জামায়াতে সালাত আদায়

একই ব্যক্তি ইমাম ও মুআযযিন হলে কোনো অসুবিধা আছে?

প্রশ্ন (১২০৫৯) : আমাদের এলাকার মসজিদগুলোতে সাধারণত মুআযযিন থাকে না; বরং ইমাম সাহেবই আযান দিয়ে থাকেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন? আর এক্ষেত্রে ইকামত দেবে কে? ইমাম নিজেই, না অন্য কোনো মুসল্লি? সাধরণত দেখা যায়, ইমাম যাকে বলে সে কিংবা নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্যে থেকে কোনো একজন ইকামত দিয়ে থাকে।

একাকী নামায আদায় করার সময় কি ইকামত বলতে হবে?

প্রশ্ন (১২০০৫) : আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার মাঝে মাঝেই অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে যায়। তখন আমি বাসায় এসে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি বাসায় নামায আদায় করার সময় কি ফরযের পূর্বে ইকামত বলব নাকি ইকামত ছাড়াই নামায শুরু করব?

ইমামের ইক্তিদা সম্পর্কে দুটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০০৪) : নামায সম্পর্কে আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল। ১. প্রত্যেক ওঠা-বসার সময় মুক্তাদী কি ইমামের সাতে সব তাকবীর বলবে? ২. মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাতে প্রথম বৈঠকে শরিক হলে কি তাশাহ্হুদ পাঠ করবে?

নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে কি ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৮৯২) : আমাদের মসজিদের মুআজ্জিন খুব বৃদ্ধ। তিনি গতকাল মাগরিবের সময় ওয়াক্ত হওয়ার আগেই ঘড়ি না দেখে আযান দিয়ে ফেলেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর ইমাম সাহেব তাকে পুনরায় আযান দিতে বলেন। তখন মুরুব্বী বলেন, একবার তো আযান দেওয়া হয়েছে। আবার আযান দেওয়ার কী দরকার? পরে ইমাম সাহেব নিজেই আযান দেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের দ্বিতীয়বার আযান দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

ইমাম সাহেব প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেল করণীয়।

প্রশ্ন (১১৮৯০) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। মুক্তাদীরা পেছন থেকে লোকমা দিলে ইমাম সাহেব বসে যান। তারপর নামায শেষে সাহু-সিজদা করেন। নামাযের পরে কয়েকজন মুসল্লি বলল, ইমাম সাহেবের দাঁড়ানো থেকে বসে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। এতে নামায নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি আমাদের ওই নামায নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি সহিহ হয়েছে?

সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি ইমাম হওয়ার যোগ্য হবে কি

প্রশ্ন (১১৮৪৫) : আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষটা চলছে। উক্ত ব্যক্তি এমন এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যেখানে সহশিক্ষা চালু আছে। জানতে চাচ্ছি, এমন ব্যক্তি ইমাম হওয়ার উপযুক্ত কি?

আযানের পর জবাব দেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১৮১৮) : কিছুদিন আগে মোবাইলে কথা বলছিলাম। তখন আযান শুরু হয়। তাৎক্ষণিক আযানের জবাব দিতে পারিনি। আযান শেষ হওয়ার পর জবাব দেই। জানতে চাচ্ছি, আমার কাজটি কি সঠিক হয়েছে?

ওযু ছাড়া আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৭৬৩) : আমি একটি মসজিদের মুআজ্জিন। আমি মাঝে মাঝেই ওযু ছাড়া আযান দিয়ে পরে ওযু করতে যাই। এ কারণে অনেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমি কেন ওযু ছাড়া আযাদ দেই। তো আমার জানার বিষয় হলো, ওযু ছাড়া আযান দিলে কি কোনো সমস্যা হবে?

অন্ধ ব্যক্তির আযান কি সঠিক নয়?

প্রশ্ন (১১৭৪৮) : আমাদের মসজিদের মুআজ্জিন অন্ধ। সে কয়েক বছর ধরেই আমাদের মসজিদে আযান দিচ্ছে। এবং সে সুন্নত তরীকায় আযান দেয়। এখন এলাকার কয়েকজন লোক বলছে যে, অন্ধ ব্যক্তির আযান শুদ্ধ না। তাদের কথা কি ঠিক আছে?

সামনের কাতার ফাঁকা রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরুহ।

প্রশ্ন (১১৭৪৪) : একবার আমি মসজিদে যাওয়ার পর দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। তখন আমি রুকু পাওয়ার জন্য সামনের কাতার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও তাড়াতাড়ি পিছনের কাতারে গিয়ে একা দাঁড়াই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, সামনের কাতার ফাঁকা রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরুহ। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, পিছনের কাতারে একা নামায পড়ার বিধান কী?

মুসাফির ব্যক্তি মুকিমের পিছনে ইকতিদা করলে কত রাকাত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৯) : আমার বাড়ি যশোর। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কাজে আমার ঢাকা যেতে হয়। যাত্রাপথে ড্রাইভার নামাযের বিরতি দেয়। তখন মসজিদে জামাত হলেও আমি এই ভেবে জামাতে শরিক হই না যে, ইমাম সাহেব মুকিম, তাই তিনি চার রাকাত নামায পড়াবেন। আর আমি তো মুসাফির, আমার উপর দুই রাকাত ওয়াজিব। তো আমার এই ভাবনা কি ঠিক আছে?

ওযু ছাড়া আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৬৭৭) : আমি একজন মুআযযিন। সবসময় ওযুসহ আযান দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মাঝেই ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে যায়। তাই প্রায় সময়ই ওযু ছাড়া আযান দেই। তো ‍ওযু ছাড়া আযান দিলে কি গুনাহ হবে?

ইমাম সাহেব যেখানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়া অনুত্তম।

প্রশ্ন (১১৬৫২) : একদিন যোহরের নামাযের সময় আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব না থাকায় আমি ইমামতি করি। নামায শেষে ইমামতির জায়গায় দাঁড়িয়েই আমি নামায পরবর্তী সুন্নত আদায় করি। নামায শেষে একজন আলেম আমাকে বললেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সুন্নত আদায় করা অনুত্তম হয়েছে। সেই আলেমের কথা ঠিক আছে?

নাবালেগের পিছনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ নয়।

প্রশ্ন (১১৬৫০) : আমার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে হিফয বিভাগও আছে। তো রমযান মাসে ছাত্রদের ইয়াদ মজবুত করার উদ্দেশ্যে তারাবীর নামায পড়ানোর জন্য ছাত্রদের কয়েকটা গ্রুপ করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো গ্রুপে নাবালেগ ছাত্র ইমামতি করে এবং তার পিছনে বালেগ ছাত্র বা উস্তাদ ইক্তিদা করে। তো আমার জানার বিষয় হলো, নাবালেগের পিছেনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ আছে?

ইমাম সাহেব কেরাতে ভুল করলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৩০) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ‘লাইল’ পড়ার সময়- وَ سَیُجَنَّبُهَا الْاَتْقَی،الَّذِیْ یُؤْتِیْ مَالَهٗ یَتَزَكّٰی. আয়াতের الْاَتْقَی -এর জায়গায় الْاَشْقَی পড়ে ফেলেন এবং ওভাবেই নামায শেষ করেন। নামাযের পরে একজন আলেম বললেন, নামাযের কেরাতে ভুল হয়েছে; তাই নামায হয়নি। সুতরাং পুনরায় পড়তে হবে। ফলে নামায পুনরায় পড়া । সেই আলেমের কথা কি ঠিক আছে? পুনরায় নামায পড়া কি দরকার ছিল?