নারীদের হজ্ব সংক্রান্ত

দুলাভাইয়ের সাথে হজ্বে যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৯৯) : আমার বয়স ১৮ বছর। আমি, আম্মা ও বড় বোন এবার আমাদের বড় দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্ব আদায় করেছি। হজ্ব থেকে ফেরার পর জানতে পারলাম যে, দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্বে যাওয়া আমার জন্য বৈধ হয়নি। তাহলে কি আমার হজ্ব সহিহ হয়নি?

ভিড়ের কারণে অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৬৮) : আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহিহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

বোনের নাতী কি মাহরামের অন্তর্ভূক্ত?

প্রশ্ন (১৩৬৫১) : আমার নানীর বোন হজ্বে যেতে চাচ্ছেন। তার ফ্যামিলিতে এমন কেউ নেই যে তাকে হজ্বে নিয়ে যাবে। তাই তিনি আমাকে নিয়ে হজ্বে যেতে চাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, আমি কি তার মাহরাম? তিনি কি আমার সঙ্গে হজ্বে যেতে পারবেন? দয়া করে জানাবেন।

উমরার তাওয়াফ করার আগেই কোনো মহিলার স্রাব চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৫৩) : আমার ভাবি উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই তার মাসিক স্রাব এসে যায়। পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও স্রাব বন্ধ হয়নি। এদিকে সফরের আর মাত্র দুই দিন বাকি। দুই দিন পরই দেশে চলে আসতে হবে। এখন তার করণীয় কী? মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাই।

কোনো মহিলা তার চাচাতো বোনের স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৩) : আমার মামা সৌদিতে থাকেন। এখন মামি হজ্ব করতে চাচ্ছেন। তবে সাথে যাওয়ার মত কোনো মাহরাম না থাকায় জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত চাচাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে মামা তাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার চাচাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?

নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬১) : আমি ছোট থেকেই আমেরিকায় বড় হয়েছি। বিয়ের পরেও স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে আমি দ্বীনের পথে ফিরে আসি। কিন্তু আমার স্বামী তা মেনে নেয় না। তাই এক পর্যায়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বর্তমানে আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে শুধু আমার মা ও ছোট বোনেরা থাকে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্পদ দান করেছেন। এখন আমি হজ্ব করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই। আমি কি একাকী হজ্ব করতে পারব?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৯) : এ বছর আমি ও আমার স্ত্রী হজ্ব করেছি। হজ্বের সময় ১০ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে ক্লান্ত থাকায় ঐ দিন তাওয়াফে যিয়ারত করিনি। ইচ্ছা ছিল পরের দিন আমরা তাওয়াফ করব। কিন্তু সেদিন রাতেই আমার স্ত্রীর স্রাব শুরু হয়ে যায়। প্রতিমাসের ন্যায় আট দিন তার স্রাব চলে। তার স্রাবের সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা মদীনায় চলে যাই। মদীনায় অবস্থান করার পর ফ্লাইট বিড়ম্বনার কারণে মক্কায় এসে মাত্র চারদিন অবস্থান করি। এ সময় আমার স্ত্রী পবিত্র ছিল। তাই সে তাওয়াফে যিয়ারত করে নেয়। এরপর আর কোনো তাওয়াফ করিনি। দেশে আসার পর একজন আলেম বললেন, আপনার স্ত্রীর দম দিতে হবে। প্রশ্ন হল, আমার স্ত্রীর হজ্ব কি হয়েছে? এবং তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে কি? যদি দম ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে এখন আমাদের কী করণীয়?

হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪০৬) : আমি আমার বাবার মিরাস থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ পেয়েছি। এই সম্পদ দিয়ে আমার হজ্বে যাবতীয় খরচ বহন করা সম্ভব। আর এ সম্পদ আমার প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে অতিরিক্ত। কিন্তু আমার মাহরাম পুরুষদের কারো হজ্ব করার সামর্থ্য নাই। এমতাবস্থায় আমার জন্য হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

ইহরাম অবস্থায় উকুন মারলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৫২) : আমি যখন চুল আঁচড়াই তখন আমি খুব উকুন মারি। ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ- এ মাসআলা আমি জানতাম না। হজ্বের পর এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা করতে গিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম, ইহরাম অবস্থায় উকুন মারা নিষেধ। কিন্তু আমি হজ্বের পাঁচ দিনেও তো অনেক উকুন মেরেছি। সে বলেছিল, আমার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু আমি তো হজ্ব শেষ করে দেশে ফিরে এসেছি। এখন এ দম কীভাবে আদায় করব। দম কি মক্কা শরীফ থাকতেই দিতে হয় নাকি পরে দেশে এসে আদায় করা যায়?

ইদ্দতের ভেতর হজ্ব পালন করলে কি উক্ত হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১০) : গত বছর আমি হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। মাহরাম হিসেবে আমার বড় ভাই আমার সাথে থাকবে। তো ফ্লাইটের কয়েকদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করে। তখন অনেকেই আমাকে হজ্বে না গিয়ে বাড়িতে থেকে ইদ্দত পালন করতে বলে। আমি তাদের কথা না শুনে নির্দিষ্ট তারিখে হজ্বের সফরে চলে যাই। জানার বিষয় হল, এভাবে ইদ্দতের ভেতর হজ্ব করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? আর আমার হজ্ব কি আদায় হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

ইহরাম অবস্থায় হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৪৬) : আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। ওখানে পৌঁছার পর উমরার তাওয়াফ করার আগেই আমার মাসিক স্রাব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তখন তা আমি পুরো বুঝতে পারিনি। তাওয়াফ সায়ী শেষ করার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, তাওয়াফের আগেই আমার মাসিক শুরু হয়েছিল। এরপর আমি আমার মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যাই। পরে একজন আলেমকে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন, এখন পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফটি করে নিতে। তাহলে আর কোনো জরিমানা দিতে হবে না। নতুবা একটি দম দিতে হবে। কিন্তু একজন সন্দেহ পোষণ করছেন যে, এখন তো আমি উমরার সব কাজ শেষ করে হালাল হয়ে গেছি। এখনো আমার এ সুযোগ আছে কি না? তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী তা জানতে চাই। এখন ওই তাওয়াফ পুনরায় আদায় করলে কি জরিমানা মাফ হয়ে যাবে এবং এক্ষেত্রে সায়ীও কি আবার আদায় করতে হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করলে কি ওমরাহ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬৪) : কিছুদিন আগে আমি আমার বয়স্ক চাচাতো ভাই ও চাচীর সাথে ওমরার সফরে গিয়েছিলাম। যেহেতু চাচী সার্বক্ষণিক সাথেই থাকবেন এবং ছিলেনও, তাই ভেবেছি চাচাতো ভায়ের সাথে সফর করতে দোষ নেই। তাছাড়া অনেকে এমনটা বলেছিলো। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া আমার ভাগিনা বলেছে আমাদের সফর করা ঠিক হয়নি। আবার কিছু কিছু লোক বলেছেন কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টা দলীলসহ জানতে চাই?

মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পা-মোজা পরিধান করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৭৩) : আমি এক তালীমে শুনেছি যে, মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাতমোজা, পা-মোজা পরা জায়েয আছে কি? দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব।

হজ্বে কি মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮২৮) : আমি হজ্বে যেতে চাচ্ছি। তাই এখন থেকে হজ্বের মাসআলা জানার চেষ্টা করছি। আমি একবার একটি কিতাবে পড়েছিলাম যে, ইহরামের সময় মহিলাদের চেহারায় কাপড় না লাগে এমন হ্যাট জাতীয় উঁচু কিছু ব্যবহার করে তার উপর নেকাব ঝুলিয়ে পর্দা করা ওয়াজিব। এখন আমাদের প্রশ্ন হল, কারো যদি এভাবে চেহারার পর্দা করা কষ্টকর হয় এবং এজন্য চেহারা খোলা রাখতে বাধ্য হন তবে কি তিনি গুনাহগার হবেন? ইহরাম ধারণকালীন সময়ের জন্য কি তিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে এতটুকু ছাড় পাবেন?

হজ্বের কয়েকটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৭৬) : আমি এবং আমার স্বামী ২০২৫ সালে হজ্বে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখন থেকেই আমি প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমি কয়েকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি। ১ . আমি সাধারণত হাতে-গলায় মিলিয়ে ২/৩ ভরি স্বর্ণ ব্যবহার করে থাকি। ইহরাম অবস্থায় কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব? ২. ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরলে কোনো সমস্যা হবে কি না? ৩. সাধারণত সবাই ইহরামের জন্য সাদা কাপড় ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও কি সাদা বোরকা পরতে হবে?

হায়েয অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৫) : আমার ফুফু এবার হজ্বে যান। ইহরাম অবস্থায় ৯ যিলহজ্ব তার হায়েয শুরু হয়। তার ফিরতি ফ্লাইট প্রথম দিকে হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই অবস্থায় ১২ তারিখ তাওয়াফে যিয়ারত ও ১৩ তারিখ তাওয়াফে বিদা করে দেশে চলে আসেন। এখন তার করণীয় কী? তার কি তাওয়াফে যিয়ারত আদায় হয়েছে?

নারীরা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০০) : আমি শুনেছি যে, মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বের সফর একাকী করতে পারে না। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয় তা আমার আছে। কিন্তু মাহরামকে সঙ্গে নেয়ার মতো পথ খরচ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের মতো সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে আমার পড়শী এক দম্পতি এ বছরই হজ্বে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিবেশী মহিলার সাথে আমি কি হজ্বের সফরে যেতে পারি? কারণ আমার না হলেও তার তো মাহরাম আছে এবং এতে করে মাহরামের যে প্রয়োজনীয়তা, তথা নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হওয়া- তা তো হয়েই যাচ্ছে। আর যদি এভাবেও আমার যাওয়ার অনুমতি না থাকে শরীয়তে তাহলে ফরয হজ্ব আদায়ে আমার করণীয় কী?

অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করালে কি তা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২৬৩) : আমি এবছর আমার মাকে নিয়ে হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। প্রথম দুই দিন প্রচুর ভিড়ের ভেতর মাকে সাথে নিয়ে কংকর মেরেছি। ১২ই যিলহজ্ব কাফেলার মুআল্লিম আমাকে বললেন, কংকর মারার সময় তো প্রচুর ভির থাকে তাই আজ আপনার মাকে কষ্ট না দিয়ে নিজেই তার পক্ষ থেকে কংকর মেরে দিন। এতে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। মুআল্লিমের কথা অনুযায়ী আমি নিজে সেদিন মায়ের পক্ষ থেকে কংকর মেরেছি। হজ্ব থেকে দেশে ফেরার পর একজন আলেমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নিজে কংকর মারতে পারলে অন্যকে দিয়ে কংকর মারানো জায়েয নেই।’ তার কথা কি ঠিক? ঠিক হলে এখন করণীয় কী?

হায়েয চলে আসার কারণে তাওয়াফে বিদা করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৩৩) : আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। হজ্বের অধিকাংশ কাজ পূ্র্ণ করার পর ১২ জিলহজ্ব আমার হায়েয শুরু হয়ে যায়। এবং ১৮ জিলহজ্ব আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। উল্লেখ্য, ১৮ জিলহজ্ব পর্যন্ত আমার হায়েয চলতে থাকে। তাই আমি তাওয়াফে বিদা না করেই রওয়ানা হয়ে যাই। আমি জানতে চাচ্ছি, তাওয়াফে বিদা না করে মদীনায় চলে যাওয়া কি ঠিক হয়েছে? এবং এর জন্য কি কোনো দম আবশ্যক হবে?

ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় সায়ী করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৩২) : এবার হজ্বের সফরে তাওয়াফে যিয়ারত করার পর সায়ী শুরু করার আগেই আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। তখন আমি এ অবস্থাতেই সায়ী করি। আমি জানতে চাচ্ছি, ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় সায়ী করা আমার জন্য সহিহ হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।