কোনো কাজ না করার কসম করার পর ভুলে তা করে ফেললে কি কসম ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৮৯৩) : একবার আমি আল্লাহ তাআলার নামে কসম করে বলি যে, আমি এ কাজটি কখনো করব না। কিন্তু পরে বেখেয়ালে উক্ত কাজটি করে ফেলি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত কাজটি ভুলে করার দ্বারাও কি আমার কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে? দয়া করে জানাবেন।

কসম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৭৭৬) : আমি কুরআনের কসম করে বলি যে, আমি এই কাজ করব। কিন্তু পরে আমি আর ঐ কাজটা করতে পারিনি। এখন জানার বিষয় হলো, আমার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছিল? এখন আমার করণীয় কি?

নাবালেগ ছেলে কসম ভেঙ্গে ফেললে কি তার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৬৩) : আমার চাচাতো ভাইয়ের বয়স ১০ বছর। সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল। আবার কছুদিন পরেই টেলিভিশন দেখে ফেলে। এখন তার উপর কসমের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কসমের কাফ্ফারা আদায় করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৭০৭) : আমি কিছুদিন আগে একটি বিষয়ে কসম করে পরে তা ভঙ্গ করে ফেলি। কিন্তু বর্তমানে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়ে কসমের কাফ্ফারা আদায় করার মত সামর্থ্য আমার নেই। এখন কি আমি রোযার মাধ্যমে উক্ত কসমের কাফ্ফারা দিতে পারব নাকি টাকা হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?

কসমের কাফ্ফারা আদায় করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৫১০) : একদিন এক দরিদ্র লোক আমার কাছে চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা চাইলে আমি খবর নিয়ে জানতে পারলাম তার বাড়ি ভোলা। এবং সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। আর এদিকে আমি ইতিপূর্বে একটি কসম করে ভঙ্গ করেছি। তাই ভাবলাম, আমাকে তো দশজন দরিদ্রকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে বা এর মূল্য দিতে হবেই তাহলে এই ব্যক্তিকে দুই বেলার মূল্য ১০০ টাকা দিয়ে দেই। কিন্তু আমার কাছে মাত্র পঞ্চাশ টাকা ছিল। তাই এক বেলার নিয়তে দিয়ে দেই। পরে একজন আলেমকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, এভাবে কাফফারা আদায় হবে না। একজনকে পূর্ণ দুই বেলার মূল্যই দিতে হবে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ আলেম কি ঠিক বলেছেন?

একাধিক কসম করে ভঙ্গ করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫০০) : আমি তিনটি বিষয়ে পৃথক পৃথক কসম করেছিলাম এবং ভুলবশত প্রত্যেকটি বিষয়েই কসম ভঙ্গ করেছি। এখন হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ঐ তিনটি কসম ভঙ্গের জন্য কি একটি কাফফারা যথেষ্ট হবে, নাকি প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা দিতে হবে?

কসমের কাফ্ফারার রোযা আদায় করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৬) : কসমের কাফফারার রোযা কি ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক, নাকি বিরতি দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখার অনুমতি আছে? একাধিক কসমের জন্য কি একাধিক কাফফারাই লাগবে, নাকি একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে?

দাড়ি না কাটার কসম করার পর কেটে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৬১) : আমার বড় ভাই সবসময় দাড়ি কাটে। তাকে অনেক বুঝানোর পর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে গিয়ে এভাবে বলে, আমি যদি আর দাড়ি কাটি তাহলে আমি মুসলমান না। পরে সে দাড়ি কেটেছে। এখন তার বিধান কী? তার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কী হবে? কেউ কেউ বলেন, তার এ কথায় কোনো কসম সংঘটিত হয়নি। কারণ দাড়ি যে একেবারে কাটা যায় না এমন তো নয়। এক মুষ্ঠির বেশি হলে তো কাটা যায়। দয়া করে সঠিক সমাধান জানাবেন।

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১৩২৯৭) : একবার আমার বন্ধু রাফির সাথে আমার খুব ঝগড়া হয়। তখন আমি কুরআন শরীফ ছুঁয়ে কসম করে বলি যে, আমি আর জীবনেও রাফিদের বাসায় যাব না। পরবর্তীতে মিলমিশ হয়ে গেলে আমি রাফিদের বাসায় যাই। এখন জানতে চাচ্ছি, এভাবে কুরআন শরীফ ছুঁয়ে কসম করার কারণে কি তা কসম বলে গণ্য হয়েছে? এবং এটা ভঙ্গ করার কারণে কি আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?

কসমের কাফ্ফারা স্বরুপ ছোট বাচ্চাকে খাওয়ালে কি কাফ্ফারা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩২৭৩) : আমি একটি কসম করেছিলাম, পরবর্তীতে তা ভঙ্গ হয়ে যায়। বিষয়টি একজন আলেমকে জানালে তিনি কসমের কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দু’বেলা পেটপুরে আহার করানোর পরামর্শ দেন। সুতরাং আমি এলাকার একজন প্রবীণ মিসকীনকে দু’বেলা খাবারের জন্য তিনিসহ দশজন মিসকীন দাওয়াত দিতে বলি। রাতে খাবার পেশ করা হলে তাদের সাথে থাকা ৬/৭ বৎসরের একটি ছেলে অল্পকিছু খাবার খায়। দুপুরেও ছেলেটি তাদের সাথে ছিল। যেহেতু ছেলেটি তাদের দশজনের একজন তাই তার কম খাওয়ার কারণে আমার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, বাচ্চাটির কম খাওয়ার কারণে কাফফারা আদায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি? সমস্যা হয়ে থাকলে এখন আমার করণীয় কী?

কসমের কাফ্ফারা আদায়ের পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২৩৬) : আমার বাবা গত মাসে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্তেকালের আগে তিনি একটি অসিয়তনামা লিখে যান। তাতে লিখা ছিল- ‘আমার উপর প্রায় ২০ টি কসমের কাফফারা অবশিষ্ট রয়েছে। তোমরা সেগুলো আমার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে আদায় করে দিও।’ আমরা সকল ওয়ারিশগণ তার কসমের কাফফারা আদায় করতে প্রস্তুত রয়েছি। জানতে চাচ্ছি, তাঁর সবক’টি কসমের জন্য একটি কাফফারা আদায় করলে যথেষ্ট হবে নাকি প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা কাফফারা লাগবে? আর কসমের কাফফারা আদায়ের নিয়ম কী হবে?

কসম করে চার মাসের অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকার পর উক্ত কসম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২১৩) : একদিন আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আমি রাগের মাথায় তার সাথে এই বলে কসম করে ফেলি যে, আমি কোনোদিন তোমার সাথে মেলামেশা করব না। অতপর এক সপ্তাহ বাড়িতেই আলাদা ঘরে ছিলাম। কিন্তু সেই বিষয়টি নিয়ে আবার ঝগড়া হলে আমি ঢাকায় বোনের বাসায় চলে আসি এবং পাঁচ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখি। এর মধ্যে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হলে আমি বাড়ি ফিরে যাই। এখন হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি এই কসম থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাব? এবং কসমের কাফফারা কীভাবে আদায় করব?

মক্কা মদিনার নামে কসম করলে কি উক্ত কসম সংঘটিত হবে?

প্রশ্ন (১২৯৫০) : আমি একবার আমার স্ত্রীর সাথে এভাবে কসম করেছিলাম যে, ‘যাও! মক্কা মদীনার কসম করে বলছি, আমি আর কখনো ইচ্ছা করে নামায ছাড়ব না। সর্বদা নামায পড়ব।’ কিন্তু আমি এরপরও অনেকবার নামায ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার করণীয় কী? আমাকে কি এর কাফফরা আদায় করতে হবে? কাফ্ফারা আদায় করতে হলে কীভাবে আদায় করব? বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইলো।

কোনো কাজ না করার কসম করার পর তা করে ফেললে করণীয়?

প্রশ্ন (১২৯২৭) : আমি আমার ছেলেকে মাদরাসায় দিয়েছি। কিন্তু সে মাদরাসায় পড়তে চায় না। বিভিন্ন সময় সে মাদরাসা থেকে চলে আসত। এভাবে সে তার জীবনের অনেক সময় নষ্ট করেছে। তাই একদিন আমি তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলেছি, কসম করে বললাম তোকে আর আমার ঘরে ঢুকতে দিব না। এরপর বিভিন্ন সময় সে আমার ঘরে আসতে চাইলেও আমি তাকে ঘরে ঢুকতে দিইনি। আল্লাহর রহমতে এখন সে মাদরাসায় পড়ে। হযরতের কাছে জানতে চাই, এখন আমি তাকে আমার ঘরে আসতে দিতে পারব কি না? একজন আলেম বলেছেন, আমি যেহেতু আল্লাহর নামে কসম করি নাই তাই আমার কসমই হয়নি। সঠিক বিষয়টি হুযূরের কাছে জানতে চাই।

একই কসমের কথা একাধিকবার বললে কি একাধিক কাফ্ফারা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৮৯০) : একবার আমি আমার ছোট ভাইয়ের সাথে রেগে গিয়ে একটি বিষয়ে কসমের নিয়তে বলে ফেলি যে, আমি কাজটি করব না। পরের দিন সে আবার প্রসঙ্গটি উঠালে আমি গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আবারো কসম করে একই কথা বলি। এমনভাবে অন্য একজনের সাথে আলাপকালে ঐ বিষয়ে একই ধরনের কসম করি। কিন্তু পরে ঐ ছোট ভাইয়ের চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে কাজটি করে ফেলি। এখন জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কি প্রত্যেকবার কসমের জন্য আলাদা আলাদা কাফফারা দিতে হবে, না সবক’টির জন্য একটা কাফফারা দিলেই হয়ে যাবে?

মুখে প্রকাশ না করলে কসম হবে কি

প্রশ্ন (১১৮০৩) : আমি মনে মনে কসম করেছিলাম যে, অমুক কাজটি আর করব না। তবে মুখে তা উচ্চারণ করিনি। পরবর্তীতে উক্ত কাজটি করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে?