জামায়াতে সালাত আদায়

মাজুর ইমামের পিছনে নামায পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৬) : আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের বাম হাতটি অচল। তাই তাকবীরে তাহরীমার সময় তিনি শুধু ডান হাত কান পর্যন্ত ওঠাতে পারেন। বাম হাত ওঠাতে পারেন না। তবে তাকবীরে তাহরীমার পর কিয়ামে স্বাভাবিকভাবেই দুই হাত নাভীর নীচে বাঁধতে পারেন। কিছু কিছু লোক বলছে, অন্য সুস্থ ইমাম পাওয়া গেলে এই ইমামের পেছনে নামায সহিহ হবে না। সুস্থ ইমাম পাওয়া পর্যন্ত তিনি ইমামতি করতে পারবেন। তাই আমরা জানতে চাচ্ছি, উক্ত ইমামের পেছনে নামায পড়ার হুকুম কী? সুস্থ ইমাম পাওয়া যাওয়ার পর তার পেছনে নামায সহিহ হবে কি? দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

বুঝমান নাবালেগ ছেলে আযান দিলে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৪১) : আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব মাঝে মাঝেই উপস্থিত থাকেন না। তখন এলাকার কোনো বুঝমান নাবালেগ ছেলে আযান দিয়ে দেয়। আমি জানতে চাচ্ছি তার আযান কি নামাযের জন্য যথেষ্ট হবে?

মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে ইমাম সাহেব রুকু দীর্ঘায়িত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৬) : আমি এক মসজিদের ইমাম। বিভিন্ন সময় অনেক মুসল্লী তাড়াহুড়ো করে রুকুতে শরীক হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মসজিদ বড় হওয়ার কারণে অনেকে রুকুতে শরীক হতে না পেরে মাসবুক হয়ে যায়। তাই কোনো সময় আমি রুকুকে একটু দীর্ঘ করি, যাতে মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হতে পারে। এভাবে রুকুকে দীর্ঘ করা কি শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও জামাত আদায় করলে কি আযান দেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১৩০৫৭) : এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের পর সেখানে সবাই জামাতসহ নামায আদায় করি। উক্ত নামাযের পূর্বে আমাদের কেউ কেউ আযানের প্রস্তাব করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কি আমাদের আযান দেওয়া জরুরি ছিল?

কোনো মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেবের রুকুতে দেরি করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩০২৭) : আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। অনেক সময় রুকুতে যাওয়ার পর কোনো কোনো মুসল্লীর দ্রুতগতিতে মসজিদে প্রবেশের শব্দ শোনা যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি উক্ত মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুতে একটু দেরি করি তাহলে এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হবে কি?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর কি ইক্তিদা করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩০১২) : আমি গতকাল আসরের নামাযে ইমাম সাহেবকে শেষ বৈঠকে পাই এবং ইমামের সালাম ফিরানোর পরে বাকি নামায পুরা করি। নামাযের পর এক ব্যক্তি বলল, আপনার নামায পুনরায় পড়তে হবে। কারণ ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করার পরে আপনি নামাযে শরীক হয়েছেন। এ সময় ইমামের ইক্তিদা করা সহিহ নয়। আমি জানতে চাচ্ছি, উক্ত ব্যক্তির কথা কি ঠিক? এখন আমার নামায কি পুনরায় পড়তে হবে?

খুতবা দেওয়ার সময় হাতে লাঠি রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০০৫) : অনেক মসজিদে খতীবদেরকে দেখা যায় যে, তাঁরা খুতবার সময় হাতে লাঠি ব্যবহার করেন আবার কেউ তা ব্যবহার করেন না। আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে কোন আমলটি শরীয়তসম্মত? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মাসাহকারী ব্যক্রির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৭৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ফলে তার হাত ভেঙে যায়। হাতে প্লাস্টার করা হয়। এখন তিনি প্লাস্টারের উপর মাসেহ করে নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় ইমাম সাহেবের পেছনে আমাদের ইক্তিদা কি সহিহ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

আযানের মত ইকামতেরও কি জবাব দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৭১) : নামাযের ইকামতের সময় অনেককে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাই ইমাম সাহেব একদিন বললেন যে, ইকামতেরও জবাব দেওয়া উচিত। জানার বিষয় হল, আসলেই কি ইকামতের জবাব দেওয়া আবশ্যক?

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আযান দিলে কি আযান সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯৫৮) : আমাদের এলাকার মসজিদের পাশে একটি মাদরাসা আছে। তো মসজিদের আযানের দায়িত্ব মাদরাসার হিফজখানার ছাত্ররা পালন করে থাকে। যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। জানার বিষয় হলো, অপ্রাপ্তবয়স্কদের আযান দেওয়া সহিহ আছে কি?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদার জন্য সালাম ফিরানোর সময় মাসবুক ব্যক্তি কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।

ফজর ও আসরের নামাযের পর ইমাম সাহেবের মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৭২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। সাধারণত ফজর ও আসর নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসি। কিন্তু এই ব্যপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে বিষয়টি কতটুকু শরীয়তসম্মত? যদি বিষয়টি শরীয়তসম্মত হয় তাহলে জানার বিষয় হল, পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসতে হবে, নাকি ডান বা বাম দিকে ফিরে বসলেও চলবে?

জামাতে নামাযের ক্ষেত্রে মুসল্লীরা কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৮০৯) : অনেককেই বলতে শোনা যায় যে, মুক্তাদীগণ মুআজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলা পর্যন্ত মুক্তাদীগণ অপেক্ষা করবে। তারপর দাঁড়াবে। আমার জানার বিষয় হলো, জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার সঠিক সময় কখন? আর ইক্বামত কি মুসল্লিরা দাঁড়ানোর পর দিবে? নাকি ইক্বামত শুরু করার পর মুসল্লিরা দাঁড়াবে?

ইমাম সাহেব মেহরাব ছেড়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ালে কোনো অসুবিধা আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৬৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কিছুদিন যাবৎ মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ান। আর মুসল্লিরা মসজিদের দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ান। বেশ কয়েকদিন যাবৎ এভাবে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু গত দুদিন আগে এক আগন্তুক বললেন, এভাবে নামায পড়ে তো আপনারা হাদিসে বর্ণিত প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে মাহরূম হচ্ছেন। কেননা এটা তো দ্বিতীয় কাতার; প্রথম কাতার নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশ দ্বিধায় আছি। তাছাড়া এ কথা শোনার পর অনেক মুসল্লি ইমাম সাহেবকে দোষারোপ করছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, হাদিস শরিফে যে প্রথম কাতারের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা কোন প্রথম কাতার উদ্দেশ্য? এবং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আমরা যে নামাযগুলো পড়েছি, তাতে প্রথম কাতারের ছাওয়াব পাব কি না? দয়া করে দলীলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

আযান দেওয়ার সময় ডানে বামে মুখ ফেরানোর বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৬৬০) : আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব আযানে حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় প্রায়ই ডানে বামে মুখ ফেরান না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আযানে حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে বামে মুখ ফেরানোর বিধান কী? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সময়ও কি ডানে বামে মুখ ফেরাতে হবে?

নাবালেগের পিছনে নামায আদায় করলে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১৫) : আমাদের টুপির একটি গার্মেন্ট আছে। আল্লাহর রহমতে সেখানে চার ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন নির্দিষ্ট ইমামও আছেন। ইমামের অনুপস্থিতে আমি নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে একদিন উভয়ে অনুপস্থিত ছিলাম তখন আমার ফুফাতো ভাই ইমামতি করে। আর সে হল মক্তবের ছাত্র, এখনো বালেগ হয়নি। আর উপস্থিত সকলেই নামায সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে, তারা কেউই ইমামতির দায়িত্ব পালনে সম্মত হচ্ছিল না, বিধায় অপারগ হয়ে আমার ফুফাতো ভাই নামায পড়ায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে? জানতে পারলে উপকৃত হব।

জামাতে নামায আদায় করার গুরুত্ব।

প্রশ্ন (১২৫৬০) : আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম (সা.) সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’ তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

মসজিদে একাকী ফরয নামায শুরু করার পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৪৯১) : আমাদের গ্রামের বাজার মসজিদে প্রায়ই জামাতের নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ-দশ মিনিট দেরি করে জামাত শুরু করে। তাই অনেক মুসল্লীই জামাতের অপেক্ষা না করে একাকী নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। পরে দেখা যায় জামাত শুরু হয়ে যায়। আমিও প্রায় সময় একাকী দাঁড়িয়ে যাই। একবার এশার নামাযে একাকী দাঁড়িয়ে গেলে এক রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে যখন কেরাত আরম্ভ করেছি তখন জামাত আরম্ভ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি বুঝতে পারছিলাম না- আমার কী করণীয়। আমি কি নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করব, নাকি পুরো নামায একাকী শেষ করে ফেলব- যেমনটা সাধারণত করে থাকে এখানকার অন্য মুসল্লীরা- নাকি দুই রাকাত পূর্ণ করে জামাতে অংশ নেব। অবশেষে চিন্তা করে দ্বিতীয় রাকাত সমাপ্ত করে জামাতে শরীক হয়ে গেলাম। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে আসলে কী করা উচিত? তাছাড়া আমি যা করেছি তা কি ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন। বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

জুমার নামাযে একই ব্যক্তির খুতবা দেওয়া ও ইমামতি করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২৪৮৮) : জুমার নামাযের খুতবা জুমার নামাযের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে আলেমদের মুখে শুনেছি। আমাদের মসজিদের যিনি খতীব, সাধারণত তিনিই খুতবা দেন এবং নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক জুমায় খুতবা দেওয়ার পর তিনি হাম্মামের জরুরতে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন। আর উপস্থিত একজনকে ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ করলেন। আমার জানার বিষয়, পরে যিনি নামায পড়ালেন তার ইমামতিতে কি আমাদের জুমা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হয়েছে? যেহেতু খুতবা তিনি দেননি, তিনি ছিলেন কেবল শ্রোতা। জানালে উপকৃত হব।

ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেওয়া ঠিক যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৫) : একদিন মুয়াযযিন সাহেব ভুলবশত মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিয়ে ফেলেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর আমার আব্বা তাকে পুনরায় আযান দিতে বলেন। তিনি বললেন, একবার তো আযান দেওয়া হয়েছে। আবার পুনরায় কেন আযান দেওয়া লাগবে? পূর্বের আযানই যথেষ্ট। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানালে উপকৃত হব।