যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৩৭৬) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা, আমি জানতে চাচ্ছি, যাকাতের টাকা মসজিদ মাদরাসার নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৩৭৬) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা, আমি জানতে চাচ্ছি, যাকাতের টাকা মসজিদ মাদরাসার নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৩৫১) : আমাদের গ্রামের মসজিদের একটি ওয়াকফকৃত জায়গা আছে। উক্ত জায়গায় মৃত ব্যক্তিদের কবর দেওয়ার জন্য কয়েকজন অভিভাবক মসজিদে ১ হাজার করে টাকা দান করে সেখানে মৃত ব্যক্তিদের দাফন করেছে। এখন আমাদের মসজিদ সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু মৃতের অভিভাবকেরা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করতে দিচ্ছে না। এখন হযরতের নিকট প্রশ্ন হল, এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।
প্রশ্ন (১৩৩৪৭) : আমাদের মসজিদটি হাসপাতালের পাশে অবস্থিত। মসজিদের সামনে একটি মাঠ রয়েছে। হাসপাতালে প্রায় সময়ই একসাথে কয়েকজন মানুষ মারা যায়। তখন মসজিদের মাঠেই তাদের জানাযার নামাযের ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে সবার জানাযার নামায একত্রে আদায় করা হয়। কিন্তু মায়্যেতকে কীভাবে রাখতে হবে, এ নিয়ে প্রতিবারই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। একেকজন একেকরকম কথা বলে। আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না। জানার বিষয় হল, একাধিক জানাযার ক্ষেত্রে মায়্যেতকে রাখার সঠিক পদ্ধতিটা কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩৩৩১) : আমাদের এলাকায় সাধারণত ঈদের জামাত ঈদগাহ ময়দানে হয়। গত ঈদে নামাযের আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি আরম্ভ হয়। তখন আমরা সবাই মসজিদে অবস্থান নেই। এছাড়া অবস্থানের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ঈদের নামাযের সময় আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাতার করি। কিন্তু ভিড়ের কারণে মুসল্লীদের জায়গা না হওয়ায় পেছনের কাতারের কয়েকজন মুসল্লী অন্যের পিঠের উপর সিজদা করে নামায আদায় করে। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে নামায আদায় করা কি সহিহ হয়েছে? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন (১৩৩১১) : আমাদের এলাকায় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ রয়েছে। উক্ত মসজিদে আমরা প্রায় ৪০-৫০ বছর যাবৎ নামায পড়ে আসছি। বর্তমানে আমাদের এলাকায় বাড়ি-ঘর বেড়ে যাওয়ার কারণে মসজিদটি বাড়ি-ঘরের মাঝখানে পড়ে গেছে। ফলে মসজিদটি বড় করা যাচ্ছে না। আর এই মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা হচ্ছে না। যার কারণে আমরা মসজিদটি স্থানান্তর করতে চাচ্ছি। উল্লেখ্য যে, উক্ত জায়গাটি পূর্বপুরুষদের ছিল। ঐ জায়গাটি তারা লিখিত কিংবা মৌখিক কোনোভাবেই ওয়াকফ করে যাননি। কিন্তু ঐ জায়গায় তারা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে স্বউদ্যোগে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়ে যান এবং সেটাকে তারা শরয়ী মসজিদ হিসেবেই জানতেন। এখন পর্যন্ত এভাবেই চলে আসছে। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, মসজিদটি স্থানান্তরিত করা যাবে কি? করা গেলে পূর্বের জায়গাটি কোন অবস্থায় রাখতে হবে? জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
প্রশ্ন (১৩৩০৮) : আমাদের মসজিদের সাথে মিলিয়ে সংযুক্ত ছাদের নিচে কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে। কোয়ার্টারটি মূল মসজিদের বাহিরের অংশে এবং এর প্রবেশপথ মসজিদের প্রবেশপথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জানতে চাচ্ছি, এ কোয়াটারে পরিবার নিয়ে বসবাস করা শরীয়তসম্মত হবে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩৩০৫) : আমাদের মসজিদে জায়গা স্বল্পতার কারণে শুক্রবারে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। তাই আমরা মসজিদের ছাদে নামাযের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি। বিন্তু সমস্যা হলো ছাদে উঠার জন্য সিঁড়ি বানানোর জায়গা নেই। মসজিদের সামনে একটি কবরস্থান আছে। এমতাবস্থায় নিচে ফাঁকা বা কবর রেখে উপরে দ্বিতীয় তলার জন্য সিঁড়ি বানানো যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৩০৪) : আমাদের মসজিদে জায়গা স্বল্পতার কারণে শুক্রবারে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। তাই আমরা মসজিদের ছাদে নামাযের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি। বিন্তু সমস্যা হলো ছাদে উঠার জন্য সিঁড়ি বানানোর জায়গা নেই। মসজিদের সামনে একটি কবরস্থান আছে। এমতাবস্থায় নিচে ফাঁকা বা কবর রেখে উপরে দ্বিতীয় তলার জন্য সিঁড়ি বানানো যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩২৯৫) : আমি দুইটি হাদিস সম্পের্কে জানতে চাচ্ছি। হাদিস দুটি হলো, ১. ‘মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলার দ্বারা নেক আমলসমূহ এমনভাবে নষ্ট হয়ে যায় যেমন আগুন শুকনো কাঠকে ধ্বংস করে দেয়।’ ২. ‘যে ব্যক্তি মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলে আল্লাহ তাআলা তার ৪০ (চল্লিশ) বছরের নেক আমল নষ্ট করে দেন।’ অনেককে এগুলো হাদিস বলে প্রচার করতে শোনা যায়। আবার কেউ কেউ বলেন এগুলো হাদিস নয়। তাই হুজুরের কাছে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানতে চাচ্ছি।
প্রশ্ন (১৩২৯০) : আমি সিলেট থেকে সফর করে ঢাকায় আসছিলাম। আমাদের বাস যখন হবিগঞ্জ অতিক্রম করছিল তখন আসরের নামাযের সময় হয়ে যায়। বাসটি একটি মসজিদের পাশে থামিয়ে যাত্রিদেরকে নামাযের জন্য সময় দেয়া হয়। আমরা নেমে সে মসজিদের মুকীম ইমামের পেছনে আসরের চার রাকাত নামায আদায় করি। নামায শেষে ইমাম সাহেব ঘোষণা করেন, নামায হয়নি, আবার পড়তে হবে। এদিকে আমাদের বাস ছাড়ার সময় হয়ে যায়। তাই আমরা দ্রুত গিয়ে বাসে উঠে যাই। জানার বিষয় হল, এখন আমরা উক্ত নামায কয় রাকাত কাযা করব?
প্রশ্ন (১৩২৮০) : আমাদের খুলনা জেলার তাবলীগী মারকায মসজিদটি শহরের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। মসজিদের পূর্ব পাশে বড় মাঠ রয়েছে। সেখানে ঈদের নামায ও জানাযার নামায আদায় করা হয়। মারকায হওয়ার কারণে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং বিশেষ মাশওয়ারার দিনগুলিতে বহু মানুষের জমায়েত হয়। এসব দিনে মাগরিব, এশা ও বাদ ফজর বয়ান ও তা‘লীমের আমল হয়ে থাকে। এ সময় জানাযা আসলে জানাযার নামায আদায়ের জন্য সবাই বাহিরে গেলে মারকাযী আমলে কিছুটা ইনতেশার পয়দা হয় এবং মজমা জমাতে বেশ সময় লেগে যায়। এখন আমাদের জানার বিষয় হল উক্ত জরুরতের কারণে কেবল ঐ দিনগুলিতে আমরা জানাযার নামায মসজিদে আদায় করতে পারবো কি? উল্লেখ থাকে যে, মেহরাবের সাথে একটা দরজা আছে এবং পশ্চিম পাশে এতটুকু জায়গা আছে যে মাইয়েত ও ইমাম সাহেবসহ এক কাঁতার মুসল্লী দাঁড়াতে পারে।
প্রশ্ন (১৩২১৭) : আমি একজন হাফেজে কুরআন। আমার বয়স ১৫ বছর। গত রমযান মাসে আমার বোনের বাড়িতে বোনসহ তার কয়েকজন প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে আমি তারাবীর নামায পড়াই। আমি দাঁড়াতাম বাহিরে। মহিলারা থাকত পর্দার ভেতরে। উল্লেখ্য যে, বোনের বাড়িতে জামাতের আয়োজন থাকায় এমন কিছু মহিলা তারাবীর নামাযে অংশগ্রহণ করেছে যারা একাকী ফরয নামাযও পড়ে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে যেভাবেই থাকুক না কেন নামাযে আসা-যাওয়ার সময় মহিলারা যথাসাধ্য পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এভাবে দূর দূরান্ত থেকেও কিছু মহিলা জামাতে হাজির হত। পরবর্তীতে এলাকার আলেমদের মাঝে এ নিয়ে মতানৈক্য শুরু হয়। কেউ বলেন, মহিলাদের জন্য জামাতের আয়োজন করা মাকরূহ। কেউ বলেন, মাকরূহ নয়; জায়েয। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান কী? দলীল-প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১৩১৯৬) : আমি যে মসজিদে ইতিকাফ করি সে মসজিদে প্রায় প্রতি বছরই একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইতিকাফকারী জানাযার নামাযের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। আর কেউ বলেন, বের হতে পারবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, কোন কথাটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩১৮৯) : রমযানের শেষ দশকে মহিলাদের ইতিকাফের কী হুকুম? তাদের কেউ ইতিকাফ শুরু করার পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো প্রয়োজন ব্যতীত বের হতে পারবে কি? বিনা কারণেই তিন-চার ঘন্টা সময় যদি বাহিরে থাকে তাহলে কি তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১৩১৮২) : আমাদের এলাকায় হিন্দুদের একটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। এবার তারা আমাদের এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় তারা এলাকার মসজিদেও উন্নয়নের জন্য অনুদান দিতে চাচ্ছে। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, হিন্দুদের সংগঠনের দেয়া অনুদান মসজিদের জন্য গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? জায়েয হলে তা মসজিদের কোন কোন কাজে ব্যয় করা যাবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩১৬৩) : আমাদের গ্রামের মসজিদের কয়েকটি ওয়াক্ফকৃত জমি আছে। এগুলোর আয় দিয়ে মসজিদের ব্যয় বহন করা হয়ে থাকে। মসজিদের সেক্রেটারী এই ওয়াক্ফকৃত জমির একটি অংশ মুতাওয়াল্লীকে না জানিয়ে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ক্রেতা এই জায়গাটিকে পারিবারিক কবরস্থান বানিয়েছে। তবে এতে এখনো কোনো মুর্দা দাফন করা হয়নি। বিনিময় হিসেবে সে অন্যত্র সমপরিমাণ জায়গা ও কিছু নগদ টাকা দিয়েছে। জানার বিষয় হল, এই বিক্রি সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে এখন কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩১৫৮) : আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমার একটি জায়গা ওয়াক্ফ করেছি। জায়গাটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে এখন সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই অস্থায়ীভাবে নামায চালিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী উচুঁ জায়গাতে একটি ঘর বানিয়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ ঘরটিও সাধারণ মসজিদের মতই কি? এটাতে পাঞ্জেগানা নামায, জুমা, এতেকাফ সবকিছু আদায় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩১৫৭) : মসজিদ কমিটির নিকট মসজিদের কিছু টাকা আছে। এখন কমিটির লোকজন চাচ্ছে, সেগুলো কোনো কাজে খাটিয়ে মুনাফা অর্জন করতে। তাই তারা একটি দোকান/ঘর এভাবে বন্ধক নিল যে, এক লক্ষ টাকা দোকান মালিককে দিয়ে তার থেকে দোকান বুঝে নিবে। অতপর সে দোকানটিকে দোকানের মালিক বা অন্য কারো নিকট ভাড়া দিয়ে দোকানের মাসিক ভাড়া মসজিদের ক্যাশে রাখবে। অতপর যখন মালিক এক লক্ষ টাকা দিয়ে দিবে তখন কমিটি তার দোকান তাকে বুঝিয়ে দিবে। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদের টাকা মুনাফার আশায় খাটানো অথবা কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩১৩৮) : আমাদের গ্রাম তিস্তা নদীর পারে অবস্থিত। গ্রামের জামে মসজিদটি আনুমানিক ১২ বছর পূর্বে নদী ভাংগনে হারিয়ে যায়। বর্তমান সময়ে নদীর হারিয়ে যাওয়া অনেক জমির সাথে মসজিদের জমিটিও উদ্ধার হয়। জায়গাটা নদীর তীরে হওয়ায় মানুষজন যার যার জমিতে দোকান-পাট করার পরিকল্পনা করছে। মসজিদের জমিটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করতে চাচ্ছে। তারা নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে মসজিদের নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩১১২) : বর্তমানে আমাদের দেশের কোথাও কোথাও দেখা যায়, মসজিদে ঈদের নামায পড়া হয়। অথচ ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি যে, ঈদের নামায ঈদগাহেই পড়া হয়। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে মসজিদে ঈদের নামায পড়ার বিধান কী?