দুই রাকাতা বিশিষ্ট ফরয নামাযে ভুলবশত বৈঠক না করলে করণীয় কী?
প্রশ্ন (১৩৬৭৫) : দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে তখন কী করণীয়? মনে পড়লে বসে পড়বে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩৬৭৫) : দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে তখন কী করণীয়? মনে পড়লে বসে পড়বে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩৬৭৪) : আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার প্রশ্ন হল, যদি সৌদিতে খুব ঠাণ্ডা পড়ে তবে আমি কি ইহরাম অবস্থায় হাত, পা ও চেহারা চাদর দিয়ে ঢেকে ঘুমাতে পারব?
প্রশ্ন (১৩৬৭৩) : কোনো মুসাফির সফর থেকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পূর্ণ নামাযই পড়বে?
প্রশ্ন (১৩৬৭২) : আমরা স্বামী-স্ত্রী এবার হজ্বে যাব ইনশাল্লাহ। আমাদের দু বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। তাকেও নিয়ে যাব। প্রশ্ন হল এই শিশু ছেলের ইহরাম বা হজ্বের আমল কীভাবে হবে? তাকেও কি ইহরামের কাপড় পরাতে হবে? ঠান্ডার কারণে মাথা মুখ ঢাকতে হলে তা পারব কি? তার ভুলের কারণে দম ওয়াজিব হবে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩৬৭১) : আমার ছোট ভাই সৌদী আরব থাকে। গত বছর কুরবানীর সময় তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য সে ৬০ হাজার টাকা পাঠায়। আমার একটু সমস্যার কারণে প্রথম দিন তার কুরবানী করতে পারি নি। তাই তৃতীয় দিন তার কুরবানী করেছি। এখন প্রশ্ন হল, আমাদের তৃতীয় দিনে তো সৌদী আরবে কুরবানীর সময় ছিল না। এ অবস্থায় আমার ভাইয়ের কুরবানী আদায় হয়েছে কি?
প্রশ্ন (১৩৬৭০) : আমাদের বাড়ির পিছনে একটি জমিতে ১৯৬৫ সালে আমার দাদাকে কবর দেওয়া হয়। বর্তমানে যথাযথভাবে সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। এখন কবরটিকে ভেঙে তার উপর বসবাসের উদ্দেশ্যে কোনো ঘর নির্মাণ করা বৈধ হবে কি? দয়া করে জানাবেন।
প্রশ্ন (১৩৬৬৯) : আমি একদিন যোহরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে শুধু একটি সিজদা করি। পরে নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় আমি সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার এ নামায কি সহিহ হয়েছে, নাকি তা আবার আদায় করতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬৮) : আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহিহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬৭) : গত বছর আমার বাবা একবার বিপদে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি বাবাকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বাবা তার নামে একটি কুরবানী দিয়ে করেন। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির নামে বাবা যে কুরবানী করেছেন তা থেকে কি আমরা খেতে পারবো, নাকি পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬৬) : আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে ইমামের সাথে শরিক হই। শরিক হয়ে তাশাহহুদ পড়া শুরু করি। তখনই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এখন জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?
প্রশ্ন (১৩৬৬৫) : আমি মসজিদে যাওয়ার সময় উপর থেকে চড়ূই পাখি আমার শরীরের উপর বিষ্ঠা ছেড়ে দেয়। তা আমার পাঞ্জাবীতে পড়ে। তখন আমি টিস্যু দিয়ে তা মুছে নামায আদায় করে নিই। জানার বিষয় হল, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে, নাকি পুনরায় পড়তে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬৪) : অনেক আগে আমি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে। এখন আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। লাগাতার দুই মাস রোযা রেখে কাফফারা আদায় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমি কি টাকা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে পারব? সে ক্ষেত্রে কি লাগাতার ৬০ দিন টাকা দিতে হবে? যদি সপ্তাহে দুজন-তিনজন করে দেই তাহলে কী হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬৩) : আমাদের মহল্লার মসজিদে কয়েকজন মুসল্লি নিম্নোক্ত হাদিসটি মানুষের নিকট বর্ণনা করছে। তারা এটি ছাপিয়ে মসজিদে লাগিয়ে দিয়েছে। এবং তারা উক্ত হাদিসটি এলাকা জুড়েও ব্যাপক প্রচার করছে। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, নিম্নোক্ত হাদিসটি সহিহ ও আমলযোগ্য কি না? হাদিসটি হল, রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে বলেছেন, হে আলী! প্রত্যেক রাতে পাঁচ কাজ করে ঘুমাও। যথা : ১. চার হাজার দিনার সদকা করে ঘুমাও। ২. এক খতম কুরআন পড়ে ঘুমাও। ৩. জান্নাতের মূল্য আদায় করে ঘুমাও। ৪. দুজনের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে ঘুমাও। ৫. একটি হজ্ব আদায় করে ঘুমাও। আলী (রা.) বললেন, এটা তো অসম্ভব। কীভাবে আমি তা আদায় করব? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, চার বার সূরা ফাতিহা পড়ে ঘুমাও তাহলে চার হাজার দিনার সদকার সওয়াব পাবে। তিন মর্তবা সূরা ইখলাস পড়ে ঘুমাও তাহলে একবার কুরআন খতম করার সওয়াব পাবে। তিন বার দুরূদ পড়ে ঘুমাও তাহলে জান্নাতের মূল্য আদায় হয়ে যাবে। দশবার ইস্তেগফার পড়ে ঘুমাও তাহলে দুজনের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাবে। চারবার কালিমায়ে তামজীদ পড়ে ঘুমাও তাহলে একটি হজ্বের সওয়াব পাবে। হযরত আলী (রা.) বলেন, আমি প্রত্যহ রাতে এ আমল করে ঘুমাব।
প্রশ্ন (১৩৬৬২) : একদিন আমার ছেলে ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। ওর মা পরনের প্যান্ট দিয়েই ঐ মেঝে হালকাভাবে মুছে দেয়। আমি বেখেয়ালে সেখানে জায়নামায বিছিয়ে নামায আদায় করি। জায়নামাযটা বেশ মোটা ছিল। নামায শেষে ওর মা বলল, ও তো এই জায়গায় পেশাব করেছিল, তুমি তার উপরই জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়েছ। আমি জায়নামায উল্টে দেখি, জায়নামাযের উল্টো পিঠে হালকা ভিজা ভিজা আছে। আর পেশাবের গন্ধ মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু জায়নামাযের উপর পিঠে কোনো গন্ধ নেই। প্রশ্ন হল, ঐ জায়নামাযে আমার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? দয়া করে জানাবেন।
প্রশ্ন (১৩৬৬১) : এবার রমযান মাসে একদিন মুয়াযযিন সাহেব ঘড়ি দেখে মাগরিবের আযান দিয়েছেন। তার আযান শুনে মহল্লার অনেক লোক ইফতার করে ফেলেছেন। পরে মহল্লার অন্যান্য মসজিদের আযান, রেডিওর আযান ও রোযার চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে দেখা গেল যে, বাস্তবে তারা সূর্য ডোবার আগেই ইফতার করেছিলেন। জানতে চাই, যারা ইফতার করে ফেলেছেন তাদের রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে কাযা করলেই যথেষ্ট হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৬০) : কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় একই দিনে দুজন ব্যক্তি মারা যায়। তাদের জানাযার নামায একসাথে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে কিছু মানুষ আপত্তি করে বলে যে, এক সাথে দুজনের জানাযার নামায পড়লে তা সহিহ হবে না। বরং প্রত্যেকের জানাযার নামায আলাদা পড়তে হবে। এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের জানাযার নামায পৃথকভাবে পড়া হয়। এখন আমার প্রশ্ন হল, একসাথে একাধিক মায়্যেতের উপর একবার জানাযার নামায পড়লে তা কি সহিহ হবে? নাকি প্রত্যেকের জন্য পৃথক নামায পড়তে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৫৯) : বাজারে গোল্ড মেহেদী নামে প্রচলিত এক প্রকার মেহেদী পাওয়া যায়। উক্ত মেহেদীতে এমন এক প্রকার মেডিসিন দেওয়া হয়, যার দ্বারা মাত্র পাঁচ মিনিটে পুরোপুরি রঙ হয়ে যায় এবং যখন উক্ত মেহেদী উঠানো হয় তখন শরীর থেকে আলাদা আবরণের মতো উঠে আসে। এখন প্রশ্ন হল, উক্ত মেহেদী লাগানোর পর অযু করলে অযু হবে কি?
প্রশ্ন (১৩৬৫৮) : হজ্বের সায়ী ১২ যিলহজ্বের ভিতর আংশিক বা পুরোই আদায় করতে না পারলে করণীয় কী? ১২ যিলহজের পর তা আদায় করে নিলে কি কোনো জরিমানা ওয়াজিব হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৫৭) : আমার মামার কিছু ঋণ ছিল। ঋণ রেখেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিও এতই সামান্য যে, তা দিয়ে সব ঋণ পরিশোধ হবে না। এছাড়া তার সন্তানদের পক্ষেও নিজেদের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করি তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি?
প্রশ্ন (১৩৬৫৬) : একবার মাহফিলে একজন আলেমের বয়ানে শুনেছিলাম, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি আকিদা হল, আলওয়ালা ওয়াল বারা। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা হবে শুধু মুসলমানদের সাথে। কাফেরদের সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা জায়েয নেই। আমার প্রশ্ন হল, কাফেরদের সাথে কি সব ধরনের সম্পর্ক রাখা নিষেধ? স্কুল-কলেজে আমাদের অনেক বিধর্মী বন্ধু-বান্ধব থাকে। তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা, খেলাধূলা করা কি শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম? নাকি সম্পর্কের বিশেষ কোনো প্রকারকে হারাম বলা হবে? উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।