ইমাম সাহেব কি মেহরাবের ভিতরে দাঁড়াবে নাকি মেহরাবের বাহিরে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৫৭) : ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশে না দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র মেহরাবের ভেতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ালে নামায হবে কি? শুনেছি ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশেই দাঁড়াতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

ইমাম সাহেব বসে তারাবীহর ইমামতি করলে তার পিছনে ইক্তিদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫৫) : গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহর ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৫৪) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

রমযান মাসে জামাতের সাথে বিতিরের নামায আদায়কালীন দুআয়ে কুনূত পড়ে শেষ করার আগে ইমাম সাহেব রুকুতে চলে …

প্রশ্ন (১২২৪৯) : আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, নাকি কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪৭) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

মাসবুক ব্যক্তি বৈঠক করতে ভুলে গেলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১৮৮) : গতকাল মাগরিবের নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ইমামকে তৃতীয় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি ছুটে যাওয়া দুই রাকাত নামায পড়তে দাঁড়াই। অন্য মুসল্লিরাও সুন্নত পড়তে দাঁড়ায়। আমি সুন্নত পড়ার মত দুই রাকাত পড়ি। আমার প্রথম রাকাতের পর বৈঠক করার কথা ভুলে যাই। সাহু-সিজাদও করিনি। এরপর সুন্নাত পড়ার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

মাজুর ব্যক্তির পিছনে তারাবীহের ইক্তিদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১৮৭) : গত রমযানে তাবলীগের এক সফরে আমি ইন্ডিয়া ছিলাম। রোখের এক মসজিদে আমরা দেখলাম, একজন বৃদ্ধ হাফেজ হুইল চেয়ারে বসে তারাবীহ পড়াচ্ছেন। আর মুক্তাদীগণ সকলেই তার পিছনে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়ছেন। এমন অবস্থার সম্মুখীন আমরা প্রথম হলাম। তাই কী করব- এ নিয়ে আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরাও এলাকার ভাইদের মতই তার পিছনে তারাবীহ আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে হুইল চেয়ারে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের উক্ত দিনগুলির তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

যানবাহনে নামাযরত অবস্থায় যানবাহন ঘুরে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৫) : লঞ্চে করে লালমোহন থেকে ঢাকায় আসার পথে খালের মাঝে অতিরিক্ত বাঁক থাকায় আমরা আসরের নামায বিলম্ব করে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে আরম্ভ করি। নামাযের মাঝে হঠাৎ লঞ্চটি ঘুরতে শুরু করে। তখন ইমাম সাহেবও ঘুরতে থাকেন। আর ইমাম সাহেবের দেখাদেখি মুসল্লিরাও ঘুরতে থাকে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ইমাম সাহেব ঘুরার সাথে সাথে ডান দিকে ঘেষে এক-দু পা করে হাঁটতেও থাকেন। বিষয়টি আমার কাছে অদ্ভুত লাগায় পাশের ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে এ বলে উত্তর দেয় যে, হয়ত কিবলা ঠিক রাখার জন্য সকলে ঘুরতে থাকে। অন্যথায় পূর্বদিকে ফিরে নামায আদায় করা হত। আর ইমাম সাহেব যদি তখন না হাটতেন তাহলে মুসল্লিদের পিছনে চলে যেতেন। তাই হয়ত তিনিও হেঁটেছেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায আদায় হয়েছে কি?

মৃত বাচ্চা প্রসব হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬৫) : কয়েকদিন আগে আমার একটি মৃত বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়। তাকে জানাযার জন্য মসজিদে নেওয়া হলে ইমাম সাহেব বলেন, ‘বাচ্চা মৃত অবস্থায় জন্ম নিলে জানাযা দিতে হয় না’। একথা বলে হালকা দুআ করে আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। জানার বিষয় হল, তার এই কথা কি ঠিক?

একাকী নামায পড়া অবস্থায় কেউ পিছনে এসে ইকতেদা করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৫) : একদিন আমি মাদরাসায় একাকী ফযরের নামায পড়ছিলাম। সেখানে দু’জন ছাত্র এসে আমার পিছেনে ইকতেদা করে। আমি একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেভাবে নামায পড়ে সেভাবেই নামায শেষ করি। নামায শেষে এদের একজন বলল, আপনার জন্য উচ্চ স্বরে কিরাত পড়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সঠিক নিয়মটা কী? কেউ যদি উঁচু আওয়াজে না পড়ে, তাহলে কি তার নামায হবে?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদী কী করবে?

প্রশ্ন (১২১১১) : গতকাল যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে তশাহহুদ পড়ছিলাম। আমার তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই- ইমামের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাব, নাকি তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াব? পরে অবশ্য তাশাহহুদ শেষ করেই দাঁড়াই। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে আমার করণীয় কী ছিল? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়ানো কি ঠিক হয়েছে?

তাকবীর বলে রুকুতে যাওয়ার সাথে সাথে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে কি ঐ রাকাত ধর্তব্য হবে?

প্রশ্ন (১২১০৪) : একদিন আসরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পাই। তখন আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। কিন্তু রুকুতে পৌঁছার সাথে সাথেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখন আমিও ইমামের সাথে আবার দাঁড়িয়ে যাই। এই অবস্থায় কি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে? নাকি আমি এই রাকাত পাইনি? আবার কখনো এমন হয় যে, রুকুতে পুরোপুরি পৌঁছার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখনই বা কী করণীয়? রুকু পাওয়ার জন্য ন্যূনতম অবস্থা কী?

মুক্তাদী তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদীর করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১০১) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একটু দ্রুত তারাবী পড়ান। ফলে কখনো কখনো আমি তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। তেমনিভাবে অন্যান্য নামাযের প্রথম বৈঠকে কখনো কখনো আমরা মুক্তাদীরা তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই তিনি তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমরা কি তাশাহহুদ পূর্ণ করব, নাকি তাশাহহুদ পূর্ণ না করেই ইমামের অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে যাব বা সালাম ফিরিয়ে ফেলব?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

ভুলে ওযু ছাড়া নামায পড়ানোর পর মনে পড়লে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৯১) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। গতকাল এশার নামাযের সময় আমার ওযু আছে মনে করে নামায পড়িয়ে দেই। নামাযের পর মুসল্লীরা সবাই যখন যার যার বাড়িতে চলে যায় তখন আমার মনে পড়ে, আমি তো ওযু ছাড়াই নামায পড়িয়ে দিয়েছি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমাদের জন্য করণীয় কী?

নামাযের মাঝে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে আবার নামায শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২০৮৩) : আমি আমাদের মাদরাসা মসজিদে ইমাম সাহেবের পেছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, আমরা নিয়ত ছেড়ে দিই। তাই মুসল্লিরা সবাই নিয়ত ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি একজন ছাত্রকে নামায পড়ানোর জন্য বলে ওযু করতে চলে যান। পরে ঐ ছাত্র তখনই পুনরায় নামায পড়িয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়বার জামাত করার সময় ইকামত দেওয়া হয়নি। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত না দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?