বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য

মাল্টিলেভেল কোম্পানিতে কাজ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯২) : আমি একটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানিতে কাজ করতাম। এখানে ২জন লোক জয়েন করানোর পর তারা যতজন লোককে পরবর্তীতে জয়েন করাবে তাদের থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা টাকার এমাউন্ট পেতেই থাকব। যদিও আমি কোনো কাজ না করি। পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছি, এটা নাকি হারাম। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই কোম্পানিগুলো থেকে এভাবে পাওয়া টাকাগুলো আমার জন্য হালাল হবে নাকি হারাম? বিস্তারিত জানতে চাই।

যৌথ ব্যবসায় লভ্যাংশ বণ্টন করার পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১৩১২২) : আমার ভাগিনা একটি দোকান করেছে। তার পুঁজি ছিল তিন লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে তার টাকা প্রয়োজন হলে আমি তার ব্যবসায় দুই লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি। তার সাথে এভাবে চুক্তি হয়েছে, দোকানের সকল খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ থাকবে তা দু’জনের মাঝে অর্ধার্ধি হারে বণ্টন হবে। আর লোকসান হলে উভয়ে মূলধন অনুপাতে তা বহন করবে। আমার এ বিনিয়োগ শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

শরিকানা ব্যবসায় লাভ বণ্টনের পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩১২১) : আমার চাচার একটি ব্যবসা আছে। সেখানে তিনি প্রায় দশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আমি চাচার ব্যবসায় দুই লক্ষ টাকা দিয়ে শরীক হতে চাচ্ছি। ব্যবসা তিনিই পরিচালনা করবেন। মাঝে মধ্যে সুযোগ হলে আমিও কিছু কাজ করব। তিনি মোট লাভের ২০% আমাকে দেবেন, আর বাকিটা তার থাকবে। এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?

যৌথ ব্যবসায় লাভ-লোকসানের হিসাব কিভাবে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৯২) : আমি ও আমার বন্ধু মিলে দশ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি চালের আড়ত দিয়েছি। আমার পুঁজি চার লক্ষ টাকা আর বন্ধুর ছয় লক্ষ টাকা। ব্যবসা পরিচালনা আমি একাই করি। তাই তার সাথে আমার চুক্তি হয় যে, লাভের ৩৩% তার আর বাকিটা আমার। আর লোকসান হলে অর্ধেক সে বহন করবে আর বাকি অর্ধেক আমি। সে এতে রাজি হয়। প্রশ্ন হল, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে?

নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ গ্রহণের শর্তে ব্যবসার চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৫২) : আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছি। ১. লোকসান হলে আমার। ২. যদি লাভ হয় তবে মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, এরূপ ব্যবসায়িক চুক্তি বৈধ নয়। তাই হযরতের কাছে জিজ্ঞাসা, এ ব্যবসা থেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে লাভ নেওয়া যাবে কি না? কারণ, এক বছর ইতিমধ্যেই শেষ। যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু লাভ দেয় তা গ্রহণ করা হারাম হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

ফসল গুদামজাত করে রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৯৭৮) : যখন নতুন ফসল কাটা হয় তখন ফসলের দাম কম থাকে। তাই অনেকেই কম দামে ক্রয় করে গুদামজাত করে রাখে। পরবর্তীতে যখন বাজারে বেশি দাম হয় তখন বিক্রি করে দেয়। জানার বিষয় হলো, এভাবে অধিক মুনাফা লাভের আশায় পণ্য গুদামজাত করে রাখতে কি কোনো অসুবিধা আছে?

অংশীদার ভিত্তিক পুকুরে মাছ চাষ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৯৬৯) : একটি পুকুরে কয়েকজন অংশীদার। সবাই অংশ হিসেবে এতে খরচ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলো। কিন্তু বর্তমান পরস্পর সম্পর্কের অবনতির কারণে কিছু অংশীদার এতে মাছ চাষ করতে সম্মত নয়। আর কয়েকজন এতে মাছ চাষ করে। আর যারা মাছ চাষ করতে সম্মত নয় তাদেরকে মাছের অংশ দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা উক্ত মাছ গ্রহণ করে না। ফিরিয়ে দেয়। তারা ফেরৎ দেওয়া মাছ এলাকার গরীব-মিসকীনকে দিয়ে দেয়। জানার বিষয় হল, শরীকি পুকুরে এভাবে মাছ চাষ করা এবং ফেরৎ দেওয়া মাছ গরীব-মিসকীনকে দেওয়া জায়েয আছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোনো পণ্য হাতে পাওয়ার আগে তা বিক্রির চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৬৫) : আমি গ্রামের এক চাষীকে এক লক্ষ টাকা এই শর্তে দিয়েছি যে, তিন মাস পর সে আমাকে পাঁচ শত টাকা মন হিসেবে দুইশ মন ধান দিবে। টাকা দেওয়ার এক মাস পরেই আমার একটি ছেলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন আমার বড় ভাই থেকে ৫০,০০০/- টাকা এই বলে ঋণ নিয়েছি যে, দু’মাস পর ঐ কৃষক দুইশ মন ধান দিলে আমরা দু’জনে একশত মন করে ভাগ করে নিব। আর এভাবে তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। জানার বিষয় হল, ভাইয়ের সাথে এই ঋণ চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে?

নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান দেওয়ার শর্তে ধানি জমি বর্গা দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৬৪) : আমি আমাদের গ্রামের এক কৃষককে এই শর্তে ধানি জমি বর্গা দিয়েছি যে, ধান উৎপন্ন হওয়ার পরে সে আমাকে পাঁচ মন ধান দিবে। আর বাকিটা সে নিবে। আমি তাকে বীজও দিয়েছি। আর আমার জমিতে প্রায় ১০-১২ মন ধান হয়। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে জমি বর্গা দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫২) : আমার মামার একটি কাপড়ের দোকান আছে। বছর খানেক আগে সেখানে বিনিয়োগের জন্য মামাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলাম। মামা বলেছিলেন, প্রতি মাসে দুই-আড়াই হাজার টাকা করে দিবে। আর বছর শেষে যখন হিসাব হবে তখন চূড়ান্ত হিসাব করে লভ্যাংশ উভয়ে বণ্টন করে নেব। তবে কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়নি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? আর আমি যে লাভ গ্রহণ করছি তা গ্রহণ করা জায়েয হচ্ছে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

শতকরা হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৯) : আমি একজন মাইক্রোবাস চালক। আমি ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাই। আমি আগে যে গাড়িটি চালাতাম তার মালিক গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ায় এখন আমি আর গাড়ি চালাচ্ছি না। আমার এক বন্ধুর একটি মাইক্রোবাস আছে। সে একদিন আমাকে বলল যে, তুমি আমার মাইক্রোটা চালাও। গাড়ীর প্রয়োজনীয় খরচ ব্যতীত যা আয় হবে তার ৩০% তোমার আর ৭০% আমার। আমাদের উক্ত চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুদারাবা ব্যবসায় লোকসান হলে তা বহন করবে কে?

প্রশ্ন (১২৯৩৫) : প্রায় এক বছর পূর্বে আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা এ শর্তে বিনিয়োগ করি যে, আমি লাভের ৬০% পাব। আর সে পাবে ৪০%। তেমনি লোকসান হলে উভয়ে উক্ত হারে তা বহন করব। কিছুদিন আগে আমি জানতে পেরেছি যে, এভাবে চুক্তি সহিহ নয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এতদিন পর্যন্ত এ চুক্তি থেকে আমরা যে লাভ ভোগ করেছি এর ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী?

ব্যাংক কর্মকর্তার জমি বর্গা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯১৪) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি ব্যাংকে বড় একটি পদে চাকরি করে । সে তার চাকরির টাকা দিয়ে এলাকায় বেশ কিছু জমি কিনে রেখেছে। এছাড়া তার অন্য কোনো আয় নেই। এই জমিগুলো সে অর্ধার্ধি হারে ফসল বণ্টনের শর্তে বর্গা দিয়ে রেখেছে। আমি জানতে চাচ্ছি, তার কাছ থেকে জমি বর্গা নেওয়া জায়েয হবে কি না? যদি জায়েয না হয় তাহলে যারা ইতিপূর্বে তার থেকে জমি বর্গা নিয়েছে তাদের কী করণীয়? দয়া করে জানাবেন।

অনির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৮৯) : আমাদের এলাকার অনেকের সিএনজি আছে। কেউ কেউ সিএনজি চালায়। তবে অধিকাংশ মালিকরাই অন্যকে ভাড়া দিয়ে রাখে। এক্ষেত্রে তারা চালকদের সাথে এভাবে চুক্তি করে যে, গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন যা ইনকাম হবে তার চারভাগে ভাগ করা হবে। সেখান থেকে তিনভাগ মালিক পাবে। আর একভাগ চালক নিয়ে যাবে। আমাদের এলাকায় প্রায় সবাই এভাবেই চুক্তি করে। জানার বিষয় হল, এভাবে চুক্তি করা কি সহিহ?

অংশীদার ভিত্তিক ব্যবসায় শরিকদের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণের পর অতিরিক্ত ধার্য করা জায়েয আছ…

প্রশ্ন (১২৮৩০) : আমি আর আমার এক চাচাতো ভাই মিলে একলক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে যাত্রী বহনের জন্য একটি মোটর সাইকেল কিনেছি। এতে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়েছি আর সে ষাট হাজার টাকা দিয়েছে। আমাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল আমরা আমাদের মূলধন অনুপাতে লাভ নিব। মোটর সাইকেল নিয়মিত আমার চাচাতো ভাই চালায়। যার কারণে সে এত অল্প লাভে সন্তুষ্ট নয়। এজন্য আমি বলেছি, তুই প্রতিদিন লাভের সাথে দুইশত টাকা অতিরিক্ত নিবি। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে কি না? বৈধ না হলে সঠিক পদ্ধতি কী হতে পারে?

অগ্রীম ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৪) : আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার স্বার্থে অনেক সময় অগ্রীম বিক্রয় চুক্তি করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় অনেক ব্যবসায়ীকে দেখা যায় যে, তারা ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নেয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে আগাম বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে আমার (ক্রেতার) জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য সরবরাহ করা পর্যন্ত ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে কোনো কিছু বন্ধক নেওয়া কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অগ্রিম পণ্য ক্রয় করার পর পণ্য পরিশোধের সময় তার বাজার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৮৩) : আমাদের এলাকায় টাকা পয়সা ঋণ নেওয়ার একটা প্রচলন আছে। তা হলো, কারো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হলে অন্যের নিকট থেকে এই শর্তে টাকা নেয় যে, এখন এক হাজার টাকা দিব, এক/দুই মাস পর সে টাকার বিনিময়ে দুই মণ ধান দিতে হবে। মেয়াদ শেষে ঋণদাতা কখনো ধান না নিয়ে সে সময়ের বাজারদর হিসেবে ধানের মূল্য নিয়ে নেয়। অনেকে এ ধরনের লেনদেনকে সুদী কারবার বলে। কারণ, এর দ্বারা ঋণদাতার লাভ হয়। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উক্ত লেনদেনের শরয়ী হুকুম কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোনো ব্যবসায় শ্রম না দিয়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয আছে …

প্রশ্ন (১২৭৭৩) : আমার ফুফাতো ভাই একটি দোকান দিয়েছে। সে এতে ৬ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। কিছুদিন পর তার টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছে ঋণ চায়। আমি তাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনাক্রমে তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৪ লক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয় যে, ব্যবসা সে দেখাশোনা করবে। আর দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ হবে তা দু’জনের মাঝে অর্ধার্ধি হারে বণ্টন হবে। আর লোকসান হলে উভয়ে মূলধন অনুপাতে বহন করবে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত চুক্তিটি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

মুদারাবা ব্যবসায় শ্রমদাতা যদি টাকা বিনিয়োগ করে তাহলে উক্ত টাকার লভ্যাংশ বণ্টন করার পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২৭৭১) : আমি বিদেশ থাকা অবস্থায় আমার ভাগিনাকে মুদারাবা ব্যবসা করার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। চুক্তি হয়েছিল যে ৬০% আমি ও ৪০% লভ্যাংশ সে পাবে। কিছুদিন পর ব্যবসায় আরো ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু আমি টাকা দিতে পারছিলাম না। সে আমার সাথে পরামর্শ করে নিজের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা ব্যবসায় লাগায়। জানার বিষয় হল, এখন আমাদের হিসাবের পদ্ধতিটা কী হবে? তার বিনিয়োগকৃত টাকার জন্য কি তাকে অতিরিক্ত মুনাফা দিতে হবে? নাকি পূর্ব নির্ধারিত হারেই লভ্যাংশ বণ্টন করা যাবে।