সালাত বা নামাজ

নামাযে কাউকে সালাম দিলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৬৭) : কোনো ব্যক্তি যদি নামাযে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুধু নিজে শুনতে পায় এতটুকু আওয়াজে কাউকে সালাম দেয় বা অন্য কোনো কথা বলে ফেলে তাহলে কি তার নামায ভেঙ্গে যাবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্টি নামায কসর করতে ভুলে কি তার নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩২৫৮) : মুসাফির ব্যক্তি যদি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযে দুই রাকাত কসর না পড়ে ভুলে চার রাকাত পড়ে ফেলে তাহলে তার নামায আদায় হবে কি?

ইমাম সাহেব নামাযে কোনো ভুল করলে কী বলে লোকমা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৭) : কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলবশত যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অসুস্থতার কারণে মাথা নাড়াতে না পারলে কি চোখের ইশারায় নামায পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩২) : কিছু দিন আগে আমার নানা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। তখন তার মাথায় অপারেশন করতে হয়। এবং মাথা ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল কিছুদিন। প্রথম কয়েক দিন বিছানায় পুরোপুরি শায়িত ছিল। মাথা নাড়ানোও সম্ভব ছিল না। তাই ডাক্তার কয়েক দিন মাথা একেবারে না নাড়ানোর কথা বলেছিলেন। ফলে ঐ দিনগুলোর নামায সে পড়তে পারে নি। এখন সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল, সে যে কয়দিন পুরো শায়িত ছিল ঐ দিনগুলোর নামাযের কী হুকুম? একজন বলেছে, সে তখন মাথা নাড়াতে না পারলেও যেহেতু তার জ্ঞান ছিল তাই তার জন্য ঐ কয়দিন চোখের ইশারায় নামায পড়া জরুরি ছিল। তাই তার ঐ কয়েকদিন নামায না পড়া ঠিক হয়নি। তার এ কথা কি ঠিক? এখন কি সে ঐ কয়দিনের নামায কাযা করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

ওযরের কারণে নামাযের বৈঠকে উভয় পা একদিকে বের করে দিয়ে বসলে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১৩২২২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমার ডান পায়ে ব্যথা। চিকিৎসা করিয়েও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উক্ত ব্যথার কারণে আমি নামাযে সুন্নত তরীকায় অর্থাৎ এক পা বিছিয়ে আরেক পা দাঁড় করিয়ে বসতে পারি না। তাই উভয় পা মহিলাদের মত ডান দিকে বের করে দিয়ে মাটিতে বসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে বসার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? এবং আমার পেছনে ইকতেদা করা সহিহ হবে কি?

ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে নামায কাযা হলে তা আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩২২১) : রাত আটটায় আমার একটি সফর ছিল ট্রেনে। আর এশার নামাযের সময় হয় রাত সাতটায়। ট্রেন ছাড়ে আমার মুকিম অবস্থায়। রাস্তায় থাকার কারণে আমি সেদিন ইশার নামায আদায় করতে পারি নি। পরবর্তীতে ট্রেনে ভিড়ের কারণে নামায পড়তে পারিনি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি কাযা আদায়ের সময় কসর করব না পূর্ণ নামায পড়ব?

মহিলাদেরকে নিয়ে তারাবীর জামাত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২১৭) : আমি একজন হাফেজে কুরআন। আমার বয়স ১৫ বছর। গত রমযান মাসে আমার বোনের বাড়িতে বোনসহ তার কয়েকজন প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে আমি তারাবীর নামায পড়াই। আমি দাঁড়াতাম বাহিরে। মহিলারা থাকত পর্দার ভেতরে। উল্লেখ্য যে, বোনের বাড়িতে জামাতের আয়োজন থাকায় এমন কিছু মহিলা তারাবীর নামাযে অংশগ্রহণ করেছে যারা একাকী ফরয নামাযও পড়ে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে যেভাবেই থাকুক না কেন নামাযে আসা-যাওয়ার সময় মহিলারা যথাসাধ্য পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এভাবে দূর দূরান্ত থেকেও কিছু মহিলা জামাতে হাজির হত। পরবর্তীতে এলাকার আলেমদের মাঝে এ নিয়ে মতানৈক্য শুরু হয়। কেউ বলেন, মহিলাদের জন্য জামাতের আয়োজন করা মাকরূহ। কেউ বলেন, মাকরূহ নয়; জায়েয। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান কী? দলীল-প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ হব।

যোহরের ফরযের পূর্ববর্তী চার রাকাত সুন্নত নামায ভেঙে ভেঙে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৩) : যোহরের ফরযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত দুই রাকাত আদায় করে যদি নামাযে শরীক হয়ে যাই তাহলে নামাযের পর বাকি দুই রাকাত আদায় করে নিলেই হবে, নাকি পুনরায় চার রাকাত আদায় করতে হবে?

আদায়কৃত নামায পুনরায় আদায় করতে গিয়ে মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯০) : আমার মেধাশক্তি খুব দুর্বল। কিছু করার পর মনে থাকে না। নামায পড়েছি কি না এটাও মনে থাকে না। তাই মাঝে মাঝেই আমি নামায পড়িনি ভেবে নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। এক-দুই রাকাত পর মনে পড়ে আমি তো নামায পড়েছি। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। হুজুরের নিকট জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় এভাবে নামায ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহ হবে কি? আর এই নামাযের কাযা করতে হবে কি?

ইমাম সাহেব ভুলে সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩১৭৩) : একদিন এশার নামাযে ইমাম সাহেব ভুলবশত দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে সূরা ফাতিহার কয়েকটি আয়াত নিম্ন আওয়াজে পড়ে ফেলেন। স্মরণ হওয়ার পর পুনরায় সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়া শুরু করে। নামায শেষে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার জানার বিষয় হল, আমাদের সেই নামাযটি কি সহিহ হয়েছিল? না হলে করণীয় কি?

নামাযে ভুলে সিজদা ছুটে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১৭২) : একদিন যোহরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে একটি সিজদা ছুটে যায়। এবং নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় ছুটে যাওয়া সিজদা আদায় না করেই সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে নাকি আবার পড়ে নিতে হবে?

ওজরের কারণে শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৭১) : আমার কপালে ফোঁড়া হয়েছে। তাই আমি কপালের উপর সেজদা করতে সক্ষম না হওয়ায় শুধু নাকের উপর সেজদা করি। জানতে চাই, নাকের উপর সেজদা করার কারণে আমার নামায হয়েছে কি?

মাজুর ইমামের পিছনে নামায পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৬) : আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের বাম হাতটি অচল। তাই তাকবীরে তাহরীমার সময় তিনি শুধু ডান হাত কান পর্যন্ত ওঠাতে পারেন। বাম হাত ওঠাতে পারেন না। তবে তাকবীরে তাহরীমার পর কিয়ামে স্বাভাবিকভাবেই দুই হাত নাভীর নীচে বাঁধতে পারেন। কিছু কিছু লোক বলছে, অন্য সুস্থ ইমাম পাওয়া গেলে এই ইমামের পেছনে নামায সহিহ হবে না। সুস্থ ইমাম পাওয়া পর্যন্ত তিনি ইমামতি করতে পারবেন। তাই আমরা জানতে চাচ্ছি, উক্ত ইমামের পেছনে নামায পড়ার হুকুম কী? সুস্থ ইমাম পাওয়া যাওয়ার পর তার পেছনে নামায সহিহ হবে কি? দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মাছের রক্ত জামায় লাগলে উক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৫) : আমি একজন গৃহিণী। বাসায় বড় মাছ কাঁটতে গেলে অনেক সময় কাপড়ে মাছের রক্ত লাগে। সাধারণত এমন হলে আমি সে কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। কিন্তু একদিন ভুলবশত মাছের রক্তযুক্ত কাপড় পরেই সেদিনের আসরের নামায পড়ে ফেলি। পরে মাগরিবের সময় স্মরণ হলে সে কাপড় পরিবর্তন করি। এখন জানার বিষয় হল, আমার সেদিনের আসর নামায কি আদায় হয়েছে?

তৃতীয় রাকাতে বসার পর লোকমা শুনে দাঁড়ানোর কারণে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৪) : একদিন আমি যোহরের নামাযে ইমামতি করছিলাম। তৃতীয় রাকাতের পর চতুর্থ রাকাতের জন্য না দাঁড়িয়ে ভুলে বসে পড়ি। কিন্তু তখনি পেছন থেকে লোকমা শুনে সাথে সাথে উঠে পড়ি। বসা অবস্থায় কিছুই পড়ার সুযোগ হয়নি। এরপর সেজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? আর আমার উপর কি সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল?

ফজরের সুন্নত না পড়তে পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৫২) : আমি একদিন ফজরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পাই। তখন আমি সুন্নত না পড়েই জামাতে শরীক হয়ে যাই। নামায শেষে এক ব্যক্তি বললেন সূর্যোদয়ের পর নামায পড়ে নিও। আমি জানতে চাই ঐ ব্যক্তির কথাটি কি ঠিক?