হজ্ব সংক্রান্ত অন্যান্য

ইহরাম অবস্থায় আতর মাখলে কি জরিমানা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৮৫) : রমযান মাসে আমি ওমরা করেছি। আমি যখন ওমরার তাওয়াফ করছিলাম তখন মাতাফের এক পাশে এক ব্যক্তি আতরের শিশি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সে আমার শরীরে আতর মেখে দেয়। তাওয়াফ শেষ করে শরীর ও কাপড়ের যে অংশে আতর লেগেছিল সে অংশ ভালোবাভে ধুয়ে ফেলি। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে অন্য কেউ শরীরে আতর লাগিয়ে দেয়ার কারণে আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি?

৯ যিলহজ্ব রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৩৬৬) : এ বছর হজ্বের সময় ৯ যিলহজ্ব মাগরিবের পর আমরা আরাফা থেকে হেঁটে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। এক জায়গায় এসে আমীর সাহেব বললেন, রাতে আমরা এখানেই অবস্থান করব। হজ্বের পরে জানতে পারলাম যে, রাতে আমরা যে জায়গায় অবস্থান করেছি তা মুযদালিফার বাইরে ছিল। আমীর সাহেবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করা জরুরি নয়। সকালে ফজরের পর কিছু সময়ের জন্য মুযদালিফায় অবস্থান করাই যথেষ্ট। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমীর সাহেবের এ কথা কি ঠিক? এছাড়া সকালেও আমরা মুযদালিফায় অবস্থান করিনি। বরং মুযদালিফার উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে তা অতিক্রম করে গিয়েছি। এভাবে কি আমাদের মুযদালিফায় অবস্থানের ওয়াজিব আদায় হয়েছে? আর এ কারণে আমাদের উপর কোনো জরিমানা আসবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ভাড়া বাড়ি থেকে প্রাপ্ত টাকার উপর কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৩৫) : আমার একটি তিন তলা বাড়ি আছে। বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় আমি আমার পরিবারসহ থাকি। বাকি দুই তলা ভাড়া দেয়া আছে। সেগুলোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৩২,০০০/- টাকা পাই। এ আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। মাস শেষে কখনো কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে। কখনো থাকে না। এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব ফরয হয়েছে?

ইহরাম অবস্থায় মুরগী জবাই করলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৩০৬) : আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ইহরাম বেধেছি। হঠাৎ মা একটি রোগা মুরগী হাতে নিয়ে বললেন, বাবা! জলদি মুরগীটি জবাই কর। না হয় মরে যেতে পারে। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে মুরগীটি জবাই করে দিয়েছি। দূর থেকে আমার চাচা এটা দেখে বললেন, ইহরাম অবস্থায় কোনো কিছু জবাই করা নিষেধ তাই জরিমানা হিসেবে তোমার উপর একটি দম ওয়াজিব হয়েছে। আমি জানতে চাচ্ছি, চাচার উক্ত কথা কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

১২ যিলহজ্ব মাগরিবের পর তাওয়াফে যিয়ারত করলে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৫৭) : আমি মীনায় কংকর নিক্ষেপ করার পর কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই তাওয়াফে যিয়ারত করতে বিলম্ব হয়ে যায়। ইচ্ছা ছিল, ১২ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে তাওয়াফ করব। কিন্তু মীনা থেকে আসার পর প্রচন্ড ভীড় দেখে তাওয়াফ করার সাহস হয়নি। মাগরিবের পর ভীড় কমে গেলে তাওয়াফ করেছি। ১২ যিলহজ্ব মাগরিবের পর তাওয়াফ করার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?

মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৮) : এক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেছেন, কিন্তু মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধেননি। আবার আইনী জটিলতার কারণে মীকাতে ফিরে এসেও ইহরাম বাঁধতে পারেননি। প্রশ্ন হল, এই অবস্থায় হজ্বের ইহরাম তিনি কোত্থেকে বাঁধবেন? উক্ত ওজরের কারণে মীকাতের ভিতরে ইহরাম বাঁধলে তার উপর দম আসবে কি?

হজ্বের জন্য টাকা জমা করলে কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২১৯) : আমি হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ৩ লক্ষ টাকা জমা করেছি। আমার ভিসার কাগজপত্রে সমস্যার কারণে এ বছর হজ্বে যাওয়া হয়নি। আগামী বছর যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার জানার বিষয় হল, বছর অতিবাহিত হলে হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি?

মদীনা যিয়ারতের পর ইহরাম ছাড়া মক্কায় এসে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯৫) : হজ্বের পর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে ইহরাম না বেঁধেই মক্কায় চলে এসেছি। এবং দেশেও চলে এসেছি। এখন উপায় কী?

হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করে টাকা খরচ করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৫) : কোনো ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হওয়ার পর সে তা আদায় করল না। এভাবে বিলম্ব করার পর একসময় তার সম্পদ খরচ হয়ে গেল। এবং তার ঐ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকল না, যা দ্বারা তার উপর হজ্ব ফরয হয়। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী?

সাঈ করার সময় চক্কর ছুটে গেলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬১) : আমার এক প্রতিবেশী ওমরা করার সময় সাঈতে ছয় চক্কর দিয়েই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। এরপর সে আর সাঈর বাকি চক্কর পূর্ণ করেনি। এভাবেই দেশে চলে আসে। প্রশ্ন হল, তার ওমরা সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে তার করণীয় কী? আর যদি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে তার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোনো মহিলা কি মাহরাম ব্যতীত হজ্বে যেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৮) : আমার স্ত্রীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমি দেশের বাইরে আছি। আমরা দু’জন একসাথে হজ্ব পালন করব। বাংলাদেশ থেকে আমার স্ত্রীকে শ্বশুর সৌদি এয়ারলাইন্স পর্যন্ত দিয়ে যাবেন আর আমি এদিক থেকে তাকে রিসিভ করব। এখন হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, বাংলাদেশ থেকে বিমানে সৌদি আসতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। এমতাবস্থায় এই অল্প কয়েক ঘণ্টা মাহরাম ছাড়া সফর করতে কি কোনো প্রকার অসুবিধা আছে?

হজ্ব করার জন্য টাকা জমা করার পর তা অন্য প্রয়োজনে খরচ করে ফেললে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৭) : আমি অনেক আগে থেকেই হজ্ব করার নিয়তে টাকা জমা করছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার হজ্ব করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা জমাও হয়ে যায়। কিন্তু ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘর-বাড়ি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হজ্বের জন্য জমানো টাকা দিয়েই এর মেরামত ও সংস্কার করি। বর্তমানে আমার কাছে হজ্ব করার মত অর্থকড়ি নেই। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হয়েছে? এবং আমার জন্য কি হজ্ব করা আবশ্যক?

মুহরিম ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে নিজের অজান্তে মাথা ঢেকে ফেললে কি তার উপর দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৯) : একদিন এহরাম অবস্থায় রাত্রে ঘুমানোর সময় ঠাণ্ডার কারণে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। প্রথমদিকে মুখ খোলা রেখেই ঘুমিয়ে ছিলাম। কিন্তু ঘুমে আমার অজান্তেই মাথা ঢেকে ফেলি। দেশে আসার পর এ বিষয়ে এক হাজ্বী সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, আপনাকে দম দিতে হবে। অবশ্য আমি রাত ১১ টায় ঘুমিয়েছি তিনটায় উঠে পড়েছি। এখন আমি এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর কোনো কারণে হজ্বে যেতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯০৮) : ইদানিং হজ্বের মওসুমে হজ্বযাত্রীদের অনেকে হজ্ব এজেন্সী কর্তৃক বিড়ম্বনার শিকার হন। তাদের মধ্যে কারো কারো বেলায় এমনও ঘটে যে, ইহরাম বেঁধে ফ্লাইটের দোরগোড়ায় যাওয়ার পর ফেরত আসতে হয়। এখন জানার বিষয় হল, কেউ কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্বে যেতে না পারলে তার করণীয় কী? সে ইহরাম থেকে হালাল হবে কীভাবে? এবং পরবর্তীতে উক্ত হজ্ব কাযা করার নিয়ম কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৮৯৪) : কিছুদিন আগে আমি শ্রমিক ভিসায় সৌদীআরব এসেছি। কাজ কোথায় হবে তা আগে থেকে আমার জানা ছিল না। জেদ্দায় পৌছার পর ভিসাদাতা কোম্পানি মক্কার একটি রডের দোকানে আমাকে নিয়োগ দেয়। মক্কায় পৌঁছার পর আমি জানতে পারি যে, ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করা অন্যায়। ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করলে নাকি জরিমানা স্বরূপ দম দিতে হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতিতে আমার করণীয় কী?

বাইতুল্লাহ দেখলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৮৮৭) : একবার আমি একটি মাহফিলে শুনেছিলাম, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি কারো পক্ষ থেকে বদলী হজ্বে যায় তাহলে বাইতুল্লাহ দেখামাত্র তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তদ্রুপ কেউ যদি ওমরায় যায় তাহলেও নাকি বাইতুল্লায় পৌঁছলেই তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, এ কথা কতটুকু সঠিক? দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন।

নাবালেগ বাচ্চা কিভাবে হজ্ব আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৮৮৩) : আমি আমার পরিবারকে নিয়ে হজ্বে যেতে চাচ্ছি। এর মাঝে আমার ছোট একটি ছেলে আছে, যার বয়স সাত বছর। প্রশ্ন হল, নাবালেগ বাচ্চাদের হজ্ব আদায়ের পদ্ধতি কী? আর ইহরাম অবস্থায় তারা যদি ইহরাম পরিপন্থী কোনো কাজ করে তবে এর হুকুম কী?

ফরয হজ্বের সাথে মান্নতের হজ্বের নিয়ত করা যাকে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৩) : আমি অনেক দিন যাবৎ মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছি। অসুস্থতার এক পর্যায়ে আমার মা একটি মান্নত করেছে যে, আল্লাহ যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি একটি হজ্ব করব। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে এখন আমি সুস্থ। আবার আমার মায়ের উপরও হজ্ব ফরয। কিন্তু এখনো তা আদায় করার সুযোগ হয়নি। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন যে, তার কয়টি হজ্ব আদায় করতে হবে। একটি হজ্ব আদায় করলে উভয়টির ক্ষেত্রে (ফরয ও মান্নত) যথেষ্ট হবে কি না? জানালে খুব উপকৃত হব।

সৌদিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক হজ্বের অসিয়ত করলে তা কিভাবে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৮৪৭) : আমার বন্ধু শৈশব থেকেই পিতা-মাতার সাথে সৌদিআরব থাকে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। চার-পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশে এসে দু’-এক মাস থেকে আবার চলে যায়। সে গত বছর সৌদিতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়। তখন সে মান্নত করেছিল, আমি পূর্ণ সুস্থ হলে আমার ফরয হজ্ব পালন করে নেব। আর না পারলে তোমরা আমার পক্ষ থেকে হজ্ব করে নিবে। কিন্তু কিছুদিন পর সে আবার আক্রান্ত হয়ে ইন্তিকাল করে। পরে সৌদিআরব থেকে তাকে বাংলাদেশে এনে দাফন করা হয়। এখন হুজুরের নিকট জানার বিষয় হলো, তার ওসিয়তকৃত হজ্ব সৌদিআরবে অবস্থানরত তার বাবা/ভাই বা অন্য কারো মাধ্যমে করাতে হবে, নাকি বাংলাদেশ থেকে কাউকে পাঠিয়ে তার ওসিয়তকৃত হজ্ব করাতে হবে?