অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা

মোবাইল রিচার্জ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৫) : আমরা যখন মোবাইলে টাকা রির্চাজ করার জন্য দোকানদারকে বিশ টাকা দেই, তখন সে ১ টাকা কম ১৯ টাকা রির্চাজ করে দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের এই লেনদেন কমবেশি করার কারণে সুদী লেনদেন হবে কি না? আর যদি সুদ হয় তাহলে বিগত দিনগুলোতে যে লেনদেন করা হয়েছে তাতে উভয়ের কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে আমরা সকলেই উপকৃত হতাম।

ইনসিওরেন্সের টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫৩৪) : আমার আম্মা প্রগতি লাইফ ইনসিওরেন্স দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইনসিওরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরোও ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে। যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইনসিওরেন্স ডিভিডেন্ড হারাম। তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৯) : আমি শুনেছি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চাকরি করা হারাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও কি একই বিধান? বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অন্যান্য ব্যাংকের মত নয়। এরা কাউকে (ব্যক্তিগতভাবে) ঋণ দেয় না, আমানতও নেয় না। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কাজ ও প্রতিষ্ঠার কারণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রে এখানে চাকরি করা কি হারাম হবে? যদি উত্তর দেয়া হয় তাহলে খুব উপকৃত হব।

ডিও ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৮) : আমার আলআরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরসি ব্যাংকে সেভিং একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। এই টাকা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপসহ অন্যান্য কোম্পানির নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন, আটা, ময়দা, চিনি, তৈল, ডালডা, ভুসি ইত্যাদি পণ্য দাম যখন কম থাকে তখন পণ্যগুলো কোম্পানি থেকে ক্রয় করা হয়। পণ্যের মূল্য তাদের ব্যাংক একাউন্টে নগদ জমা করা হয়। তারা পণ্য প্রদানের একটি তারিখ দিয়ে শুধু পণ্যের স্লিপ দিয়ে দেয়। এই স্লিপটিকে ব্যবসার ভাষায় ডিও বলা হয়। ডিও কিনে তাতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির গোডাউনে মজুদ রাখা হয়। কোনো পণ্যসামগ্রী আমি স্ব-চোখে দেখিও না এবং আমার গোডাউনেও আনি না, কেবলমাত্র কোম্পানীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সাথে সরাসরি বা মোবাইলে কথা বলে পণ্যসামগ্রী কিনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিলে কোম্পানি আমাকে ঐ ডিও লেটার দিয়ে দেয়, পরবর্তীতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি হলে, উক্ত ডিও লেটার কাগজটি অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর কাছে কিছু লাভ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ধরনের ব্যবসা করা জায়েয কি না? এই ব্যবসা করা যাবে কি না? জানালে খুবই উপকৃত হব।

লটারীর টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫২০) : মাহবুব আমার ছোট ভাই। সে আমেরিকা থাকে। তার উপার্জিত টাকা আমার কাছেই পাঠিয়ে থাকে। আমি সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করি এবং পরিবারের ভরণপোষণ করি। মাহবুব একবার লটারীতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পায়। লটারীর এসব টাকা সে আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি সে টাকা থেকে কিছু ব্যবসায় বিনিয়োগ করি আর কিছু জমি ক্রয় করি এবং নিজেও কিছু খরচ করি। আমি এক আলেমকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম যে, কাফের মুলুকে পাওয়া লটারীর টাকা বৈধ, এতে সুদ নেই। তবে তা শুধু মাহবুবের জন্য জায়েয। কিন্তু এখন সঠিক মাসআলা জেনেছি যে, মূলত ওই টাকা মাহবুবের জন্যও নাজায়েয। কিন্তু এর মধ্যে আমি লটারীর টাকা ও পূর্বে পাঠানো টাকা দিয়ে বেশ মোটা অংকের টাকা ব্যয়ে একটি জমি ও দোকান ক্রয় করি। দ্বিতীয়ত সংসারের ভরণপোষণও এ টাকা থেকেই করেছি। তৃতীয়ত যাকাত, সাধারণ দান-খায়রাতও এ টাকা থেকেই দিয়েছি। এ অবস্থায় কী পন্থা অবলম্বন করলে উক্ত টাকা ও সম্পদ বৈধ হবে? আর এ টাকা থেকে দেওয়া যাকাত ও দান-খায়রাতের কী বিধান? উল্লেখ্য, আমাদের এক বিধবা খালা ও খালাতো ভাই-বোন আছে। এখন তাদেরকে কি পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে? কেননা একে তো তারা গরিব আবার এক খালাতো বোন বিয়ের উপযুক্ত। টাকাটা দিলে তাদের অনেক উপকার হবে।

লটারির টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১২৫০১) : আমি সাধারণ চাকরিজীবী। সাংসারিক ব্যয়ের পর যে অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকে তা আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে একটু একটু করে জমাতে থাকি। এভাবে হজ্ব কাফেলায় জমা দেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় হয়ে যায়। এদিকে আমার একটি লটারি ড্র হওয়ায় আরো কিছু টাকা হাতে আসে। আগের জমানো অর্থগুলো হজ্ব কাফেলায় দিয়ে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের সঙ্গে রাখি এবং গোটা সফরে ব্যক্তিগত বেশ কিছু খরচ তা দিয়ে নির্বাহ করি। হজ্ব শেষে মক্কায় আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি আমাকে জানালেন, লটারির টাকা হারাম! আর হারাম টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হয় না। এতে আমি ভীষণ চিন্তিত হলাম। লটারির ঐ টাকা যে কেন সঙ্গে নিয়েছিলাম সেজন্য অনুতপ্ত হলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার হজ্ব কি একেবারেই হয়নি? নাকি হলেও অসম্পূর্ণ হয়েছে? সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমার খটকার মূল কারণ, আমার হজ্ব সফরের মৌলিক খরচ, যা কিনা আমি হজ্ব কাফেলায় জমা দিয়েছি তা তো নিঃসন্দেহে হালাল। প্রাসঙ্গিক খরচ সন্দেহযুক্ত হওয়াতে কি হজ্বের উপরে তার প্রভাব পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৭) : আমাদের এলাকায় সাধারণত শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৪৩৪) : আমার চাচা অনেক দিন ধরেই আমাদের এলাকায় জমির দালালী করেন। তিনি এবিষয়ে প্রসিদ্ধ হওয়ায় এলাকার কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তাকে জানিয়ে রাখে। এমনিভাবে কেউ কিনতে চাইলে তাকে বলে রাখে যে, ভাই! এত দামের ভিতর একটি জমি কিনতে চাই। তখন তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেন এবং উভয়ের মাঝে মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন। বিক্রিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষ থেকেই কমিশন গ্রহণ করেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে উভয় থেকে কমিশণ গ্রহণ করা কি বৈধ?

যৌথ কারবারের ক্ষেত্রে মেয়াদ নির্দিষ্ট করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪২৮) : যশোর শহরে আমার একটি মুদি দোকান আছে। দোকান করার সময় একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করি যে, সে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত আমার সাথে যৌথ কারবার করবে। পাঁচ বছর পর আর যৌথ লেনদেন থাকবে না। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায় উন্নতি দেখে সে অংশীদারিত্ব ছাড়তে সম্মত হচ্ছে না। সে বলছে, যৌথ কারবারে এরকম শর্তারোপ করা ঠিক নয়। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যৌথ কারবারে নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্ত করা বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

পণ্য ফেরত দেওয়ার চুক্তিতে ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪০৭) : আমাদের এলাকায় মাদরাসা-মসজিদের মাহফিলগুলোতে আমরা বইয়ের দোকান দিই। যেহেতু সব বই বিক্রি করা যায় না; তাই আমরা লাইব্রেরী থেকে বই কেনার সময় এভাবে চুক্তি করি যে, যেসব বই বিক্রি হবে না, সেগুলো ফেরত দিব। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, আমাদের এভাবে চুক্তি করা কি সহিহ হচ্ছে?

বিক্রি করা পণ্য ফেরত নেওয়ার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৪০২) : আমি লাইব্রেরী থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি কিতাব কিনি। কিতাবটি কেনার পর এটি প্রয়োজন না হওয়ায় আমি সে লাইব্রেরীতে কিতাবটি ফেরত দিতে যাই। লাইব্রেরীওয়ালা বলল, আমরা তো কিতাব ফেরত নিই না। তবে কিনে নিই। অতপর সে ২৫০ টাকায় কিতাবটি আমার থেকে কিনে নেয়। তার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে?

মুযারাবা চুক্তিতে মুযারাবার সম্পদ থেকে কী কী কাজে খরচ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৩৯৮) : বাইয়ে মুযারাবার মাঝে মুযারিব যদি মুযারাবা ব্যবসার মালামাল রাখার উদ্দেশ্যে কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনে নিজের জন্য কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসায়িক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে সে ঘরের ভাড়া বাবদ বা চিকিৎসা বাবদ মুযারাবার সম্পদ থেকে ব্যয় করতে পারবে কি না? আর মুযারিবের জন্য আর কী কী সুবিধা আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

প্রেসে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাগজ কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৮৩) : আমাদের প্রেসে বিভিন্ন ধরনের বইপত্র ছাপানো হয়। এর মধ্যে ইসলামী কিতাবাদিও রয়েছে। (যেমন তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, দ্বীনী বিষয়ে বিভিন্ন কিতাবাদি)। গ্রাহকবৃন্দ আমাদেরকে যে ছাপার কাজগুলো দেন এর মধ্যে যেমন দুনিয়াবী বইপত্র থাকে তেমনি ইসলামী কিতাবাদিও থাকে। ছাপানোর সময় বিভিন্ন কারণে (যেমন মেশিনে সমস্যা হলে বা কাটিং যন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করলে) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাগজ উদ্বৃত্ত হয়। গ্রাহকদেরকে তাদের অর্ডার দেওয়া বইপত্র বা কিতাবাদি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সেই উদ্বৃত্ত কাগজগুলো দিয়ে আমরা বইগুলো বেঁধে দিই। যাতে বাঁধাইয়ের উপর দড়ির দাগ না পড়ে। এরপরও যেসব কাগজ অবশিষ্ট থাকে সেগুলো ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করে দিই। তারা সাধারণত ঠোঙা বানানোর কাজে এগুলো ব্যবহার করে থাকে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এ কাগজগুলো এসব কাজে ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা আছে? অনুরূপভাবে এগুলো বিক্রি করা কি বৈধ হবে?

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৫৫) : কিছুদিন আগে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ফার্নিচার ক্রয় করি। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা নগদে পরিশোধ করি। বাকিটা কয়েকদিন পরে দেওয়ার কথা হয়। ফার্নিচারের দোকানদার বিক্রির সময় আমাকে বলেছিল, এগুলোর কেনা দাম এক লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে মেরামত বাবদ অতিরিক্ত খরচসহ এর বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ বিশ। কিন্তু ফার্নিচারগুলো দেখার পর অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আমাকে বললেন, দোকানদার আপনাকে ঠকিয়েছে। এর কেনা দাম মোটেও সত্তর হাজারের বেশি হবে না। এ বিষয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তার কেনা দাম অন্তত এক লাখ না। তার চেয়ে কম। আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, তার এই প্রতারণার কারণে আমি কি তাকে বাদবাকি বিশ হাজার টাকা কম দিতে পারি? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

বর্গা চাষের একটি পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩৪৮) : এক ব্যক্তির সাথে আমি চুক্তি করতে চাচ্ছি যে, সে আমার এক বিঘা জমি চাষ করবে। চাষের জন্য বীজ, পানি, সার ইত্যাদির যাবতীয় খরচ সে বহন করবে। সিজন শেষে যা ফসল হবে তার বীজ সার ইত্যাদির খরচ বাদ দিয়ে বাকিটা দু’জনের মাঝে সমান হারে বণ্টন হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে চুক্তি করা বৈধ হবে কি না? বৈধ না হলে বৈধতার কোনো পদ্ধতি আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

পণ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে এর বিনিময়ে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৬) : আমি কিছুদিন আগে একটি ঘড়ি ক্রয় করি। কেনার পর ত্রুটি ধরা পড়লে আমি ঘড়িটি ফেরত দিতে যাই। তখন বিক্রেতা বলেন- আমি আপনাকে কিছু টাকা ফেরত দিচ্ছি, আপনি ঘড়িটি রেখে দিন। আমি কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দিই। পরে ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললে তিনি বলেন- ত্রুটির কারণে কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দেওয়া বৈধ হয়নি। আপনি ঘড়ি রাখতে চাইলে বিক্রেতা থেকে কোনো টাকা ফেরত নিতে পারবেন না। অন্যথায় ঘড়িটিই ফেরত দিতে হবে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়ি রেখে দেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? আর ইমাম সাহেবের কথা ঠিক কি না? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৩২) : আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।

অস্তিত্বহীন বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৩১৫) : কখনো কখনো বাগানের মালিকদের থেকে এক-দুই বছরের জন্য অগ্রিম বাগানের আম ক্রয় করে নিই। আবার কখনো আম ছোট থাকাবস্থায় ক্রয় করি। পাকার সময় হলে আম পেড়ে নিয়ে আসি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমাদের এই লেনদেন বৈধ কি না? বৈধ না হলে বৈধ কোনো পদ্ধতি আছে কি না জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

আমানতের টাকা অনুমতি ছাড়া ব্যয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৯) : আমি ঢাকায় চাকরি করি। গ্রামে আমার তেমন জায়গা-জমি নেই। তাই অনেক দিন ধরে আমি গ্রামে একটি জমি ক্রয় করতে চাচ্ছি। আর এই ব্যপারে আমার চাচাকে জানিয়ে রাখি যে, যদি ভালো কোনো জমির সন্ধান পান তাহলে যেন তিনি আমাকে জানান। একবার আমার চাচা একটি জমির সন্ধান পেয়ে আমাকে জানান। তখন আমার নামে জমিটি কেনার জন্য চাচার একাউন্টে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিই। জমি কিনতে বিলম্ব হওয়ায় চাচা আমাকে না জানিয়ে এক লক্ষ টাকা নিজের ব্যবসায় খাটায়। জানার বিষয় হল, চাচার জন্য কি টাকা ব্যবসায় খাটানো ঠিক হয়েছে? এ টাকা দ্বারা যা লাভ হয়েছে তা কি চাচার জন্য ভোগ করা বৈধ হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

মুদারাবা ব্যবসা।

প্রশ্ন (১২২৮৩) : আমার কয়েক বিঘা জমি আছে। এতে যে ধান হয় তার বেশিরভাগ অংশ সেদ্ধ করে শুকিয়ে বিক্রি করি। তাতে ভাল লাভ হয়। কিছু দিন আগে এক লোক আমাকে ২০,০০০/- টাকা দিয়ে বলেন টাকাগুলো দিয়ে আপনি নিজের মনমত ব্যবসা করেন। ব্যবসায় যে লাভ হবে তার অর্ধেক আমাকে দেবেন। আমি এই টাকাগুলো দিয়ে ধান কিনে আমার ধানের সাথে সেদ্ধ করে ব্যবসা করতে চাচ্ছি। এক লোক আমাদের চুক্তিটি জানার পর বলল, তার ধানগুলো নিজের ধানের সাথে মিশিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন না। এদিকে অন্য কোনো ব্যবসায় আমি অভ্যস্ত নই। তাই মুফতি সাহেবের কাছে উক্ত বিষয়টির শরঈ সমাধান জানতে চাচ্ছি।