নফল নামাজ

ফজরের সুন্নত পড়ার পর কি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৯৩০) : কেউ ফজরের সুন্নত ঘরে পড়ে যদি মসজিদে যায় এবং সময় থাকে তাহলে ঐ সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে পারবে কি? না পারলে কেন? এবং ঐ সময় কী আমল করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের সওয়াব পাওয়া যাবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নফল নামাযের তৃতীয় রাকাতে কেরাত না পড়লে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৮) : আমি চার রাকাত নফল নামায আদায় করেছি। কিন্তু তৃতীয় রাকাতে শুধু তাশাহ্হুদ পড়েছি; কোনো কেরাত পড়িনি। এমনকি সূরা ফাতেহাও না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এ নামাযের হুকুম কী?

নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯১৭) : আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় রাতে রওনা করি। তাই এশার নামায ফেরিতে পড়া হয়। কিন্তু শেষবার আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে নামায আদায় করে রওনা করি। পরে যখন গাড়ি ফেরিতে আসে তখন আমি আবার নামাযে দাঁড়াই। তখন আমার মনে পড়ল যে, এশার নামায তো গাড়িতে উঠার আগেই পড়া হয়েছে। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন জানার বিষয় হল, যে নামায ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা কি আমাকে কাযা করতে হবে?

বিতির নামায পড়ার পর কি নফল নামায আদায় করা নিষেধ?

প্রশ্ন (১২৮৯৯) : বিতির নামাযের পর নফল নামায পড়া যাবে কি? অনেকে বলে, এশার নামাযের পর বিতির নামায পড়ে কোনো নফল পড়া যায় না। এই কথা কি ঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

আসরের নামাযের পরে কাযা নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৪৮) : একদিন আমি আসরের পরে মসজিদে কাযা নামায পড়ছিলাম। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আছরের পরে নামায পড়া মাকরূহ। তাই আসরের পরে কাযা নামায পড়া যাবে না। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি আসরের পরে কাযা নামায পড়া নিষেধ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল নামাযের প্রথম বৈঠকে কি দরূদ শরীফ ও দুআ মাছুরা পড়তে হয়?

প্রশ্ন (১২৬৫৬) : মাঝে মাঝে আমি আসর ও এশার আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি। অন্যান্য নামাযের মত এ নামাযেও প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমার প্রতিবেশী বললেন, এসকল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হয়। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সানা, আউযুবিল্লাহও পড়তে হয়। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এ ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাকরুহ ওয়াক্তে নফল নামায শুরু করে ভেঙে ফেললেও কি উক্ত নফলের কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৩) : আমরা জানি, নফল নামায শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা কাযা করতে হয়। এখন যদি কেউ মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত বাঁধার পর কোনভাবে বুঝতে পেরে নামায ছেড়ে দেয় তাহলে কি এই নফলেরও কাযা করতে হবে? এ জিজ্ঞাসার কারণ, এ সময় তো এমনিতেই নামায পড়া অনুচিত ছিল। জানালে খুব উপকার হয়।

নফল নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৪০) : আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

রমযানের কাযা রোযা রাখার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৬৩০) : গত সোমবার আমার স্ত্রীর সাথে পরের দিন রোযা রাখার ব্যাপারে কথা হয় যে, আমি নফল রোযা রাখব আর আমার স্ত্রী তার রমযানের কাযা রোযা রাখবে। কিন্তু শেষরাতে উঠতে পারিনি, ফলে সকালে কী করবো চিন্তা করতে করতে প্রায় ১১টার দিকে দুইজনই সেহরি না খেয়েই রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নেই এবং যথারীতি দুজনই রোযা রাখি। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের ঐ দিনের রোযা সহিহ হয়েছে কিনা? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নিষিদ্ধ সময়ে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১১) : সাধারণত আমি সুবহে সাদিকের পর কুরআন শরীফ পড়ি। তাই অনেক সময় সিজদার আয়াতও পড়া হয়। আমি জানি, এসময় নফল নামায পড়া মাকরূহ। হুযূরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এসময় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করা যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

পুরস্কার স্বরূপ হজ্ব করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৫২) : দুই বছর আগে রমযানে ‘ইসলামিক নলেজ’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি ১ম স্থান অধিকার করি। পুরস্কার স্বরূপ সে বছর আমাকে হজ্বে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এখন আমার হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি আমার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক?

নফল হজ্ব করা বেশি উত্তম নামি দান-সদকা?

প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।

শেষ রাতে নফল নামাযে দাঁড়ানোর পর ফজরের আযান হয়ে গেলে উক্ত নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৫) : শেষ রাতে উঠে কয়েক রাকাত নফল আদায় করছিলাম। আমার ধারণা, তখনো ভোর হবার কিছু সময় বাকি। কিন্তু নামাযে দাঁড়ানোর পরপরই ফজরের আযান শুনতে পেলাম। এখন কি আমার এ দুই রাকাত নামায ফজরের দুই রাকাত সুন্নত হিসেবে আদায় হয়েছে বলা যাবে?

বার্ধক্যের কারণে নফল নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৪) : আমার বড় চাচা বার্ধক্যে কাবু হওয়ার পর থেকে নফল নামাযের বেলায় প্রায়ই এমন করেন যে, কখনো দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকিটা বসে আদায় করেন। আবার কখনো এর উল্টো। অর্থাৎ প্রথমে বসে আরম্ভ করার পর বাকিটা দাঁড়িয়ে। তাঁর এভাবে নফল পড়া কি ঠিক আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নিজ এলাকার দরিদ্রদের রেখে অন্য এলাকায় যাকাত দেওয়ার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৪৭২) : আমার নিজ শহরের যাকাতের হকদারদের চেয়ে অন্য শহরের মুহাজির মুসলিমগণ অধিক নিঃস্ব। তাই এ বছর তাদেরকে যাকাত দেওয়ার ইচ্ছা করেছি। এদিকে নিজ শহরের হকদারগণ বঞ্চিত হয়ে তারাও অসন্তুষ্ট হতে পারে। এখন আমার প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় কাদেরকে যাকাত দেয়া উত্তম হবে?

রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৪৪০) : এবার রমযানে অসুস্থতার কারণে আমার একটি রোযা ভাঙা পড়ে। শাওয়াল মাসে একদিন ঐ রোযার কাযা করার উদ্দেশ্যে একটি রোযা রাখতে মনস্থ করি। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগে ঘুম না ভাঙায় আযান হওয়ার পরপরই রোযার নিয়ত করে নিই। এদিকে বেলা বাড়ার আগেই পুনরায় অসুস্থতা বোধ করতে থাকি এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনে রোযাটা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযানের ঐ রোযা কাযা করতে গিয়ে ওযরবশত ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাকে কি অতিরিক্ত আরেকটি কাযা রোযা রাখতে হবে?

সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে নফল ইবাদত ছুটে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৭৯) : আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত্বনার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু উপদেশ দিলে উপকৃত হবো।

সুন্নত বা নফল নামাযে একাধিক রাকাতে একই সূরা পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৫৩) : কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহিহ হয়েছে?

নফল নামাযের মাঝখানে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি উক্ত নফঅ নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৮) : একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

নফল রোযা রাখা অবস্থায় মাসিক চলে আসলে উক্ত রোযা পরে কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৮৭) : আমি ফরয, ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি কিছু নফল আমলও করার চেষ্টা করি। চেষ্টা করি কিছু নফল নামায ও কিছু নফল রোযা রাখার। এ বছর আমি আশুরার দিন রোযা রাখি। হঠাৎ দিনের বেলায় আমার মাসিক এসে যায়। পরে আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই সেভাবেই রোযা অবস্থায় কিছু না খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। বাকি আমি জানি যে, ফরয রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করতে হয়। তাই হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, নফল রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করা লাগবে কি?