাচ্ছেন, তারাও চাচার কবর যিয়ারত করবেন। কিন্তু এলাকার কিছু লোকজন বলছেন যে, মহিলাদের জন্য নাকি কবর যিয়ারত করা ঠিক নয়। তাই এখন আমরা চাচ্ছি যে, উক্ত মহিলাদের জন্য কি চাচার কবর যিয়ারত করা জায়েয হবে?
প্রশ্ন (১২২১৪) : সম্প্রতি এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি ইসলামী প্রথা মেনে জানাযা পড়িয়ে দাফন করা হয়েছে। জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে স্থানীয় মসজিদের ইমাম প্রায় দু’শ উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে তার জানাযা নামায পড়ান। এলাকার বাসিন্দাদের মতে এই যৌনপল্লিতে এটি ব্যতিক্রম ঘটনা। সাধারণত মৃত যৌনকর্মীদের গোপনে কবর দেওয়া হয় অথবা মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সংবাদটি প্রচার হলে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হল, যৌনকর্মীদের জানাযা পড়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
প্রশ্ন (১২২০৩) : আমাদের এলাকায় কারও জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার প্রচলন খুবই কম। কিছুদিন আগে ঢাকার একজন আলেম বয়ানের মধ্যে রাসূল (সা.) সহ সকল মানুষের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী পালন করা জায়েয বলে ফতোয়া দেন। এতে আমাদের এলাকায় সকলে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। সুতরাং উক্ত সমস্যার সমাধানকল্পে শরীয়তের দলিল উল্লেখ করে আমাদেরকে উপকৃত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
প্রশ্ন (১২১৯৩) : বাড়ির মহিলা মানুষ মারা গেলে সবাই কি ঐ লাশকে দেখতে পারবে? আমাদের এলাকায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই উক্ত লাশ দেখে। মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দলীলসহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২১৯২) : এক আলেম বলেছেন, দাফনের পর দেড় দুই ঘণ্টা কবরের পাশে থাকলে ভালো। এতে মায়্যিতের প্রশ্নোক্তর পর্ব সহজ হয়। এটা কি ঠিক? দলীলসহ জানালে খুবই ভাল হত।
প্রশ্ন (১২১৯১) : আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি তার ছেলের জানাযা পড়াবার সময় সশব্দে কেঁদে ফেলে। নামায শেষ হওয়ার পর পাশের ভাইকে বললাম, নামায তো সহিহ হয়নি। কেননা যে সকল কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায় সে সকল কারণে জানাযার নামাযও নষ্ট হয়ে যায়। আর বালা-মুসিবতের কারণে সশব্দে কাঁদলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি উত্তরে সে বলল, সে তো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল। তাই নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরও যদি সশব্দে কান্না চলে আসে তাহলে এর দ্বারা নামায ভাঙে কীভাবে?
প্রশ্ন (১২১৯০) : আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলিতে সরকারের পক্ষ থেকে গণকবরস্থান থাকে। সেখানে সাধারণত একদিক থেকে এক এক করে কবর দিতে থাকে। এক সময় গিয়ে পুরো কবরস্থান পূর্ণ হয়ে যায়। পরে পুনরায় পুরাতন কবর খনন করে তাতে নতুন কবর দেওয়া হয়। জানার বিষয় হল, এভাবে পুরাতন কবর খনন করে নতুন কবর দেওয়ার শরঈ বিধান কী?