সালাত বা নামাজ

ইমাম সাহেব নামাযে কোনো ভুল করলে কী বলে লোকমা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৭) : কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলবশত যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অসুস্থতার কারণে মাথা নাড়াতে না পারলে কি চোখের ইশারায় নামায পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩২) : কিছু দিন আগে আমার নানা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। তখন তার মাথায় অপারেশন করতে হয়। এবং মাথা ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল কিছুদিন। প্রথম কয়েক দিন বিছানায় পুরোপুরি শায়িত ছিল। মাথা নাড়ানোও সম্ভব ছিল না। তাই ডাক্তার কয়েক দিন মাথা একেবারে না নাড়ানোর কথা বলেছিলেন। ফলে ঐ দিনগুলোর নামায সে পড়তে পারে নি। এখন সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল, সে যে কয়দিন পুরো শায়িত ছিল ঐ দিনগুলোর নামাযের কী হুকুম? একজন বলেছে, সে তখন মাথা নাড়াতে না পারলেও যেহেতু তার জ্ঞান ছিল তাই তার জন্য ঐ কয়দিন চোখের ইশারায় নামায পড়া জরুরি ছিল। তাই তার ঐ কয়েকদিন নামায না পড়া ঠিক হয়নি। তার এ কথা কি ঠিক? এখন কি সে ঐ কয়দিনের নামায কাযা করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

ওযরের কারণে নামাযের বৈঠকে উভয় পা একদিকে বের করে দিয়ে বসলে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১৩২২২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমার ডান পায়ে ব্যথা। চিকিৎসা করিয়েও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উক্ত ব্যথার কারণে আমি নামাযে সুন্নত তরীকায় অর্থাৎ এক পা বিছিয়ে আরেক পা দাঁড় করিয়ে বসতে পারি না। তাই উভয় পা মহিলাদের মত ডান দিকে বের করে দিয়ে মাটিতে বসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে বসার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? এবং আমার পেছনে ইকতেদা করা সহিহ হবে কি?

ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে নামায কাযা হলে তা আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩২২১) : রাত আটটায় আমার একটি সফর ছিল ট্রেনে। আর এশার নামাযের সময় হয় রাত সাতটায়। ট্রেন ছাড়ে আমার মুকিম অবস্থায়। রাস্তায় থাকার কারণে আমি সেদিন ইশার নামায আদায় করতে পারি নি। পরবর্তীতে ট্রেনে ভিড়ের কারণে নামায পড়তে পারিনি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি কাযা আদায়ের সময় কসর করব না পূর্ণ নামায পড়ব?

মহিলাদেরকে নিয়ে তারাবীর জামাত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২১৭) : আমি একজন হাফেজে কুরআন। আমার বয়স ১৫ বছর। গত রমযান মাসে আমার বোনের বাড়িতে বোনসহ তার কয়েকজন প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে আমি তারাবীর নামায পড়াই। আমি দাঁড়াতাম বাহিরে। মহিলারা থাকত পর্দার ভেতরে। উল্লেখ্য যে, বোনের বাড়িতে জামাতের আয়োজন থাকায় এমন কিছু মহিলা তারাবীর নামাযে অংশগ্রহণ করেছে যারা একাকী ফরয নামাযও পড়ে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে যেভাবেই থাকুক না কেন নামাযে আসা-যাওয়ার সময় মহিলারা যথাসাধ্য পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এভাবে দূর দূরান্ত থেকেও কিছু মহিলা জামাতে হাজির হত। পরবর্তীতে এলাকার আলেমদের মাঝে এ নিয়ে মতানৈক্য শুরু হয়। কেউ বলেন, মহিলাদের জন্য জামাতের আয়োজন করা মাকরূহ। কেউ বলেন, মাকরূহ নয়; জায়েয। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান কী? দলীল-প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ হব।

অযুর পানিতে কাপড় ভিজলে কি উক্ত কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২০৪) : অযুতে চেহারা ও হাত ধোয়ার সময় কিছু পানি কাপড়ে পড়ে ভিজে যায়। আবার কখনো কখনো অযুর পরপরই নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। টাওয়াল ব্যবহার না করার কারণে তখন হাতের অবশিষ্ট পানিতে জামা ভিজে যায়। দাড়ি থেকেও পানি পড়তে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, অযুর পানিতে কাপড় ভেজা অবস্থায় নামায পড়লে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি?

যোহরের ফরযের পূর্ববর্তী চার রাকাত সুন্নত নামায ভেঙে ভেঙে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৩) : যোহরের ফরযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত দুই রাকাত আদায় করে যদি নামাযে শরীক হয়ে যাই তাহলে নামাযের পর বাকি দুই রাকাত আদায় করে নিলেই হবে, নাকি পুনরায় চার রাকাত আদায় করতে হবে?

ইতিকাফ আদায়কারী ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করার জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৬) : আমি যে মসজিদে ইতিকাফ করি সে মসজিদে প্রায় প্রতি বছরই একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইতিকাফকারী জানাযার নামাযের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। আর কেউ বলেন, বের হতে পারবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, কোন কথাটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ না করলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১৯১) : আমার বড় ভাই গাড়ি এক্সিডেন্ট করে। সে তখন বাম পায়ের নিচের অংশে আঘাত পায়। ডাক্তার তার পায়ের গোড়ালিসহ এর উপরের কিছু অংশ ব্যান্ডেজ করে দেয়। এই অবস্থায় তার ৬/৭ দিন অতিবাহিত হয়। সে ঐ কয়দিন অযু করার সময় ক্ষতস্থান ছাড়া বাকি অংশ ধুলেও ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করেনি। এভাবে তার অযু কি সহিহ হয়েছে? এবং এই অযু দ্বারা সে যে কয় ওয়াক্ত নামায পড়েছে তা কি আদায় হয়েছে?

আদায়কৃত নামায পুনরায় আদায় করতে গিয়ে মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯০) : আমার মেধাশক্তি খুব দুর্বল। কিছু করার পর মনে থাকে না। নামায পড়েছি কি না এটাও মনে থাকে না। তাই মাঝে মাঝেই আমি নামায পড়িনি ভেবে নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। এক-দুই রাকাত পর মনে পড়ে আমি তো নামায পড়েছি। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। হুজুরের নিকট জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় এভাবে নামায ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহ হবে কি? আর এই নামাযের কাযা করতে হবে কি?

রমযান মাসে মহিলাদের ইতিকাফ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৯) : রমযানের শেষ দশকে মহিলাদের ইতিকাফের কী হুকুম? তাদের কেউ ইতিকাফ শুরু করার পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো প্রয়োজন ব্যতীত বের হতে পারবে কি? বিনা কারণেই তিন-চার ঘন্টা সময় যদি বাহিরে থাকে তাহলে কি তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

একটি তাসবীহর আমল।

প্রশ্ন (১৩১৭৯) : আমি একটি বইয়ে পেয়েছি যে, প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর ৩৩ বার সুবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার আর শত পূর্ণ করবে এই বলে- لَا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ . আর এক রেওয়াতে আছে যে, প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর ৩৩ বার সুবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়বে। এখন আমার জানার বিষয় হল, এই উভয় আমল কি এক নাকি ভিন্ন? সঠিক সমাধান চাই।

গোশত থেকে জামায় রক্ত লাগলে কি জামা নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১৭৪) : বাজার থেকে মুরগি কিনে ফেরার পথে পলিথিন থেকে চুয়ে রক্ত পড়ে আমার কাপড়ে কিছু রক্ত লাগে। যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গেলে একজন বললেন, রক্ত যেহেতু নাপাক তাই এই কাপড়ে আপনার নামায হবে না। তখন আমি সেই কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। এখন আমি জানতে চাই, তার কথা কি ঠিক? গোশতের মধ্যে থাকা রক্ত কি নাপাক?

ইমাম সাহেব ভুলে সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩১৭৩) : একদিন এশার নামাযে ইমাম সাহেব ভুলবশত দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে সূরা ফাতিহার কয়েকটি আয়াত নিম্ন আওয়াজে পড়ে ফেলেন। স্মরণ হওয়ার পর পুনরায় সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়া শুরু করে। নামায শেষে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার জানার বিষয় হল, আমাদের সেই নামাযটি কি সহিহ হয়েছিল? না হলে করণীয় কি?

নামাযে ভুলে সিজদা ছুটে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১৭২) : একদিন যোহরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে একটি সিজদা ছুটে যায়। এবং নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় ছুটে যাওয়া সিজদা আদায় না করেই সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে নাকি আবার পড়ে নিতে হবে?

ওজরের কারণে শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৭১) : আমার কপালে ফোঁড়া হয়েছে। তাই আমি কপালের উপর সেজদা করতে সক্ষম না হওয়ায় শুধু নাকের উপর সেজদা করি। জানতে চাই, নাকের উপর সেজদা করার কারণে আমার নামায হয়েছে কি?

মাজুর ইমামের পিছনে নামায পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৬) : আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের বাম হাতটি অচল। তাই তাকবীরে তাহরীমার সময় তিনি শুধু ডান হাত কান পর্যন্ত ওঠাতে পারেন। বাম হাত ওঠাতে পারেন না। তবে তাকবীরে তাহরীমার পর কিয়ামে স্বাভাবিকভাবেই দুই হাত নাভীর নীচে বাঁধতে পারেন। কিছু কিছু লোক বলছে, অন্য সুস্থ ইমাম পাওয়া গেলে এই ইমামের পেছনে নামায সহিহ হবে না। সুস্থ ইমাম পাওয়া পর্যন্ত তিনি ইমামতি করতে পারবেন। তাই আমরা জানতে চাচ্ছি, উক্ত ইমামের পেছনে নামায পড়ার হুকুম কী? সুস্থ ইমাম পাওয়া যাওয়ার পর তার পেছনে নামায সহিহ হবে কি? দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

অস্থায়ী নামাযঘর কি মসজিদের হুকুমের আওতায় আসবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৮) : আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমার একটি জায়গা ওয়াক্ফ করেছি। জায়গাটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে এখন সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই অস্থায়ীভাবে নামায চালিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী উচুঁ জায়গাতে একটি ঘর বানিয়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ ঘরটিও সাধারণ মসজিদের মতই কি? এটাতে পাঞ্জেগানা নামায, জুমা, এতেকাফ সবকিছু আদায় করা যাবে কি?

মাছের রক্ত জামায় লাগলে উক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৫) : আমি একজন গৃহিণী। বাসায় বড় মাছ কাঁটতে গেলে অনেক সময় কাপড়ে মাছের রক্ত লাগে। সাধারণত এমন হলে আমি সে কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। কিন্তু একদিন ভুলবশত মাছের রক্তযুক্ত কাপড় পরেই সেদিনের আসরের নামায পড়ে ফেলি। পরে মাগরিবের সময় স্মরণ হলে সে কাপড় পরিবর্তন করি। এখন জানার বিষয় হল, আমার সেদিনের আসর নামায কি আদায় হয়েছে?