সালাত বা নামাজ

পায়ে ব্যথা পাওয়ার কারণে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে না পারলে কি বসে নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১১৬৮১) : গাড়ি থেকে তাড়াহুড়া করে নামার সময় পড়ে গিয়ে আমার ডান পা মচকে যায়। এখন দাঁড়িয়ে নামায পড়তে গেলে বা মাটিতে সিজদা করতে গেলে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা লাগে। এক্ষেত্রে কি আমার বসে নামায পড়ার সুযোগ আছে?

নামাযে একাধিক ভুল হলেও সাহু সিজদা একবারই করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬৮০) : কখনো কখনো নামাযের মধ্যে আমার একাধিক ভুল হয়ে যায়। যেমন- সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরা পড়তে ভুলে যাই, চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি ইত্যাদি। নামায শেষে সবগুলো ভুলের জন্য একবার সাহু সিজদা আাদায় করি। আমি জানতে চাচ্ছি, একাধিক ভুলের জন্য কি একবার সাহু সিজদা আদায় করা যথেষ্ট হবে?

সাহু সিজদা আদায় করতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৯) : নামায পড়ার সময় কখনো কখনো আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। কিন্তু শেষ বৈঠকে আমি সাহু সিজদা করতে ভুলে যাই। ফলে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে কি আমার নামায আদায় হবে?

ঘরে প্রাণীর ছবি থাকলে সেই ঘরে নামায আদায় করা মাকরুহ।

প্রশ্ন (১১৬৭৮) : আমি একটি সরকারি অফিসে চাকরি করি। আমি সবসময় জামাতের সাথে নামায পড়ার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মধ্যে অফিসের কাজের ব্যস্ততার কারণে যোহরের নামায একা পড়তে হয়।তখন অফিসেই নামায আদায় করি। আর অফিসে যেখানে দাঁড়িয়ে নামায পড়ি তার বরাবর ডান দিকে বড় দুটি (মানুষের) ছবি ঝুলানো আছে। পাশে ছবি নিয়ে নামায পড়ার কারণে কি আমার নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

ওযু ছাড়া আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৬৭৭) : আমি একজন মুআযযিন। সবসময় ওযুসহ আযান দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মাঝেই ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে যায়। তাই প্রায় সময়ই ওযু ছাড়া আযান দেই। তো ‍ওযু ছাড়া আযান দিলে কি গুনাহ হবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম সাহেব না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৪) : ইমাম সাহেব আসরের নামাযের জামাতে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পেছন থেকে মুসল্লিরা লোকমা দেওয়ার পরেও তিনি বৈঠকে ফিরে আসেন নি। নামায শেষে তিনি সাহু সিজদা আদায় করেন। নামায শেষ হওয়ার পর কেউ কেউ বলল, ইমাম সাহেবের নামায হয়নি। কারণ তিনি লোকমা শোনার পরেও বৈঠকে ফিরে আসেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, মুসল্লিদের কথা কি ঠিক আছে?

সফর অবস্থায় নামায কাযা হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৩) : কয়েকদিন আগে আমি কোনো কারণে সফর অবস্থায় আসর নামায পড়তে পারিনি। জানার বিষয় হল, এখন মুকীম অবস্থায় ঐ ওয়াক্তের কাযা কীভাবে আদায় করব? দুই রাকাত আদায় করব নাকি চার রাকাত?

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়া মাকরুহে তাহরিমী।

প্রশ্ন (১১৬৫৩) : আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রত্যেক কর্মচারিকে বিড়ালের ছবিযু্ক্ত গেঞ্জি দেওয়া হয় । অফিস টাইমে আমরা সেই গেঞ্জি পড়ে থাকি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, বিড়ালের ছবিযুক্ত গেঞ্জি পরিধান করে নামায পড়লে কি নামাযের কোনো ক্ষতি হবে?

ইমাম সাহেব যেখানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়া অনুত্তম।

প্রশ্ন (১১৬৫২) : একদিন যোহরের নামাযের সময় আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব না থাকায় আমি ইমামতি করি। নামায শেষে ইমামতির জায়গায় দাঁড়িয়েই আমি নামায পরবর্তী সুন্নত আদায় করি। নামায শেষে একজন আলেম আমাকে বললেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সুন্নত আদায় করা অনুত্তম হয়েছে। সেই আলেমের কথা ঠিক আছে?

সুতরা কতটুকু বড় হওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১১৬৫১) : আমাদের মসজিদে মাঝে মাঝে মুসল্লীদের সামনে সুতরা হিসাবে পড়ার ছোট টেবিল রাখা হয়। আর এই টেবিলগুলো ১৩/১৪ ইঞ্চি উঁচু । এই টেবলগুলো দিয়ে কি সুতরার কাজ হবে? না হলে সুতরার উচ্চতা কতটুকু হওয়া জরুরি?

নাবালেগের পিছনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ নয়।

প্রশ্ন (১১৬৫০) : আমার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে হিফয বিভাগও আছে। তো রমযান মাসে ছাত্রদের ইয়াদ মজবুত করার উদ্দেশ্যে তারাবীর নামায পড়ানোর জন্য ছাত্রদের কয়েকটা গ্রুপ করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো গ্রুপে নাবালেগ ছাত্র ইমামতি করে এবং তার পিছনে বালেগ ছাত্র বা উস্তাদ ইক্তিদা করে। তো আমার জানার বিষয় হলো, নাবালেগের পিছেনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ আছে?

প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দুরুদ শরিফ পড়লে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন (১১৬৪৯) : আমি প্রায় সময়ই নামাযের প্রতম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি। কখনো দুরুদ পড়ার মাঝে আবার কখনো শেষে দাঁড়ানোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ার সাথে সাথে আমি দাঁড়িয়ে যাই। আমার জানার বিষয় হলো, ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ার কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৪৭) : মাঝেমধ্যে আমি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেলি। এর কারণে আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে? আমাকে একজন বলল, সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলানোর কারণে রুকু করতে বিলম্ব হয়েছে। তাই সাহু সিজদা করতে হবে। তার কথা কি ঠিক আছে?

সুন্নত নামায কাযা করা আবশ্যক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৩১) : আমি যোহরের নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নতে দাঁড়ানোর পর জামাত শুরু হয়ে যায়। তাই আমি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হই। নামাযের পর আর সেই সুন্নত নামাযটি পুনরায় পড়া হয়নি। এখন কি আমাকে ঐ চার রাকাত সুন্নতের কাযা করতে হবে? কারণ আমি শুনেছি, নফল ও সুন্নত নামায শুরু করলে তা ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইমাম সাহেব কেরাতে ভুল করলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৩০) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ‘লাইল’ পড়ার সময়- وَ سَیُجَنَّبُهَا الْاَتْقَی،الَّذِیْ یُؤْتِیْ مَالَهٗ یَتَزَكّٰی. আয়াতের الْاَتْقَی -এর জায়গায় الْاَشْقَی পড়ে ফেলেন এবং ওভাবেই নামায শেষ করেন। নামাযের পরে একজন আলেম বললেন, নামাযের কেরাতে ভুল হয়েছে; তাই নামায হয়নি। সুতরাং পুনরায় পড়তে হবে। ফলে নামায পুনরায় পড়া । সেই আলেমের কথা কি ঠিক আছে? পুনরায় নামায পড়া কি দরকার ছিল?

ইমাম সাহেব নামাযের মাঝে কেরাতে আটকে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬২৭) : আমি মাঝে মাঝে আমাদের এলাকার মসজিদে ইমামতি করি। নামাযে কেরাত পড়ার সময় কখনো আয়াতের মাঝে আটকে যাই, আবার কখনো পরবর্তী আয়াত স্মরণ করতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আমার করণীয় কি?

ইমাম সাহেব ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৬২৬) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেলেছেন। কিন্তু তিনি নামায শেষে সাহু সিজদা করেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, ইমাম সাহেবের সাহু ‍সিজদা না করা কি ঠিক আছে? নাকি এখানে সাহু সিজদা করা জরুরি ছিল?

জুমার খুতবার আযানের জবাব দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৬২৩) : জুমার খুতবার আজানের কি জবাব দিতে হবে নাকি হবে না? এক আলেমের কাছে শুনেছি, এই আযানের জবাব দেওয়া যাবে না। তার কথা কি ঠিক আছে? এক্ষেত্রে শরীয়ত কি বলে?

মসজিদের ভিতরে আযান দেওয়া কি মাকরুহ?

প্রশ্ন (১১৬১৯) : আমাদের দেশে সাধারণত মসজিদের ভিতরেই আযান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এবং মুআজ্জিন মসজিদের ভিতরে থেকেই আযান দিয়ে থাকেন । তো গতকাল মসজিদে একটি তাবলীগ জামাত আসে। ঐ জামাতের আমির সাহেব আমাদেরকে বলেন, মসজিদের ভেতর থেকে আযান দেওয়া মাকরূহ। তাই আযানের ব্যবস্থা মসজিদের বাহিরে করলে ভালো হয়। ঐ আমির সাহেবের কথা সঠিক?