আযান ও ইকামত

কোনো কারণে নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২৫৯৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে একদিন অযু ছাড়া নামায পড়ান। সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ হয়। তখনই তিনি মুআজ্জিন সাহেবকে বলেন, তুমি আবার নামায পড়িয়ে দাও। তখন মুআজ্জিন সাহেব নামায পড়ালেন। কিন্তু পুনরায় ইকামত দেওয়া হয়নি। এটা কি ঠিক হয়েছে?

নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৪২) : কিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়। নার্সরা নাতিকে আমাদের কোলে দেওয়ার পর তার কানে আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। ঠিক তখনই যোহর নামাযের আযান হয়। আমরা মসজিদের আযানই যথেষ্ট মনে করে পুনরায় তার কানে আর আযান দেইনি। জানার বিষয় হল, মসজিদের আযানের দ্বারা কি নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সুন্নাত আদায় হয়ে যায়? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ঘোরানোর নিয়ম আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

শেষ রাতে নফল নামাযে দাঁড়ানোর পর ফজরের আযান হয়ে গেলে উক্ত নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৫) : শেষ রাতে উঠে কয়েক রাকাত নফল আদায় করছিলাম। আমার ধারণা, তখনো ভোর হবার কিছু সময় বাকি। কিন্তু নামাযে দাঁড়ানোর পরপরই ফজরের আযান শুনতে পেলাম। এখন কি আমার এ দুই রাকাত নামায ফজরের দুই রাকাত সুন্নত হিসেবে আদায় হয়েছে বলা যাবে?

ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেওয়া ঠিক যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৫) : একদিন মুয়াযযিন সাহেব ভুলবশত মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিয়ে ফেলেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর আমার আব্বা তাকে পুনরায় আযান দিতে বলেন। তিনি বললেন, একবার তো আযান দেওয়া হয়েছে। আবার পুনরায় কেন আযান দেওয়া লাগবে? পূর্বের আযানই যথেষ্ট। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানালে উপকৃত হব।

একাকী নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কি আযান দিয়ে নেওয়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২৩২২) : আমি যে এলাকায় থাকি সেটা খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই। পার্শবর্তী এলাকায় যেখানে মসজিদ আছে ওখানকার আযানের শব্দ এখানে পৌঁছে না। এ অবস্থায় সাধারণত দু-চারজন একত্র হয়ে জামাতে নামায আদায় করলে আমরা আযান দিয়ে নিই। প্রশ্ন হল, যদি একাকী নামায পড়ি তাহলেও কি আযান দিয়ে নামায পড়া জরুরি? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

আযান ইকামত কি একই ব্যক্তি দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৩০০) : আমাদের মাদরাসার মসজিদের জন্য মুআযযিন নির্ধারিত আছে। মুআযযিন ঐ মাদরাসারই ছাত্র। সাধারণত মুআযযিনই আযান দেন। কিন্তু ইকামতের সময় অনেক সময় মাদরাসার মুহতামিম সাহেব ইকামত দেন। প্রায় ২/৩ ওয়াক্তে তিনিই ইকামত দেন। এটা নিয়ে কিছু মুসল্লী কানাঘুষা শুরু করে। জানার বিষয় হল, একজনে আযান দেওয়া অন্যজনে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?

জুমার খুতবা না শুনতে পারলে কি জুমার নামায হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৬) : অনেক সময় আমার জুমার জন্য প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রস্তুত হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখি খুতবা শেষ হয়ে গেছে। নামাযের ইকামত হচ্ছে। আমার জানার বিষয় হল, খুতবা ছাড়া আমার উক্ত জুমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

অফিসে বা ঘরে জামাত করার জন্য কি মসজিদের আযান যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৩) : আমাদের অফিসে নামাযের জন্য ভিন্ন জায়গা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জামাত হয়। কিন্তু আযান দেওয়া হয় না। শুধু ইকামত দিয়ে নামায শুরু করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে মহল্লার আযান কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? নাকি পৃথকভাবে আযান দেওয়া লাগবে?

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

আযান শেষে কি একসাথে আযানের জবাব দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২১৭৯) : আমি মোবাইলে কথা বলছিলাম। এর মধ্যে আযান শুরু হয়ে যায়। কথা বলা শেষ না হওয়াতে আযানের জবাব দিতে পারিনি। প্রশ্ন হল, কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে যদি আযান চলাকালীন আযানের জবাব দেয়ার সুযোগ না হয় তাহলে কি আযান শেষ হওয়ার পর জবাব দেওয়া যাবে?

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৭০) : আমাদের এলাকায় মসজিদে জুমার দিন বয়ানের পর দ্বিতীয় আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদের মিম্বার থেকে মসজিদের দানকৃত পণ্যসমূহের নিলাম বিক্রি করা হয়। এভাবে মসজিদের ভেতর ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নাবালেগ ছেলে আযান দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৪) : আমাদের মসজিদে একটি নূরানী মকতব আছে। মাঝে মাঝে মুআযযিন সাহেব না থাকলে মকতবের ছেলেরা আযান দেয়। যাদের বয়স আট থেকে দশ বছর। এসকল নাবালেগ ছেলেরা আযান দিলে কোনো অসুবিধা আছে কি না? জানানোর অনুরোধ রইল।

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদের বাহিরে গিয়ে আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৪৩) : আমি মসজিদের মুআযযিন। গত রমযানে মসজিদে ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফের সময়ও আমাকে আযান দিতে হত। আযান দেওয়ার স্থানটি মসজিদের একটু বাইরে একটা রুমে। মসজিদ থেকে একটু বের হয়ে সেখানে যেতে হয়। এক ভাই আমার এ অবস্থা দেখে বললেন, আমার মসজিদ থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়ে আযান দেওয়া বৈধ হয়নি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মসজিদের বাইরে কামরায় গিয়ে আযান দেওয়ার কারণে কি আমার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে?

কুরআন তিলাওয়াতের সময় আযান হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১২৩) : আমি কুরআন মাজীদ হিফজ করেছি। দুপুর ও সন্ধ্যায় নিয়মিত তিলাওয়াত করি। কোনো কোনো সময় তিলওয়াত করা অবস্থায় আযান শুরু হয়। শুনেছি এসময় আযানের জবাব দিতে হয় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, তিলাওয়াতকালে আযান শুরু হলে কি করা উচিত? তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, নাকি আযানের জবাব দেওয়া?

ভুলে সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১১৯) : আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

নামাযের মাঝে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে আবার নামায শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২০৮৩) : আমি আমাদের মাদরাসা মসজিদে ইমাম সাহেবের পেছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, আমরা নিয়ত ছেড়ে দিই। তাই মুসল্লিরা সবাই নিয়ত ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি একজন ছাত্রকে নামায পড়ানোর জন্য বলে ওযু করতে চলে যান। পরে ঐ ছাত্র তখনই পুনরায় নামায পড়িয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়বার জামাত করার সময় ইকামত দেওয়া হয়নি। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত না দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আযান দিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬০) : আমাদের এলাকর মসজিদে আমি একদিন এশার আযান দেই। আযানের পর জানতে পারি, এশার ওয়াক্ত এখনো হয়নি। ওয়াক্ত হওয়ার পর লজ্জায় দ্বিতীয়বার আযান দিইনি। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আযান দিলে কি পুনরায় আযান দিতে হয়? লজ্জার কারণে পুনরায় আযান না দেওয়া কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

একই ব্যক্তি ইমাম ও মুআযযিন হলে কোনো অসুবিধা আছে?

প্রশ্ন (১২০৫৯) : আমাদের এলাকার মসজিদগুলোতে সাধারণত মুআযযিন থাকে না; বরং ইমাম সাহেবই আযান দিয়ে থাকেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন? আর এক্ষেত্রে ইকামত দেবে কে? ইমাম নিজেই, না অন্য কোনো মুসল্লি? সাধরণত দেখা যায়, ইমাম যাকে বলে সে কিংবা নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্যে থেকে কোনো একজন ইকামত দিয়ে থাকে।

একাকী নামায আদায় করার সময় কি ইকামত বলতে হবে?

প্রশ্ন (১২০০৫) : আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার মাঝে মাঝেই অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে যায়। তখন আমি বাসায় এসে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি বাসায় নামায আদায় করার সময় কি ফরযের পূর্বে ইকামত বলব নাকি ইকামত ছাড়াই নামায শুরু করব?

আযান দিতে গেলে কি ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে

প্রশ্ন (১১৯২৭) : আমি একজন মুয়াযযিন। এবার আমার মসজিদে আমি ইতিকাফে বসেছিলাম। আযান দেওয়ার সময় মসজিদ থেকে বের হতাম। যেহেতু আযানঘর মসজিদ সংলগ্ন বাহিরের একটি কামরায়। জানতে চাচ্ছি, এতে কি আমার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গিয়েছে?