সালাত বা নামাজ

কাতারের মাঝে ফাঁকা রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১০৪) : অনেক সময় দেখা যায় যে, ফরয নামাযের জামাতে সামনের কাতারে জায়গা ফাঁকা রেখে মুসল্লীরা পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে যায় এবং তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা ছাড়া সামনের কাতার পূরণ করা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় কি তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা জায়েয হবে?

নামাযে কেরাত পাঠ করার সময় কি নিজ কানে শোনা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১৩০৯৪) : একদিন আমি একাকী নামায পড়ছিলাম। আমার পাশে এক ব্যক্তি বসা ছিলেন। তো আমি ঠোঁট নাড়িয়ে আস্তে আস্তে কেরাত পড়ছিলাম। নামায শেষে ঐ ব্যক্তি আমাকে বললেন, নামাযে আস্তে আস্তে পড়ার সর্বনিম্ন স্তর হল নিজের কানে শোনা, শুধু ঠোঁট নাড়ালে হবে না। এখন জানার বিষয় হল ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক?

জানাযার নামাযে ভুলে পঞ্চম তাকবীর দিয়ে ফেললে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১৩০৮৮) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন জানাযার নামাযে ভুলবশত পঞ্চম তাকবীর দিয়ে ফেলেন। নামাযের পর মানুষ হৈচৈ শুরু করে দিলে উপস্থিত একজন আলেম বলেন, নামায হয়ে গেছে। আমার জানার বিষয় হল, ঐ নামাযটি কি আদায় হয়েছিল? আর এ ধরনের ক্ষেত্রে মুক্তাদির করণীয় কী হবে?

নামাযের মধ্যে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে ভুলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০৮৭) : আমি একদিন ভুলে নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা না দিয়ে নামায শেষ করে ফেলি। এমতাবস্থায় আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? আর ঐ সিজদা পরে কিভাবে আদায় করব?

সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা দেওয়ার কথা মনে হলে উক্ত অবস্থায় সাহু সিজদা দিলে কি তা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩০৮৬) : আমি একদিন এক লোককে দেখলাম, নামায শেষ করে বের হওয়ার জন্য সে দরজার দিকে যাচ্ছে। কিছুদূর গিয়ে পুনরায় বসে পড়েছে। অতপর সিজদা ও বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেছে। ব্যাপারটি তার কাছে জানতে চাইলে সে বলল, আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল। আমি তা আদায় করতে ভুলে গিয়েছি। আর মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত যেহেতু ভুলে যাওয়া সাহু সিজদা আদায়ের সুযোগ থাকে তাই স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আমি তা আদায় করে নিলাম। জানতে চাই, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে সাহু সিজদা আদায় করার দ্বারা কি তার নামায ত্রুটিমুক্ত হবে? উল্লেখ্য, লোকটি নামায নষ্ট হওয়ার মত কোনো কাজ না করেই সিজদা করেছে।

দুআ কুনুত না জানলে বিতরের নামাযে কোন দুআ পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৭৬) : আমার ছেলে দশ বছর বয়স থেকেই নামায পড়ে। অল্প কিছু সূরা আর নামাযের অন্যান্য দুআ-দরূদ পারলেও এখনো দুআ কুনূত মুখস্থ করতে পারেনি। জানতে চাই, ও কীভাবে বিতরের নামায পড়বে? একজন বলেছে, দুআ কুনূতের জায়গায় তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

নামাযে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে কি নামায নষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১৩০৭৫) : আমরা জানি যে, নামাযে অন্যের হাঁচির জবাব দিলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হল, নিজে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললেও নামায নষ্ট হবে কি?

তাকবীরে তাশরীক বলার সঠিক সময় কখন?

প্রশ্ন (১৩০৭৪) : তাকবীরে তাশরীক কি নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বলতে হয়? আমার এক বন্ধুর সাথে তাকবীরে তাশরীক নিয়ে আলোচনা উঠলে সে বলে তাকবীরে তাশরীক নামাযের পর সাথে সাথেই বলতে হয়। নামাযের পর কোনো কথাবার্তা বলে ফেললে তখন আর তাকবীর বলা যায় না। জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

মাসবুক ব্যক্তির ছুটে যাওয়া রাকাতের সংখ্যা মনে না হলে পাশের মাসবুক ব্যক্তিকে অনুরণ করে বাকি নামায আদ…

প্রশ্ন (১৩০৭৩) : নামাযে মাসবুক হওয়ার পর মাঝে মাঝেই ভুলে যাই যে, ইমামের সাথে কত রাকাত পেয়েছি। তখন আমার সাথে নামাযে শরীক হয়েছে এমন কোনো মাসবুক ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করে অবশিষ্ট নামায পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হলো, এভাবে নামায পড়ার দ্বারা নামায সহিহ হবে কি?

ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলা করা, গবাদি পশু চরানো ইত্যাদি কাজ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৯) : আমাদের ঈদগাহ মাঠটি আমাদের এলাকার এক মুরুব্বি ঈদের নামাযের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। এই মাঠে সারা বছর মানুষের চলাফেরা, খেলাধুলা, এমনকি কখনো গবাদি পশু বিচরণ করতেও দেখা যায়। ঈদের নামাযের পূর্বে ধোয়ামোছা করে মাঠটি নামাযের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এখন জানতে চাচ্ছি, দাতা কর্তৃক ঈদের নামাযের জন্য ওয়াকফ করার পরও সেখানে বর্ণিত কাজগুলো করা যাবে কি?

নামাযে শরীক হওয়ার আগে ইমাম সাহেবের সিজদার আয়াত তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩০৬৭) : ফজরের জামাত চলাকালীন আমি মসজিদে এসে ফজরের সুন্নত পড়ছিলাম। এমন সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত পাঠ করেন এবং সিজদাও আদায় করেন। সুন্নত শেষে আমি ঐ রাকাতের রুকুতে শরীক হয়ে যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় নামায শেষে কি আমার উক্ত সিজদা আদায় করতে হবে?

নামাযের একই রাকাতে কুরআনের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াতের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০৬৫) : রমযান মাসে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন কুরআন শরীফের দুআ সম্বলিত আয়াত দ্বারা তারাবীর নামায পড়ান। এক্ষেত্রে তিনি একই রাকাতে কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করেন। জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে একই রাকাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করার কী হুকুম?

এলাকাবাসী মসজিদ নির্মাণ করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০৬০) : আমাদের এলাকায় খ্রিস্টানদের বসবাস বেশি। এবং এই এলাকার জমিদার সব খ্রিস্টান। কিন্তু সেখানে অনেক মুসলমানেরও বসবাস রয়েছে। প্রায় দুই/তিন হাজার মুসলমান বসবাসকারীর জন্য নামাযের উপযুক্ত কোনো জায়গা না থাকায় তারা সাময়িকভাবে পাঞ্জেগানা মসজিদ বা জামে মসজিদের জন্য কোনো ফ্লোর ভাড়া নিতে পারবে কি? উল্লেখ্য যে, তাদের জায়গা ক্রয় করার মত আর্থিক সামর্থ্যও নেই এবং তারা সেই ভাড়া ফ্লোরে নামাযের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের কুরআন শেখার ব্যবস্থাও রাখতে চায়।

ধারাবাহিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হলে নামায আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩০৫৮) : আমি আসরের নামায আদায় করে ডেন্টালে যাই দাঁতের ট্রিটমেন্ট করানোর জন্য। এতে মাড়ির রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং মাগরিবের পুরো ওয়াক্তেই তা অব্যাহত ছিল। উক্ত অবস্থায়ই আমি অযু করে নামায আদায় করি। এখন জানার বিষয় হলো, রক্তক্ষরণের সময় নামায পড়া শুদ্ধ হয়েছে? নাকি উক্ত নামায পুনরায় পড়া আবশ্যক?

মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও জামাত আদায় করলে কি আযান দেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১৩০৫৭) : এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের পর সেখানে সবাই জামাতসহ নামায আদায় করি। উক্ত নামাযের পূর্বে আমাদের কেউ কেউ আযানের প্রস্তাব করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কি আমাদের আযান দেওয়া জরুরি ছিল?

তাকবীরে তাশরীক কতবার পড়া সুন্নত?

প্রশ্ন (১৩০৫৬) : কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে একজন নতুন ইমাম সাহেব এসেছেন। তো এই বছর তাকবীরে তাশরীক শুরু হওয়ার দিন নামাযের পর পরই সবাই একবার তাকবীর বলে থেমে যান। কিন্তু ইমাম সাহেব তিনবার পড়লেন। পরে সবাই তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনবার পড়াও সুন্নত। তো জানার বিষয় হল, তাকবীরে তাশরীক কতবার পড়া সুন্নত?

জানাযার নামাযের ক্ষেত্রে মাইয়েতকে নির্দিষ্ট করে নিয়ত করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১৩০৫৩) : একদিন এক জানাযায় উপস্থিত হয়ে অন্যমনস্ক থাকায় মাইয়েত পুরুষ না মহিলা এর বিবরণ শুনতে পাইনি। এমতাবস্থায় কীভাবে নিয়ত করব তা বুঝতে না পেরে উক্ত জানাযায় আর শরীক হইনি। জানার বিষয় হল, জানাযার নামাযে মাইয়েত পুরুষ না মহিলা তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে নিয়ত করা কি জরুরি?

ঔষুধের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখলে উক্ত সময়ের নামায-রোযার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩০৫০) : বর্তমানে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মাসিক স্রাব বন্ধ করে রাখা যায়। তাই অনেকে রমযান মাসের সবগুলো রোযা রাখার জন্য ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে। বিশেষত হ্জ্ব চলাকালীন হায়েয আসলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই অধিকাংশ মহিলা হজ্বের সময়গুলোতে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে, যেন হজ্বের আমলগুলো কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সম্পাদন করা যায়। এজন্য হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ করে রাখা কি জায়েয আছে? এ অবস্থায় কি সে নামায, রোযা ও তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করতে পারবে? যদি পারে তাহলে পরবর্তীতে এগুলো কাযা করা লাগবে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল নামায শুরু করার পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি তা কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৯) : একদিন শেষ রাতে নফল নামায পড়া অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত নফল নামায কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে?

পনের দিনের বেশি থাকার নিয়তে সফরে গিয়ে এর আগেই চলে আসার নিয়ত করলে কত রাকাত নামায আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৮) : গত মাসে সফরের উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পনের দিনের বেশি অবস্থানের ইচ্ছা ছিল। ভিসাও ছিল বিশ দিনের। কিন্তু কোনো কারণে আটদিন থেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা করি। প্রথমে তো পনের দিন থাকার ইচ্ছা ছিল, তাই মুকীম হিসেবে পূর্ণ নামাযই পড়েছি। কিন্তু আটদিন পর যখন চলে আসার সিদ্ধান্ত হলো তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই যে, এখন কসর করব নাকি আগের মতই পূর্ণ নামায পড়ব। পরে এ কথা ভেবে পূর্ণ নামায পড়া শুরু করি যে, চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়লে তো নামাযই হবে না, তবে দুই রাকাতের জায়গায় চার রাকাত পড়লে অন্তত নামায হয়ে যাবে। তাই হুজুরের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, পরবর্তী সময় কসর না করে পূর্ণ নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?