নামাজ সংক্রান্ত অন্যান্য

নামাযের পরে মসজিদে শোয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৩৬) : গরমের মৌসুমে যোহরের নামায পড়ে মসজিদে অনেককেই শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কারণ এ সময়ে সাধারণত মানুষ কাজকর্ম থেকে এসে নামায পড়ে। তাই শারীরিকভাবে খুব ক্লান্ত থাকে। তাদেরকে নিষেধও করা যায় না। এখন মুহতারামের কাছে জানতে চাই, এভাবে মসজিদে শুয়ে পড়ার অবকাশ আছে কি?

কেউ বেহুঁশ থাকাবস্থায় মারা গেলে কি তার নামাযের ফিদয়া আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৭৩৫) : আমার এক নিকটাত্মীয় হাসপাতালে দু’দিন বেহুঁশ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই সময়ে তার যে নামাযগুলো ছুটে গিয়েছে সেগুলোর জন্য কি ফিদয়া দেওয়া লাগবে?

মাসবুক ব্যক্তি কি তাকবীরে তাশরীক বলবে না?

প্রশ্ন (১২৭৩৪) : আমি এ বছর আইয়ামে তাশরীকে একদিন আসর নামাযে মাসবুক হই। নামায শেষে হালকা আওয়াজে তাকবীরে তাশরীক বলি। তখন আমার পাশের এক ভাই বললেন, মাসবুকের তো তাকবীরে তাশরীক বলতে হয় না। এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

জামাতে নামাযের ক্ষেত্রে বাচ্চারা কোথায় দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৭২৮) : বড়দের জামাতে কাতারের ফাঁকে ছোট ৭/৮ বছরের বাচ্চারা দাঁড়ালে বড়দের নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? যদি ক্ষতি হয় তবে বাচ্চারা কোথায় দাঁড়াবে? বিশেষ করে যখন বড় কোনো জামাতে বাচ্চাদেরকে অভিভাবকের সঙ্গেই দাঁড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তখনই বা কী করবে?

মহিলারা কি নামাযে কব্জিসহ পুরো হাত ঢেকে রাখবে?

প্রশ্ন (১২৭২৭) : যেহেতু নামাযে মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ কোনোটিই সতরের অন্তর্ভুক্ত নয় তাই অনেক সময় উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত অনাবৃত রেখেই নামায পড়ি। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে আমাদের গ্রামের এক মহিলা বলল যে, নামাযে নাকি কব্জিসহ পুরো হাতই ঢেকে রাখতে হবে, নতুবা নামায হবে না। তার কথা কি ঠিক? এব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত করবেন।

যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত না পড়তে পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭০৮) : আমি গতকাল যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে সুন্নতে দাঁড়ানোর পর ইকামত শুরু হয় যায়। তখন আমি দুই রাকাত সুন্নত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এখন কি আমাকে ফরযের পরে নতুন করে চার রাকাত সুন্নত করতে হবে নাকি দুই রাকাত পড়লেও হয়ে যাবে?

মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে সিজদায় পেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৬৯৯) : অনেক সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদারত আছেন। তখন কেউ কেউ ওই অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়। আবার অনেকে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে উঠার অপেক্ষায় থাকে। যখন ইমাম সাহেব সিজদা থেকে দাঁড়ান, তখন নামাযে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, ইমামকে সিজদা অবস্থায় পেলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিজ নিজ নামায আদায় করলে কি স্বামীর নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৯৪) : আমি সুন্নত-নফল নামায সবসময় বাসায় পড়ার চেষ্টা করি। এ সময় কখনো কখনো আমার স্ত্রী আমার পাশে দাঁড়িয়ে তার নামায পড়ে। জানার বিষয় হল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ নামায পড়লে কি আমাদের নামায নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নামাযে হাঁচি দেওয়ার পর ভুলে আলহামদুলিল্লাহ বলে ফেললে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৯৩) : একবার সুন্নত নামায আদায় করার সময় আমার হাঁচি চলে আসে । তখন আমি ভুলে আলহামদুলিল্লাহ বলে ফেলি। জানার বিষয় হল, আলহামদুলিল্লাহ বলার কারণে আমার নামায কি নষ্ট হয়ে গেছে? নামাযে হাঁচি এলে করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নামাযে জাহান্নামের আয়াত তিলাওয়াত করার কারণে কান্না চলে আসলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২৬৮৭) : ফরয নামায পড়ানোর সময় জাহান্নামের আয়াত পড়তে গিয়ে আমার কান্না চলে আসে এবং কেরাত থেমে যায়। পরে কেরাতের বাকি অংশ শেষ করে নামায পূর্ণ করি। জানার বিষয় হল, এভাবে কান্না করার কারণে আমার নামায কি নষ্ট হয়ে গেছে? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

তাকবীরে তাহরীমা বলতে বলতে রুকুতে গেলে কি নামায শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৮৫) : একদিন আসরের নামাযে মসজিদে যেতে বিলম্ব হয়ে যায়। মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে আছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলা অবস্থায় রুকুতে শরীক হয়ে যাই। যেন ইমামকে রুকুতে পেয়ে পূর্ণ রাকাত পেতে পারি। আমার তাকবীর রুকুতে গিয়ে শেষ হয়। এ অবস্থায় আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? যদি সহিহ না হয়, তাহলে এ অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

নামাযে রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে পাশের মাসবুক ব্যাক্তিকে দেখে নামায আদায় করলে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৬৭৪) : একদিন আমি আসরের নামাযে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর বাকি নামায আদায় করতে গিয়ে কত রাকাত পাইনি তা নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পাশের মাসবুক ব্যক্তি, যে আমার সাথেই নামাযে শরীক হয়েছিল- তাকে দেখে দেখে নামায আদায় করে নিয়েছি। এভাবে দেখে দেখে নামায আদায় করাতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

সিজদায় হাতের আঙ্গুল কি মিলিয়ে রাখতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৪) : একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। নামাযের পর এক ব্যক্তি বললেন, নামাযে সিজদা অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিকভাবে রাখার নিয়ম। সিজদা অবস্থায় আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো ছিল। এটা নিয়মপরিপন্থী। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল নামাযের প্রথম বৈঠকে কি দরূদ শরীফ ও দুআ মাছুরা পড়তে হয়?

প্রশ্ন (১২৬৫৬) : মাঝে মাঝে আমি আসর ও এশার আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি। অন্যান্য নামাযের মত এ নামাযেও প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমার প্রতিবেশী বললেন, এসকল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হয়। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সানা, আউযুবিল্লাহও পড়তে হয়। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এ ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

পকেটে প্রস্রাবের বোতল নিয়ে নামায আদায় করলে কি উক্ত নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৮) : একবার প্রস্রাব পরীক্ষা করার জন্য একটি বোতলে প্রস্রাব ভরে নিয়ে ল্যাবে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি বোতলটি পকেটে রেখেই নামায পড়ে ফেলি। হযরতের কাছে জানার বিষয় হলো, প্রস্রাবের বোতল পকেটে নিয়ে নামায পড়ায় আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

ফরয নামায দাঁড়িয়ে শুরু করার পর বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৩২) : আমার কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা। তাই আমি সাধারণত বসে নামায পড়ি। একদিন এশার নামাযে ব্যাথা কিছুটা কমে। তাই মনে করলাম নামায হয়ত দাঁড়িয়ে পড়তে পারব। সে হিসেবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু নামাযের মধ্যে ব্যাথা বেড়ে যায়। ফলে বাকি নামায আর দাঁড়িয়ে পড়া সম্ভব হয়নি। বসেই শেষ করতে হয়েছে। এখন হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর ওজরের কারণে বসে পড়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬১৩) : কিছুদিন আগে যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় শেষ বৈঠকে প্রথমবার তাশাহহুদ পড়ার পর আমার সন্দেহ জাগে যে, তাশাহহুদের কিছু অংশ ছুটে গেছে। তাই আবার পুরো তাশাহহুদ পড়ি। এরপর যথানিয়মে নামায শেষ করি। এখন হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, শেষ বৈঠকে দুই বার তাশাহহুদ পড়ার কারণে আমার উপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

শেষ বৈঠকে দুরুদ পড়ার পর কোন কোন দুআ পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৬১০) : আমি নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফের পরে اللهم إني ظلمت نفسي এই দুআ পড়তাম। কিন্তু গতকাল মুআযযিন সাহেব বললেন, দরূদ শরীফের পরে এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যায় এবং এর মাধ্যমে নামাযের কোনো ক্ষতিও হয় না। কথাটি আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে। তাই হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি, দরূদ শরীফের পর এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যাবে কি না?

একই সূরা একাধিক রাকাতে পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হয়?

প্রশ্ন (১২৫৭৭) : আমি একদিন বিতর নামাযের মধ্যে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর দ্বিতীয় রাকাতেও ভুলবশত সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর নামায ছেড়ে দিয়ে আবার পুনরায় নামায আদায় করি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?