সালাত বা নামাজ

নামাযের মাঝে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে আবার নামায শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২০৮৩) : আমি আমাদের মাদরাসা মসজিদে ইমাম সাহেবের পেছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, আমরা নিয়ত ছেড়ে দিই। তাই মুসল্লিরা সবাই নিয়ত ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি একজন ছাত্রকে নামায পড়ানোর জন্য বলে ওযু করতে চলে যান। পরে ঐ ছাত্র তখনই পুনরায় নামায পড়িয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়বার জামাত করার সময় ইকামত দেওয়া হয়নি। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত না দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

ওজরবশত ইমাম সাহেবের আগে সালাম ফিরালে নামাযে সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৮২) : মসজিদের নিচ তলায় জায়গা না থাকায় আমরা কয়েকজন মুসল্লী আসরের নামাযের সময় মসজিদের দ্বিতীয় তলায় জামাতে দাঁড়াই। চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে ওঠার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন আমরা তাশাহহুদ, দরুদ শরীফ, দুআ মাসূরা পড়ে নিজে নিজেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি। আমরা সালাম ফিরানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে আসে এবং আমরা তখন ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর আওয়াজ শুনতে পাই। মুহতারামের কাছে জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় ইমামের আগে সালাম ফিরানোর কারণে কি আমাদের নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

কানটুপি দ্বারা কপাল ঢেকে থাকলে কি সিজদা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২০৮১) : শীতকালে শেষ রাতে প্রচণ্ড শীতের কারণে আমি কানটুপি ব্যবহার করি এবং সাধারণত এটি পরেই ফজরের নামায আদায় করি। এক্ষেত্রে কখনো এমনও হয় যে, কানটুপি পরার কারণে কপাল ঢেকে যায় এবং ঐ অবস্থাতেই সিজদা আদায় করা হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, কপাল কানটুপি দ্বারা আবৃত অবস্থায় সিজদা করার দ্বারা আমার সিজদা আদায় হবে কি?

সুন্নত নামাযে কি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৮০) : একদিন আমি মাগরিবের ফরয নামায মসজিদে পড়ে বাসায় এসে সুন্নতের নিয়ত বাঁধি। বাইরে থেকে অনেক আওয়াজ আসছিল। তাই নামাযে একাগ্রতা আনার জন্য আমি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়ি। নামায শেষে খটকা লাগে, এভাবে জোরে কেরাত পড়ার কারণে নামাযে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার ওপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? আমি সাহু সিজদা করিনি; আমার নামাযের কী হুকুম

এশার নামায আদায় করার আগে তারাবীর নামায আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৭৯) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়। মসজিদে পৌঁছে দেখি, তারাবী শুরু হয়ে গেছে। তখন আমি খতম ছুটে যাবে মনে করে এশার নামায না পড়েই তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরে বাসায় এসে এশা ও বিতির আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত তারাবী কি সহিহ হয়েছে?

নেফাসের সময়সীমা।

প্রশ্ন (১২০৭৮) : আমার প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নেফাস ছিল ১৮ দিন। দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার পর ২০ দিন রক্ত আসে। এরপর ১৬ দিন রক্ত দেখা যায়নি। পরে আবার ৬ দিন স্রাব এসেছে। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি কতদিন নেফাস গণ্য করব?

তায়াম্মুম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৭১) : আমি কয়েকদিন খুব অসুস্থ ছিলাম। তাই ডাক্তার আমাকে পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিল। তখন আমি তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতাম। এর মধ্যে একদিন আমার গোসল ফরয হয়। যেহেতু আমার পানি ব্যবহার করা নিষেধ তাই তায়াম্মুম করেই নামায আদায় করি। এখন আমি সুস্থ হয়ে গেছি। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন আমি কি করব? আমি কি শুধু ওযু করেই নামায পড়তে পারব নাকি ঐ ফরয গোসল করতে হবে? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২০৭০) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদেই দেখা যায় ইমাম সাহেব মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ান। আমি জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর কি গোসল করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২০৬২) : কিছুদিন আগে দুপুরে আমার একজন নিকটাত্মীয় ইন্তেকাল করেন।তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে তার জানাযার নামায পড়ানোর জন্য খুব অনুরোধ করেছিলেন। তাই তাঁর আশা রক্ষার্থে আমি জানাযার নামায পড়াই এবং দাফনের সময় কবরে নামি। দাফন শেষ হয় আসরের সময় হবার এক ঘণ্টা পর। তাই আমি দাফনের কাজ শেষে (অযু অবস্থায় থাকার কারণে) নতুন করে অযু না করেই আসরের নামায পড়ে নিই। পরে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি, যিনি ঐ দাফনকার্যে শরীক হয়েছিলেন, আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি দাফনের পরে গোসল না করেই আসরের নামায পড়লে কেন? এখন জানার বিষয় হল, মৃত ব্যক্তিকে গোসল বা কাফন-দাফন করানোর পর কি গোসল করা জরুরি?

সুন্নত নামাযে দাঁড়ানোর পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬১) : আমি মসজিদে যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম, এমতাবস্থায় ইকামাত শুরু হয়। তখন আমি চার রাকাত পূর্ণ না করে দুই রাকাত পড়েই সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হই। জানার বিষয় হল, চার রাকাতের নিয়ত করে দুই রাকাতে সালাম ফিরিয়ে ফেলাটা কি সঠিক ছিল,নাকি চার রাকাত পূর্ণ করে জামাতে শরীক হওয়া উচিত ছিল?

অজ্ঞান থাকা অবস্থায় ১০ ওয়াক্ত নামায ছুটে গেলে কি সেগুলো কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২০৫৮) : আমি সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হই এবং সাথেসাথে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে দুই দিন পরে আমার জ্ঞান ফিরে। এই দুই দিনে আমার ১০ ওয়াক্তের নামায ছুটে যায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, অজ্ঞান থাকা অবস্থায় যে ১০ ওয়াক্ত নামায আমার ছুটে গেছে, তা কি কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

মাছের রক্ত কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২০৫৭) : আমি একটি মাছের দোকানে মাছ কাটার কাজ করি। অনেক সময় মাছ কাটতে গেলে মাছের রক্ত আমার শরীরে এবং কাপড়ে লেগে যায়। জানার বিষয় হল, কাপড়ে মাছের রক্ত লাগলে সে কাপড় পরে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে, নাকি তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে?

অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৬) : আমি ওযুর মধ্যে সাধারণত পূর্ণ মাথা মাসাহ করি। একদিন তাড়াহুড়োর দরুন পূর্ণ মাথা মাসাহ করতে পারিনি। মোটামুটি অর্ধেকের মত করেছি। মুহাতারামের কাছে জানার বিয়ষ হল, অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

নামাযে ভুলে মুখে কিছু বলে ফেললে কি নামায বাতিল হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২০৪৫) : আমি মাগরিবের নামাযে ভুলে মুখে কিছু কথা বলে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? না হলে আমাকে কি সেই নামায আবার পড়তে হবে?

দুআয়ে কুনূত না পারলে বিতিরের নামাযে কি অন্য কোনো দুআ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০৪৪) : আমি একজন ড্রাইবার। আমি আগে নিয়মিত নামায পড়তাম না। এখন নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। আমি চারটা সূরা শিখেছি। কিন্তু বিতরের নামাযে যে দুআয়ে কুনূত পড়তে হয় সেটা এখনও শিখতে পারিনি। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমি বিতরের নামাযে কী পড়ব?

পানিতে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা পড়লে সেই পানি দিয়ে ওযু সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৩৯) : গতকাল ওযু করার সময় পাত্রে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা দেখেছি। পরে ঐ পানি দিয়েই ওযু শেষ করি। ঐ অযু দিয়ে আসরের নামায পড়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরার শুরুতে কি বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত?

প্রশ্ন (১২০৩০) : নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়ার পর আমি অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ে থাকি। আমি জানি এটা পড়া সুন্নত। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে একজন আলেম থেকে শুনলাম, সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত নয়। তাই আমি হযরতের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাচ্ছি।

কোনো নামাযের ওয়াক্তের মাঝে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি ঐ ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২০২৮) : যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আমার মাসিক শুরু হয়। কিন্তু তখনও আমি যোহরের নামায পড়িনি। ‍তবে যোহরের নামায পড়ার মত সময় আমার হাতে ছিল। আমি চাইলে নামায পড়তে পারতাম। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন কি আমার উক্ত নামায কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

বিতিরের নামাযের পর কি ছুটে যাওয়া তারাবীর নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০২৭) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে হাজির হতে দেরি হয়। ফলে আমার এশার নামায ও দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পড়তে চার রাকাত তারাবীহ ছুটে যায়। আমি দ্রুত এশার ফরয ও সুন্নত আদায় করে তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরবতীর্তে বিতির নামায পড়ার পরে ছুটে যাওয়া তারাবীহ আদায় করি। এখন এভাবে বিতিরের পরে তারাবীহ আদায় করা সহিহ হয়েছে কি?