জামায়াতে সালাত আদায়

ইমামের পিছনে মুসল্লিরা কিভাবে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৭) : আমরা ভার্সিটিতে মাঝে মাঝে নিজেরা জামাত করি। একদিন নামাযের জন্য কাতার করে দাঁড়ানোর সময় এক সাথী বললেন, প্রথম কাতারে যারা আছি তাদের ইমামের পিছনেই দাঁড়াতে হবে এটা আবশ্যক না। ইমামের পাশে ডানে বামে দাঁড়ালেও চলবে। আরেক সাথী বললেন, না, এভাবে দাঁড়ালে হবে না। ইমামকে সামনে এগিয়েই দাঁড়াতে হবে। যাই হোক আমরা আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমোক্ত সাথীর কথামতো ইমামের থেকে এক কদম সরে ডানে ও বামে তিনজন করে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। আর বাকি সাথীরা আমাদের পিছনে আরেক কাতারে। এখন জানার বিষয় হল, এইভাবে কাতার করে দাঁড়ালে কি নামায শুদ্ধ হবে? নাকি ইমামের একদম পিছনে কাতার করা বাধ্যতামূলক? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ছোট বাচ্চা বা পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪২৭) : বাসায় জামাত করে নামায আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে শুধু আমার ভাই ও আমার বোন থাকে। অনেক সময় কেবল আমার স্ত্রী ও আমার ছোট বাচ্চা। তো এধরনের ক্ষেত্রে জামাতে নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে? জানালে উপকৃত হব।

ভ্রান্ত আকীদার অনুসারী বিদআতী ব্যক্তি নামাযের ইমামতি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪২১) : গত ঈদে আমি চাচার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে চাচা বললেন, তোমাকে একটা বিষয় বলে রাখছি। তা হল, আমার জানাযার নামায বড় ছেলে রাশেদ পড়াবে। সে যদি না পড়ায় তাহলে তুমি পড়াবে। উল্লেখ থাকে যে, আমার জানা মতে রাশেদ ভাইয়ের কুরআন পড়া সহিহ-শুদ্ধ নয় এবং সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও পড়ে না। এমনকি তার দাড়িও নেই এবং সে দেওয়ানবাগীর মুরিদ ও তার আকীদার প্রচারক। এমতাবস্থায় আমার জানার বিষয় হল- ১. ইমাম হওয়ার জন্য কী কী গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন? ২. সে জানাযার নামায পড়াতে পারবে কি না? ৩. তার ইমামতি যদি জায়েয না হয় তাহলে জানাযায় উপস্থিত হাফেজ আলেম ও সাধারণ দ্বীনদার শ্রেণীর করণীয় কী হবে? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দলীল-প্রমাণসহ দিকনির্দেশনাদানে জনাব মুফতী সাহেবের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল।

মুক্তাদীর ভুলের কারণে ইমাম বা মুক্তদী কারো উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৪১০) : একদিন আমি জামাতের সাথে এশার নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফ অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলি। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের তাকবীর বলার পর স্মরণ হয় যে, আমি প্রথম বৈঠকে আছি। তারপর যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না করার কারণে কি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে রুকুতে পেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৫৮) : আমি অনেক সময় ইমামকে রুকুতে গিয়ে পাই। প্রশ্ন হল তখন আমি ছানা পড়ে রুকুতে যাবো না সরাসরি তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবো? এ সময় ছানা পড়ার বিধান কী?

রুকু-সিজদায় মুক্তাদী তাসবীহ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৩৭) : আমি একজন বয়স্ক মানুষ। ইমামের একেবারে সাথে সাথে উঠা-বসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকসময় রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়ার আগেই ইমাম সাহেব তাকবীর বলে উঠে যান। এমতাবস্থায় আমি কি তাসবীহ তিন বার পূর্ণ করে উঠব নাকি তিন বার পূর্ণ না হলেও ইমাম সাহেব তাকবীর বললে উঠে যাব?

একাকী নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কি আযান দিয়ে নেওয়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২৩২২) : আমি যে এলাকায় থাকি সেটা খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই। পার্শবর্তী এলাকায় যেখানে মসজিদ আছে ওখানকার আযানের শব্দ এখানে পৌঁছে না। এ অবস্থায় সাধারণত দু-চারজন একত্র হয়ে জামাতে নামায আদায় করলে আমরা আযান দিয়ে নিই। প্রশ্ন হল, যদি একাকী নামায পড়ি তাহলেও কি আযান দিয়ে নামায পড়া জরুরি? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

আযান ইকামত কি একই ব্যক্তি দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৩০০) : আমাদের মাদরাসার মসজিদের জন্য মুআযযিন নির্ধারিত আছে। মুআযযিন ঐ মাদরাসারই ছাত্র। সাধারণত মুআযযিনই আযান দেন। কিন্তু ইকামতের সময় অনেক সময় মাদরাসার মুহতামিম সাহেব ইকামত দেন। প্রায় ২/৩ ওয়াক্তে তিনিই ইকামত দেন। এটা নিয়ে কিছু মুসল্লী কানাঘুষা শুরু করে। জানার বিষয় হল, একজনে আযান দেওয়া অন্যজনে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?

অফিসে বা ঘরে জামাত করার জন্য কি মসজিদের আযান যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৩) : আমাদের অফিসে নামাযের জন্য ভিন্ন জায়গা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জামাত হয়। কিন্তু আযান দেওয়া হয় না। শুধু ইকামত দিয়ে নামায শুরু করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে মহল্লার আযান কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? নাকি পৃথকভাবে আযান দেওয়া লাগবে?

ইমাম সাহেব কি মেহরাবের ভিতরে দাঁড়াবে নাকি মেহরাবের বাহিরে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৫৭) : ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশে না দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র মেহরাবের ভেতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ালে নামায হবে কি? শুনেছি ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশেই দাঁড়াতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

আযান শেষে কি একসাথে আযানের জবাব দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২১৭৯) : আমি মোবাইলে কথা বলছিলাম। এর মধ্যে আযান শুরু হয়ে যায়। কথা বলা শেষ না হওয়াতে আযানের জবাব দিতে পারিনি। প্রশ্ন হল, কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে যদি আযান চলাকালীন আযানের জবাব দেয়ার সুযোগ না হয় তাহলে কি আযান শেষ হওয়ার পর জবাব দেওয়া যাবে?

নাবালেগ ছেলে আযান দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৪) : আমাদের মসজিদে একটি নূরানী মকতব আছে। মাঝে মাঝে মুআযযিন সাহেব না থাকলে মকতবের ছেলেরা আযান দেয়। যাদের বয়স আট থেকে দশ বছর। এসকল নাবালেগ ছেলেরা আযান দিলে কোনো অসুবিধা আছে কি না? জানানোর অনুরোধ রইল।

একাকী নামায পড়া অবস্থায় কেউ পিছনে এসে ইকতেদা করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৫) : একদিন আমি মাদরাসায় একাকী ফযরের নামায পড়ছিলাম। সেখানে দু’জন ছাত্র এসে আমার পিছেনে ইকতেদা করে। আমি একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেভাবে নামায পড়ে সেভাবেই নামায শেষ করি। নামায শেষে এদের একজন বলল, আপনার জন্য উচ্চ স্বরে কিরাত পড়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সঠিক নিয়মটা কী? কেউ যদি উঁচু আওয়াজে না পড়ে, তাহলে কি তার নামায হবে?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

তাকবীর বলে রুকুতে যাওয়ার সাথে সাথে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে কি ঐ রাকাত ধর্তব্য হবে?

প্রশ্ন (১২১০৪) : একদিন আসরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পাই। তখন আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। কিন্তু রুকুতে পৌঁছার সাথে সাথেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখন আমিও ইমামের সাথে আবার দাঁড়িয়ে যাই। এই অবস্থায় কি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে? নাকি আমি এই রাকাত পাইনি? আবার কখনো এমন হয় যে, রুকুতে পুরোপুরি পৌঁছার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখনই বা কী করণীয়? রুকু পাওয়ার জন্য ন্যূনতম অবস্থা কী?

ভুলে ওযু ছাড়া নামায পড়ানোর পর মনে পড়লে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৯১) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। গতকাল এশার নামাযের সময় আমার ওযু আছে মনে করে নামায পড়িয়ে দেই। নামাযের পর মুসল্লীরা সবাই যখন যার যার বাড়িতে চলে যায় তখন আমার মনে পড়ে, আমি তো ওযু ছাড়াই নামায পড়িয়ে দিয়েছি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমাদের জন্য করণীয় কী?

নামাযের মাঝে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে আবার নামায শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২০৮৩) : আমি আমাদের মাদরাসা মসজিদে ইমাম সাহেবের পেছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, আমরা নিয়ত ছেড়ে দিই। তাই মুসল্লিরা সবাই নিয়ত ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি একজন ছাত্রকে নামায পড়ানোর জন্য বলে ওযু করতে চলে যান। পরে ঐ ছাত্র তখনই পুনরায় নামায পড়িয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়বার জামাত করার সময় ইকামত দেওয়া হয়নি। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত না দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২০৭০) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদেই দেখা যায় ইমাম সাহেব মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ান। আমি জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আযান দিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬০) : আমাদের এলাকর মসজিদে আমি একদিন এশার আযান দেই। আযানের পর জানতে পারি, এশার ওয়াক্ত এখনো হয়নি। ওয়াক্ত হওয়ার পর লজ্জায় দ্বিতীয়বার আযান দিইনি। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আযান দিলে কি পুনরায় আযান দিতে হয়? লজ্জার কারণে পুনরায় আযান না দেওয়া কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।