বাড়ি বানানোর জন্য টাকা সঞ্চয় করলে উক্ত টাকায় কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৫১১) : আমার বসবার উপযুক্ত কোনো বাড়ি নেই। তাই আমি বাড়ি বানানোর জন্য কিছু টাকা সঞ্চয় করেছি। আমি যে পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করেছি তা দিয়ে আমার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে হজ্ব করলে আমি আর বাড়ি বানাতে পারব না। আমি জানি যে, বাড়ি হল, হাজতে আসলিয়া অর্থাৎ মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হবে? ফরয হলে হাজতে আসলিয়ার অর্থ কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

হজ্বে মাথা মুন্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৭২) : ইহরাম ত্যাগ করার সময় হলক তথা মাথা মুণ্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা কি জায়েয? কেউ যদি এমনটি করে তবে কি তার উপর কোনো জরিমানা আসবে?

নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬১) : আমি ছোট থেকেই আমেরিকায় বড় হয়েছি। বিয়ের পরেও স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে আমি দ্বীনের পথে ফিরে আসি। কিন্তু আমার স্বামী তা মেনে নেয় না। তাই এক পর্যায়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বর্তমানে আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে শুধু আমার মা ও ছোট বোনেরা থাকে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্পদ দান করেছেন। এখন আমি হজ্ব করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই। আমি কি একাকী হজ্ব করতে পারব?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৪৪) : আমাদের কাফেলার কয়েকজন মুযদালিফা থেকে মিনায় না গিয়ে সরাসরি মক্কায় চলে গেছে। মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করেছে। অথচ তারা কংকর মারেনি, হালালও হয়নি। জানার বিষয় হলো, এ কারণে তাদের কি দম দিতে হবে? তাদের এ তাওয়াফে যিয়ারত কি আদায় হয়েছে?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৯) : এ বছর আমি ও আমার স্ত্রী হজ্ব করেছি। হজ্বের সময় ১০ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে ক্লান্ত থাকায় ঐ দিন তাওয়াফে যিয়ারত করিনি। ইচ্ছা ছিল পরের দিন আমরা তাওয়াফ করব। কিন্তু সেদিন রাতেই আমার স্ত্রীর স্রাব শুরু হয়ে যায়। প্রতিমাসের ন্যায় আট দিন তার স্রাব চলে। তার স্রাবের সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা মদীনায় চলে যাই। মদীনায় অবস্থান করার পর ফ্লাইট বিড়ম্বনার কারণে মক্কায় এসে মাত্র চারদিন অবস্থান করি। এ সময় আমার স্ত্রী পবিত্র ছিল। তাই সে তাওয়াফে যিয়ারত করে নেয়। এরপর আর কোনো তাওয়াফ করিনি। দেশে আসার পর একজন আলেম বললেন, আপনার স্ত্রীর দম দিতে হবে। প্রশ্ন হল, আমার স্ত্রীর হজ্ব কি হয়েছে? এবং তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে কি? যদি দম ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে এখন আমাদের কী করণীয়?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৬) : আমি আমার বাবার মিরাস থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ পেয়েছি। এই সম্পদ দিয়ে আমার হজ্বে যাবতীয় খরচ বহন করা সম্ভব। আর এ সম্পদ আমার প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে অতিরিক্ত। কিন্তু আমার মাহরাম পুরুষদের কারো হজ্ব করার সামর্থ্য নাই। এমতাবস্থায় আমার জন্য হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

বদলী হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৩৯৩) : অনেক আগে থেকেই আমার হজ্ব করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু টাকা জমা করতে না পারায় হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না। এ বছর হজ্বের অর্ধেক টাকা তথা ২ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আমার এক বন্ধু এটা জানতে পেরে আমাকে বলল, তুমি আমার বৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করবে। হজ্বের বাকী অর্ধেক টাকা তথা দুই লক্ষ টাকা আমার বাবা তোমাকে দিবে। তিনি নিজে হজ্ব করতে অক্ষম। বর্তমানে একেবারে শয্যাশায়ী।’ তাই জানতে চাচ্ছি, এভাবে নিজের অর্ধেক এবং অন্যের অর্ধেক টাকা দিয়ে তার বদলী হজ্ব করা যাবে কি?

ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কাউকে দিয়ে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করালে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৬৭) : আমার দাদীর এ পরিমাণ সম্পদ ও জমি ছিল যার একাংশ বিক্রি করে তিনি হজ্ব করতে পারতেন। কিন্তু তিনি হজ্ব করেননি। চাচাকে এ ব্যাপারে বুঝালে তিনি দাদীর পক্ষ থেকে হজ্ব করতে রাজি হলেন। পরে চাচা বললেন, আম্মা আমাকে তো এ ব্যাপারে কিছু বলে যায়নি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, অন্য কাউকে দিয়ে দাদীর পক্ষ থেকে বদল হজ্ব করালে কি তা আদায় হবে?

৯ যিলহজ্ব রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৩৬৬) : এ বছর হজ্বের সময় ৯ যিলহজ্ব মাগরিবের পর আমরা আরাফা থেকে হেঁটে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। এক জায়গায় এসে আমীর সাহেব বললেন, রাতে আমরা এখানেই অবস্থান করব। হজ্বের পরে জানতে পারলাম যে, রাতে আমরা যে জায়গায় অবস্থান করেছি তা মুযদালিফার বাইরে ছিল। আমীর সাহেবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা জরুরি নয়। সকালে ফজরের পর কিছু সময়ের জন্য মুযদালিফায় অবস্থান করাই যথেষ্ট। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমীর সাহেবের এ কথা কি ঠিক? এছাড়া সকালেও আমরা মুযদালিফায় অবস্থান করিনি। বরং মুযদালিফার উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে তা অতিক্রম করে গিয়েছি। এভাবে কি আমাদের মুযদালিফায় অবস্থানের ওয়াজিব আদায় হয়েছে? আর এ কারণে আমাদের উপর কোনো জরিমানা আসবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় উকুন মারলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৫২) : আমি যখন চুল আঁচড়াই তখন আমি খুব উকুন মারি। ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ- এ মাসআলা আমি জানতাম না। হজ্বের পর এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা করতে গিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম, ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ। কিন্তু আমি হজ্বের পাঁচ দিনেও তো অনেক উকুন মেরেছি। সে বলেছিল, আমার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু আমি তো হজ্ব শেষ করে দেশে ফিরে এসেছি। এখন এ দম কীভাবে আদায় করব। দম কি মক্কা শরীফ থাকতেই দিতে হয় নাকি পরে দেশে এসে আদায় করা যায়?

ভাড়া বাড়ি থেকে প্রাপ্ত টাকার উপর কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৩৫) : আমার একটি তিন তলা বাড়ি আছে। বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় আমি আমার পরিবারসহ থাকি। বাকি দুই তলা ভাড়া দেয়া আছে। সেগুলোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৩২,০০০/- টাকা পাই। এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। মাস শেষে কখনো কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে। কখনো থাকে না। এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হয়েছে?

ইদ্দতের ভেতর হজ্ব পালন করলে কি উক্ত হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১০) : গত বছর আমি হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। মাহরাম হিসেবে আমার বড় ভাই আমার সাথে থাকবে। তো ফ্লাইটের কয়েকদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করে। তখন অনেকেই আমাকে হজ্বে না গিয়ে বাড়িতে থেকে ইদ্দত পালন করতে বলে। আমি তাদের কথা না শুনে নির্দিষ্ট তারিখে হজ্বের সফরে চলে যাই। জানার বিষয় হল, এভাবে ইদ্দতের ভেতর হজ্ব করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? আর আমার হজ্ব কি আদায় হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

মিরাসী সম্পদ বণ্টন হওয়ার আগে কি ওয়ারিশদের উপর হজ্ব ফরজ হবে?

প্রশ্ন (১৩২৯২) : আমার এক চাচা চার সন্তান রেখে মারা যায়। তার মিরাসী সম্পত্তি সন্তানদের মাঝে বণ্টন করলে প্রত্যেকের উপর হজ্ব ফরজ হবে। কিন্তু পারিবারিক জটিলতার কারণে এখনো সম্পদ বণ্টন করা হয়নি। এখন জানার বিষয় হল এ মুহূর্তে তাদের উপর হজ্ব ফরজ হবে কি?

ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত লুঙ্গি পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৮৪) : আমি এ বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছি। শুনেছি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত কাপড় পরা যায় না। আমি সবসময় প্যান্ট ও পায়জামা পরে অভ্যস্থ। তাই সেলাই ছাড়া লুঙ্গি পড়ে থাকাটা আমার জন্য খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। জানতে চাই, ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত লুঙ্গি পরে থাকলে কি খুব বড় কোনো সমস্যা হয়ে যাবে?

মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৮) : এক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেছেন, কিন্তু মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধেননি। আবার আইনী জটিলতার কারণে মীকাতে ফিরে এসেও ইহরাম বাঁধতে পারেননি। প্রশ্ন হল, এই অবস্থায় হজ্বের ইহরাম তিনি কোত্থেকে বাঁধবেন? উক্ত ওজরের কারণে মীকাতের ভিতরে ইহরাম বাঁধলে তার উপর দম আসবে কি?

হজ্বের জন্য টাকা জমা করলে কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২১৯) : আমি হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ৩ লক্ষ টাকা জমা করেছি। আমার ভিসার কাগজপত্রে সমস্যার কারণে এ বছর হজ্বে যাওয়া হয়নি। আগামী বছর যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার জানার বিষয় হল, বছর অতিবাহিত হলে হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি?

হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করে টাকা খরচ করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৫) : কোনো ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হওয়ার পর সে তা আদায় করল না। এভাবে বিলম্ব করার পর একসময় তার সম্পদ খরচ হয়ে গেল। এবং তার ঐ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকল না, যা দ্বারা তার উপর হজ্ব ফরয হয়। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী?

মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করলে কি ওমরাহ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬৪) : কিছুদিন আগে আমি আমার বয়স্ক চাচাতো ভাই ও চাচীর সাথে ওমরার সফরে গিয়েছিলাম। যেহেতু চাচী সার্বক্ষণিক সাথেই থাকবেন এবং ছিলেনও, তাই ভেবেছি চাচাতো ভায়ের সাথে সফর করতে দোষ নেই। তাছাড়া অনেকে এমনটা বলেছিলো। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া আমার ভাগিনা বলেছে আমাদের সফর করা ঠিক হয়নি। আবার কিছু কিছু লোক বলেছেন কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টা দলীলসহ জানতে চাই?

বদলী হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩১১৭) : আমার বাবার উপর হজ্ব ফরয ছিল। তাই তিনি হজ্বের ইরাদা করেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এভাবে দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ায় আব্বা সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে আমাদেরকে বদলী হজ্ব করার ওসিয়ত করেন। এ ঘটনার কিছুদিন পরই আব্বা ইন্তিকাল করেন। আব্বার রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ প্রায় ৩,৬০,০০০/- (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকার মত হয়। কিন্তু এ টাকা দিয়ে বর্তমানে কাউকে হজ্বে পাঠানো যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কেউ যদি স্বেচ্ছায় এ টাকার সাথে আর (বাকি) সামান্য টাকা নিজে বহন করে বদলী হজ্ব করে তাহলেও হয়ে যাবে। এ আলোচনার সময় ইমাম সাহেবের সাথে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন এ কথা শুনে এগিয়ে এসে নিজ থেকেই বলে যে, আপনি যদি ৩,৬০,০০০/- টাকা দেন তাহলে বাকি টাকা দিয়ে আমি আপনার বাবার বদলী হজ্ব করতে পারি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, উক্ত আলেমের কথা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি যদি বাকি টাকা নিজ থেকে দিয়ে হজ্ব করেন তাহলে কি আমার বাবার ফরয হজ্ব আদায় হবে?