মসজিদে দান করার মান্নত করার যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৮৮৭) : কোনো বস্তু অর্জনের উদ্দেশ্যে কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি চাকরি পাওয়ার আশায় মান্নত করে বলে যে, আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা মসজিদে দান করব তাহলে তার এই কথা কি শরীয়তসম্মত হবে?
প্রশ্ন (১৩৮৮৭) : কোনো বস্তু অর্জনের উদ্দেশ্যে কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি চাকরি পাওয়ার আশায় মান্নত করে বলে যে, আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা মসজিদে দান করব তাহলে তার এই কথা কি শরীয়তসম্মত হবে?
প্রশ্ন (১৩৮৫৭) : আমি কুরবানীর সময় আমার কুরবানীর সাথে আমার মরহুম বাবার পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হলো, এ কুরবানীর গোশত কি সদকা করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১৩৭৮৪) : আমি অসুস্থতার কারণে একটি ছাগল দান করার মান্নত করেছিলাম। এখন আলহামদুল্লিাহ আমি সুস্থ হয়ে গেছি। আমার জানার বিষয় হলো, এখন কি আমার জন্য ছাগল দান করাই জরুরি নাকি ছাগলের পরিবর্ত টাকা দান করলে মান্নত আদায় হবে?
প্রশ্ন (১৩৫৬৫) : আমার একজন হিন্দু প্রতিবেশী আছে। সে খুবই গরিব। তাই আমি চাচ্ছি তাকে আর্থিকভাবে কিছু সহযোগিতা করতে। এখন হুযুরের নিকট জানার বিষয় হল, আমি কি তাকে সদাকাতুল ফিতর বা মানতের টাকা দিতে পারব? আর তাকে নফল দান করলে সওয়াব পাওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১৩৪৯৩) : আমার স্বামী অনেক বছর যাবৎ প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তাই তিনি কোনো আয়-উপার্জন করতে পারেন না। আমি একটি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করি এবং আমার উপার্জনেই সংসার চলে। আমার নিজের উপর যাকাত ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার স্বামী ও সন্তানদের পক্ষ থেকেও কি আমাকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে? উল্লেখ্য, আমার স্বামী ও সন্তানদের এ পরিমাণ সম্পদ নেই যে, তাদের উপর যাকাত বা সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়।
প্রশ্ন (১৩১২৭) : আমার এক বন্ধুর চাচা খুব ধনী মানুষ। দ্বীনদার মানুষ। বিবাহ করেননি। তার বয়স আনুমাণিক ৬০ হবে। বাবা-মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। তার কোনো ভাই-বোন নেই। তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শুধ এক চাচা, এক ফুফু আছে। তার নিকটাত্মীয় কেউ নেই বিধায় তিনি অসিয়ত করেছেন যে, তার মৃত্যুর পর তার সব সম্পত্তি তার গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াক্ফ হয়ে যাবে। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন, যে তার অসিয়ত কি সহিহ হয়েছে? বিষয়টি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১৩১১০) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সবসময় ব্যবসার লাভের ২% মসজিদ-মাদরাসায় এবং ৩% গরিব-মিসকীনদের দান করে থাকি। বিভিন্ন সময় আমি অন্যদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে লাভ প্রদানের চুক্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে থাকি। তাদেরকেও বিষয়টি জানিয়ে দেই যে, মোট লাভ থেকে উক্ত অংশ বাদ দিয়েই লাভ বণ্টন হবে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?
প্রশ্ন (১৩০৯১) : আমার চালের গোডাউন আছে। তাই চাল দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করা আমার জন্য সহজ। হুজুরের কাছে জানতে চাই, চাল দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করলে আদায় হবে কি?
প্রশ্ন (১৩০৮৩) : কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার একটি সংগঠন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য একটি কাফেলা নিয়ে ফেণীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে আমি ত্রাণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। পরবর্তীতে ত্রাণ বিতরণের পূর্বেই সেই টাকাগুলো আমি যাকাত বাবদ আদায়ের নিয়ত করি। জানতে চাই, এভাবে নিয়ত করার দ্বারা কি আমার যাকাত আদায় হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৮৫৩) : দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমার বাড়ির জমি নিয়ে মামলা চলছিল। এর পেছনে আমার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। একবার মান্নত করি যে, উক্ত জমির ব্যাপারে যদি আদালত আমার পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমার চরের জমিটি মাদরাসায় গরীব ছাত্রদের জন্য সদকা করে দিব। অনেক মামলা-মুকাদ্দামার পর আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। এদিকে ভবিষ্যতে চরের জমিটির দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমি চাচ্ছি, জমির পরিবর্তে তার বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে দিয়ে দিতে। জানার বিষয় হল, আমি নির্দিষ্টভাবে একটি জমি সদকা করার মান্নত করেছি। তাই তার মূল্য আদায়ের দ্বারা কি আমার মান্নত আদায় হবে?
প্রশ্ন (১২৭৯৮) : কিছু দিন আগে একটি বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। যেখানে কোনো অন্যায় না করেও আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত হতে হয়েছে। তখন আমি মনে মনে নিয়ত করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা এ পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করলে পাঁচ শত টাকা সদকা করব। পরে আল্লাহর মেহেরবানীতে সে বিপদ কেটে গেলেও আর টাকা সদকা করা হয়নি। প্রশ্ন হল, মুখে না বলে শুধু মনে মনে নিয়ত করার কারণে সেটি কি মান্নত হয়ে গিয়েছে? এবং এখন কি আমার জন্য ঐ পরিমাণ টাকা সদকা করা ওয়াজিব?
প্রশ্ন (১২৭৯৬) : আমরা তো জানি নাবালেগ সন্তানের সদকায়ে ফিতর আদায় করা তাদের পিতার উপর ওয়াজিব। আমরা যারা প্রবাসে থাকি আমাদের নিজেদের সদকায়ে ফিতর বাংলাদেশে আদায় করলেও প্রবাসের মূল্য অনুযায়ীই দিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের নাবালেগ সন্তান, যারা দেশে থাকে তাদের সদকায়ে ফিতর কোন দেশের মূল্য অনুযায়ী আদায় করব? এ বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন যাবৎ সন্দেহে আছি। দয়া করে এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৭৭৯) : আমার এক প্রতিবেশী মান্নত করেছে যে, তার পালিত একটি গাভীর তৃতীয়বার বাচ্চা হলে দুধ খাওয়া শেষে সেটিকে মাজারে দিয়ে দেবে। এক ব্যক্তি তাকে বুঝিয়েছে- সেখানে দিলে তোমার কোনো লাভ হবে না। তার চেয়ে গাভীটি বিক্রি করে টাকা মসজিদের নির্মাণকাজে দান করে দাও। কিন্তু সে তাতে সম্মত হয়নি। পরবর্তীতে তার শর্ত অনুযায়ী তৃতীয়বার বাচ্চা দেওয়া ও দুধ শেষ হওয়ার পর গাভীটি মারা গেছে। এখন সে কীভাবে ঐ মান্নত পুরা করবে?
প্রশ্ন (১২৭৫৫) : আমার বড় ভাইয়ের শাশুড়ি তার ছেলেদের সাথে ঝগড়া-বিবাদের কারণে আমাদের বাড়িতে চলে আসেন। আমার ভাই তার যাবতীয় ভরণ-পোষণ ও দেখাশুনার দায়িত্ব নেন। এতে তিনি খুশি হয়ে তার যাবতীয় সম্পত্তি ভাইকে মৌখিকভাবে দিয়ে দেন। এবং ভাই চাইলে যে কোনোদিন তা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলেন। (নগদ কোনো অর্থ তার কাছে না থাকলেও রাস্তার পাশে তার একটি জমি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা) মানুষ কী বলবে এ কারণে ভাই প্রথমে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। পরে তার বারবার বলাতে রাজি হয়ে যান। এবং জমি রেজিস্ট্রি করতে যাবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলেরা জমি দিতে নারাজ। জানার বিষয় হল, স্বেচ্ছায় দানকৃত এ জমি আমার ভাইয়ের প্রাপ্য কি না? তিনি যদি জোরপূর্বক জমি নিতে চান তাহলে এতে শরয়ী সমস্যা হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৭২৩) : আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য জমির প্রয়োজন ছিল। এলাকার এক ব্যক্তি একদিন জুমার পর মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তার একটি জমি মাদরাসার জন্য দান করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার অমুক জমিটি মাদরাসার জন্য দান করলাম। আপনারা সাব-কবলা করে নিবেন’। সে সময় এ লোকের ছেলেরা বিদেশে ছিল। তারা বিষয়টি জানত না। ঐ লোকের মৃত্যুর পর তারা দেশে আসে এবং তখন বিষয়টি জানতে পারে। কিন্তু তারা জমিটি দিতে চাচ্ছে না। তারা বলছে, জমিটি আমাদের প্রয়োজন। আব্বা না বুঝে দান করে দিয়েছিলেন। আমাদের জন্য এটা দেওয়া সম্ভব নয়। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, তাদের জন্য এ দান প্রত্যাহার করা জায়েয হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৬৯৭) : আমাদের এলাকায় একথা প্রসিদ্ধ যে, যদি কোনো ব্যক্তির হাত থেকে অনিচ্ছায় ও ভুলবশত কুরআন শরীফ পড়ে যায়, তাহলে তা ওজন করে চাল বা গম ইত্যাদি সদকা করতে হয়। এ কথাটি মহিলাদের মাঝে বেশি প্রসিদ্ধ। তাই জানতে চাচ্ছি, আর আল্লাহ না করুন, কখনো এমনটি হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কি?
প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।
প্রশ্ন (১২৫০৩) : আমি এক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের পর লস হওয়ার আশংকা দেখলে মান্নত করি যে, ‘যদি লাভ হয় তাহলে লাভের ১০% গরীবদের সদকা করব’। আল্লাহর রহমতে উক্ত ব্যবসায় ভালো লাভ হয়। এখন আমাদের মসজিদে নির্মাণ কাজ চলছে। আমি কি উক্ত টাকা এখানে দান করতে পারব?
প্রশ্ন (১২৪৭৫) : আমি মান্নত করেছিলাম, এ বছর আমার ফসল ভালো হলে শ্বশুর বাড়ির মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে এক মন ধান দান করব। আল্লাহর রহমতে এ বছর আমার ফসল ভালো হয়েছে। কিন্তু বিশেষ কারণে অল্প কিছু ধান ছাড়া সবই বিক্রি করার প্রয়োজন হয়েছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, আমি কি এক মন ধানের সমমূল্য পরিমাণ টাকা সদকা করতে পারব? অনুরূপভাবে যে মাদরাসায় সদকা করার মান্নত করেছিলাম সেটা ছাড়া অন্য এক মাদরাসা, যা কিছুদিন আগে আমাদের বাড়ির পাশে হয়েছে, সেই মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে (উক্ত টাকা) দান করতে পারব?
প্রশ্ন (১২৩৩০) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ ডিসিম জমি দান করে। সেখানে একটি অনাবাসিক নূরানী মকতব প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই-তিন বছর পর এলাকার মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাদরাসা কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, মাদরাসার পাশাপাশি একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত ব্যক্তি দানকৃত জমি থেকে ৪ ডিসিম জমি মসজিদের জন্য দান করে এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়েছে কি না? ভুল হলে সংশোধনের উপায় কী? এবং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি না? মাদরাসা ও মসজিদে একই কমিটি ও পূর্বের কমিটি অপরিবর্তিত।