রোজা বা সিয়ামের বিধি-বিধানসমূহ

রোযার ফিদইয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৭৪) : আমার এক মেয়ে আজ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত অনেক বেশি অসুস্থ। এত বেশি অসুস্থ যে, তা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু এতটুকু বলব যে, সে যে বেঁচে আছে এটা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। মাঝখানে তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ তার বয়স যখন আঠারো ছিল মারাত্মক অসুস্থতার কারণে ওজন ১৭ তে নেমে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তাকে হাজারো মানুষের দুআয় বাঁচিয়ে রেখেছেন। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, ১৫-১৬-১৭-১৮ বয়সগুলোতে সে লাগাতার রোযা ভাঙে। এছাড়া পরবর্তীতে ডাক্তারদের অনুরোধে আরো কিছু রোযা ভাঙে। এখন তার বয়স ত্রিশ। কষ্ট করে রোযা নামায যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। সে নিজেকে সুস্থ মনে করে এ হিসেবে যে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে বৈবাহিক জীবন যাপনের তাওফীক দিয়েছেন এবং অকল্পনীয়ভাবে সন্তানের মাও বানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সে সুস্থ নয়। কারণ এমন এমন কিছু জটিল রোগ আছে, যা বাহ্যদৃষ্টিতে নিরাময় হবে বলে মনে হয় না। বরং প্রায়ই তার থেকে শাখাগত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে থাকে, বাবা! রোযাগুলোর কী হবে? সেগুলোর কি ফিদয়া দেওয়া যায় না? তাই সে কি উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

রোযা রেখে ভেঙে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬৩) : গত বছর রমযানে প্রায় এক সপ্তাহ সফরে ছিলাম। সফরের কিছুদিন রোযা রাখতে পারিনি। মুহাররাম মাসে তা কাযা করতে শুরু করি। কতদিন রোযা রাখিনি- নিশ্চিতভাবে এ সংখ্যাটি মনে ছিল না। চারদিন রোযা রাখার পর পঞ্চম দিন রোযা রাখা অবস্থায় ঘটনাক্রমে এক সাথীর সাথে দেখা হয় যে ঐ সফরে আমাদের সাথে ছিল। সে আমাকে জানালো যে, আমরা কেবল তিন দিন রোযা রাখিনি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই রোযা রেখেছি। বিষয়টি জানার পর আমি পঞ্চম দিনের রোযাটি ভেঙে ফেলি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা জরুরি। শুরু করার পর ভেঙে ফেললে এর কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও কি আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে?

রোযা রাখার পর সফর অবস্থায় তা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৩) : গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দেয়। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

ফরয রোযার কাযা করার জন্য কখন নিয়ত করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩৫) : গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একটি রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

কাযা রোযা আদায় করার জন্য কখন নিয়ত করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১১০) : গত রমযানে মাসে আমার একটি রোযা কাযা হয়েছিল। গত শুক্রবার রোযাটি কাযা করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শুক্রবার রাতে রোযা রাখার কথা আমার খেয়ালই ছিল না। পরে ঐ দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়ার আগেই রোযা রাখার কথা স্মরণ হলে রোযার নিয়ত করে ফেলি। মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার রোযাটি কি আদায় হয়েছে?

ওযু করার সময় ভুলে গলায় পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২০৬৩) : এবার রমযানে একদিন অযুতে কুলি করার সময় ভুলে গলা দিয়ে পানি ঢুকে যায়। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ কারণে আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

কাযা আছে মনে করে ভেঙ্গে ফেললে কাযা করতে হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৯) : গত রোযায় আমার ৪টি রোযা কাযা হয়। কিন্তু আমি মনে করি যে, আমার ৫টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই ৪টি রোযা কাযা করার পর ৫ম টিও শুরু করি। সকালের কিছু অংশ যাওয়ার পর নিশ্চিত হই যে আমার ৪টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই তৎক্ষণাৎ তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, উক্ত রোযা শুরু করার পর ভেঙে ফেলার কারণে আমাকে কি এর কাযা করতে হবে?

অগ্রিম ফিদয়া দিলে আদায় হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৫) : আমার নানি বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম। তার সুস্থতার কোনো আশা নেই। তার রোযার ফিদয়াগুলো অগ্রিম দেওয়া যাবে কি?

রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১১৭৪৯) : আলহামদুলিল্লাহ, বুঝ হওয়ার পর থেকে আমি কখনো রোযা ভাঙিনি। এই রমযানে আমার ছোট বোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমি তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেই। তখন এক ব্যক্তি আমাকে বলল, রক্ত বের হলে যেমন ওযু ভেঙে যায়, তেমনি রোযাও ভেঙে যায়। কিন্তু আমি সেদিনের রোযা ভাঙিনি। আমার জানার বিষয় হলো, রক্ত দিলে কি রোযা ভেঙে যায়?

ভুলে পানাহার করলে রোযা ভাঙে না।

প্রশ্ন (১১৭৪৫) : গত রমযানে একদিন ওযু করার সময় ভুলে পানি পান করে ফেলি। তখন আমি রোযা ভেঙে গেছে মনে করে দিনের বাকি সময় স্বাভাবিক পানাহার করি। তো ইচ্ছাকৃত পানাহার করার কারণে কি আমার উপর ঐ রোযার কাযা-কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে নাকি শুধু কাযা্ আদায় করলেই হবে?

সফর অবস্থায় রোযা কাযা করে মারা গেলে কি ঐ রোযার ফিদইয়া দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৫৬১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাবা বৃদ্ধ ছিলেন। গত রমযানের শুরুতে তিনি ব্যবসার কাজে পাঁচ দিনের জন্য ঢাকা থেকে রাজশাহী সফরে যান। যেহেতু সফরে রোযা না রাখার অনুমতি আছে এবং শারীরিকভাবেও তার কিছুটা দুর্বলতা ছিল, তাই তিনি তিনটি রোযা রাখেননি। চতুর্থ দিন রোযা রাখেন এবং সেদিন তারাবীহের নামাযের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এ রাতেই সফরে থাকা অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। যেহেতু তিনি তিনটি রোযা রাখেন নি এক্ষেত্রে কি তিন দিনের রোযার ফিদইয়া দিতে হবে? যদি দিতে হয়, তাহলে এক রোযার পরিবর্তে কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে?

রমযানে কোনো কারণে রোযা ভেঙে গেলে বাকি দিন কি পানাহার বন্ধ রাখবে?

প্রশ্ন (১১৫১৭) : আমি একটি মাসআলার কিতাবে পড়েছিলাম যে, রমযান মাসে কোনো কারণে কারো রোযা ভেঙে গেলে বাকি দিন তার জন্য পানাহার করা জায়েয নয়। বাকি দিন তার জন্য রোযাদারের মতো পানাহারবিহীন থাকা ওয়াজিব। কিন্তু প্রশ্ন হল, রোযাবস্থায় কোনো মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে সেও কি দিনের বেলা বাকি সময় কিছু না খেয়েই থাকবে?

শাওয়ালের ছয় রোযার বিধান ও ফজিলত

প্রশ্ন (১১৪৭০) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রমজান পর শাওয়াল মাসে যে ছয়টা রোজা রাখা হয় সেটা কি সুন্নত নাকি নফল? এটা রাখা কতোটা প্রয়োজন? বিস্তারিত জানতে চাই।

কোনো ব্যক্তি কি অন্য কারো পক্ষ থেকে রোজা আদায় করে দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১১৪৬৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোনো ব্যক্তি কি দুইজন অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখার নিয়ত করতে পারবে? পারলে সেক্ষেত্রে দুইজনের কাছ থেকেই কি ফিদিয়া নিতে পারবে ? দয়া করে জানাবেন।

দ্বীনের বুঝ না থাকায় ভাঙ্গা রোযার কাফফারা কয়টি দিতে হবে

প্রশ্ন (১১২৫১) : আগে আমার দ্বীনের বুঝ ছিল না। সেসময় ইচ্ছাকৃত অনেক রোযা ভেঙ্গেছিলাম। এখন সেগুলো কাযা করতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল, আমার কাফফারা কয়টি দিতে হবে?