মৃত ব্যক্তির ইসালে সওয়াবের জন্য কুরবানী করলে কি উক্ত কুরবানী গোশত সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৮৫৭) : আমি কুরবানীর সময় আমার কুরবানীর সাথে আমার মরহুম বাবার পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হলো, এ কুরবানীর গোশত কি সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৮৫৭) : আমি কুরবানীর সময় আমার কুরবানীর সাথে আমার মরহুম বাবার পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হলো, এ কুরবানীর গোশত কি সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৭৩৯) : অনেক আলেমকে দুআর সময় বলতে শুনি, হে আল্লাহ! অমুকের রূহের মাগফিরাত করুন। আসলে ‘অমুকের রূহের মাগফিরাত করুন’ হবে, নাকি ‘হে আল্লাহ! অমুককে মাফ করে দিন’ কোনটি সঠিক?
প্রশ্ন (১৩৬৬৭) : গত বছর আমার বাবা একবার বিপদে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি বাবাকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বাবা তার নামে একটি কুরবানী দিয়ে করেন। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির নামে বাবা যে কুরবানী করেছেন তা থেকে কি আমরা খেতে পারবো, নাকি পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৬৫৭) : আমার মামার কিছু ঋণ ছিল। ঋণ রেখেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিও এতই সামান্য যে, তা দিয়ে সব ঋণ পরিশোধ হবে না। এছাড়া তার সন্তানদের পক্ষেও নিজেদের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করি তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি?
প্রশ্ন (১৩৬২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই এই কথা বলে যে, মৃত ব্যক্তিকে যদি কবরে কেবলার দিক ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে শোয়ানো হয় এটা তার ঈমানবিহীন মৃত্যুর আলামত। এ কথার ভিত্তি কী?
প্রশ্ন (১৩৬০৫) : আমাদের চাচা মারা মারা যাওয়ার পর তার ছেলে তার নখ কেটে দেয়। জানার বিষয় হলো, মৃতব্যক্তির নখ কাটা জায়েয হয়েছে কি? এমনিভাবে মৃতব্যক্তির গোঁফ চুল ইত্যাদি কাটা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১৩৫৯৯) : মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ানোর ক্ষেত্রে কে বেশি হক্বদার? মৃতের ওলি না মহল্লার ইমাম? জনৈক আলেম বলেছেন, মসজিদের ইমামই নাকি বেশি হক্বদার কথাটা কতটুকু ঠিক? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১৩৫৯৬) : কিছুদিন আগে আমার প্রতিবেশী মারা যায়। তাকে কবর দেওয়ার সময় আমি এবং অন্য দুজন কবরে নামলাম। আমরা মাইয়েতকে কবরে রেখে উপরে বাঁশ দিয়ে দিয়েছি। তখন একজন আলেম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, লাশ কিবলামুখী করা হয়েছে কি? আমরা বললাম, না। এরপর তিনি বাঁশ সরিয়ে মাইয়েতকে পুরোপুরি ডান দিকে কাত করে দিলেন। এখন জানার বিষয় হলো, আমরা মাইয়েতকে কবরে রেখে বাঁশ দিয়ে দেওয়ার পর উক্ত ব্যক্তির পুনরায় তাকে ডান দিকে ফিরিয়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?
প্রশ্ন (১৩৪৭৩) : আমার মামা দুই বছর আগে মারা গেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু রোযা রাখেননি। তার মৃত্যুর পর আমার খালারা কি এখন তার অনাদায়ী রোযাগুলো রাখতে পারবে? রাখলে কীভাবে রাখবে? কারণ আমরা জানি, ইচ্ছাকৃত একটি রোযা ভাঙলে একটানা ৬০টি রোযা রাখতে হয়। রোযার কাযা করা অবস্থায় ১দিন ছুটে গেলে তা কি আবার শুরু থেকেই রাখতে হবে? আর রোযা কি ১টির বদলে ৬০টি রাখতে হবে নাকি ১টি রাখলেই হবে?
প্রশ্ন (১৩৪২৮) : আমার নানা ঢাকায় থাকতেন। তিনি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। এবং কয়েক দিন সেখানে থেকে আসতেন। তার খুব আশা ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। তো তার ইন্তিকালের পর তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুব্বি হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। তাই তাকে সিলেটে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে কি?
প্রশ্ন (১৩৪২৬) : বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কেউ মারা গেলে হাফেজ সাহেব ডেকে এনে কুরআন খতম করিয়ে টাকা দেওয়া হয়। জানতে চাচ্ছি, এটি কি জায়েয?
প্রশ্ন (১৩৩৭০) : আমাদের এলাকায় একবার জানাযার নামাযের পর মায়্যেতের পরিবারের এক মুরুব্বিকে দেখলাম, ছোট্ট একটি কাপড়ের টুকরোতে لا إله إلا الله محمد رسول الله، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله লিখে মায়্যিতের কাফনে এঁটে দিলেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত? শরীয়তে কি এর কোনো ভিত্তি আছে?
প্রশ্ন (১৩৩৬৭) : আমার দাদীর এ পরিমাণ সম্পদ ও জমি ছিল যার একাংশ বিক্রি করে তিনি হজ্ব করতে পারতেন। কিন্তু তিনি হজ্ব করেননি। চাচাকে এ ব্যাপারে বুঝালে তিনি দাদীর পক্ষ থেকে হজ্ব করতে রাজি হলেন। পরে চাচা বললেন, আম্মা আমাকে তো এ ব্যাপারে কিছু বলে যায়নি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, অন্য কাউকে দিয়ে দাদীর পক্ষ থেকে বদল হজ্ব করালে কি তা আদায় হবে?
প্রশ্ন (১৩৩২৮) : আমাদের এক প্রতিবেশী ঢাকায় বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাযা ও দাফনের জন্য তাকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সবাই মনে করেছিল, ঢাকা থেকে তাকে গোসল করিয়ে আনা হয়েছে। তাই তারা তার গোসল না করিয়ে জানাযা পড়ে ফেলে। হঠাৎ তার এক আত্মীয় বলল, তাকে তো ঢাকা থেকে গোসল করিয়ে আনা হয়নি। তখন এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এখন মাইয়েতকে গোসল করিয়ে পুনরায় তার জানাযা পড়তে হবে। পরে তাই করা হয়েছে। এখন জানতে চাই, ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক? আমাদের জন্য কি ঐ ব্যক্তির জানাযা পুনরায় পড়া আবশ্যক ছিল? এমনটি হলে কী করণীয়?
প্রশ্ন (১৩১০৯) : বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ওয়ারিশসূত্রে ২০০০০/- টাকা ও ১৬ শতাংশ জমি পাই। সকল টাকা-পয়সা জায়গা-জমি ঠিক পেয়েছি। তবে একটি জমি নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়, আব্বু আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। তবে আমাদের এক চাচা থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারি। আব্বু জীবিত থাকতেই জমিটি একজনের কাছে বন্ধক দিয়ে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। পরে এক উপযুক্ত খরিদ্দার পেয়ে ঋণদাতার সাথে এভাবে কথা হয় যে, ‘আমি অমুক তারিখের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করে দেব। আমাকে জমিটি এখনি বিক্রি করার জন্য দখলমুক্ত করে দেন।’ সে এতে রাজি হয় এবং আব্বু জমিটি বিক্রি করে দেন। কিন্তু আব্বু মৃত্যুর পূর্বে ঐ ঋণ পরিশোধ করেননি। আব্বু এ ব্যাপারে কোনো অসিয়তও করে যাননি। এখন হযরতের কাছে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানার আছে- ১. আব্বুর এ ঋণ পরিশোধ করা আমাদের জন্য জরুরি কি? ২. ঋণ আদায় করলে আমরা জমিটির মালিক হব কি? ৩. অন্যের কাছে বন্ধক রাখা অবস্থায় জমিটি বিক্রি করা আব্বুর জন্য ঠিক হয়েছে কি? এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১৩০৬২) : কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি অনেক টাকা ঋণী হয়ে যান। এলাকার এক লন্ডনপ্রবাসী চাচ্ছেন, নিজের যাকাতের টাকা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে দিতে। জানার বিষয় হল, যাকাতের টাকা দিয়ে মরহুম ইমাম সাহেবের ঋণ পরিশোধ করে দিলে ঐ ব্যক্তির যাকাত আদায় হবে কি?
প্রশ্ন (১৩০২২) : আমাদের এলাকায় লাশ দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। আমার জানার বিষয় হল, এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত? এ সংক্রান্ত সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৮৬৪) : জনৈক আলেম তিরমিযী শরিফে বর্ণিত- إِيّاكُمْ وَالنّعْيَ، فَإِنّ النّعْيَ مِنْ عَمَلِ الجَاهِلِيّةِ.‘মৃত্যু-সংবাদ উচ্চস্বরে প্রচার থেকে বিরত থাক’- হাদিসটিসহ অনেক সাহাবী তাদের মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করেছেন মর্মের হাদিসগুলো দিয়ে মৃত্যু সংবাদ উচ্চস্বরে বা মাইকে প্রচার করতে নিষেধ করেন। আর বুখারিতে বর্ণিত বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যুর খবর নবীজী দিয়েছিলেন- হাদিসটি তিনি সাধারণভাবে ফোনে বা মৌখিকভাবে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর উপর প্রয়োগ করেন। সত্যি কি মৃত্যু-সংবাদ উচ্চস্বরে বলা বা মাইকিং করা নিষেধ? তিরমিযীতে বর্ণিত হাদিস এবং সাহাবীদের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত আছার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৮৪৪) : আমরা জানি যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। আবার প্রত্যেক ব্যক্তির জান আজরাইল (আ.)-ই কবজ করেন, তাহলে আত্নহত্যা করা মহাপাপ কেন?
প্রশ্ন (১২৭৫৯) : মৃতব্যক্তির পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে মানুষজন বিভিন্ন ধরনের কথা বলে। কেউ বলে, গোসল দেওয়ার পূর্বে মৃতব্যক্তি নাপাক তাই সেখানে কুরাআন তিলাওয়াত করা যাবে না। কেউ বলে, মনে মনে তিলাওয়াত করা যাবে। কেউ বলে, জোরে তিলাওয়াত করাও জায়েয। আমি জানতে চাচ্ছি, মৃত ব্যক্তির পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াতের হুকুম কী? দলীল-প্রমাণ উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।