বাই’ সালাম বা অগ্রীম ক্রয়-বিক্রয়

সালাম চুক্তিতে পরবর্তীতে কোনো শর্ত যু্ক্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৩০০) : দুই মাস আগে আমি একজন কৃষক থেকে ৫০০/- টাকা দরে ১০ মণ ধান ক্রয় করি। চুক্তিটি এমন ছিল, আমি তাকে নগদ ৫০০০/- টাকা দিবো। ছ’মাস পর সে দশ মণ ধান দিবে। কিন্তু এখন ধান দেওয়ার সময় সে আমাকে আট মণ ধান দিয়ে বাকি দু’মণের টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছে। এবং বলছে, এবার ধান কম হয়েছে। আমি তাকে বললাম, দু’মণ ধান কম এ শর্তে নিতে পারি, যদি সে বাকি ধানগুলো সেদ্ধ করে শুকিয়ে দেয়। এবং এর বিনিময় হিসেবে বাকি দু’মণের টাকা সে রেখে দিবে। আমাকে ফেরত দিতে হবে না। সে এতে সম্মত হয়। প্রশ্ন হল, ধান সেদ্ধ করে দেওয়ার এই চুক্তিটা বৈধ হয়েছে কি? হুযুরের কাছে জানতে চাই।

কোনো পণ্য হাতে পাওয়ার আগে তা বিক্রির চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৬৫) : আমি গ্রামের এক চাষীকে এক লক্ষ টাকা এই শর্তে দিয়েছি যে, তিন মাস পর সে আমাকে পাঁচ শত টাকা মন হিসেবে দুইশ মন ধান দিবে। টাকা দেওয়ার এক মাস পরেই আমার একটি ছেলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন আমার বড় ভাই থেকে ৫০,০০০/- টাকা এই বলে ঋণ নিয়েছি যে, দু’মাস পর ঐ কৃষক দুইশ মন ধান দিলে আমরা দু’জনে একশত মন করে ভাগ করে নিব। আর এভাবে তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। জানার বিষয় হল, ভাইয়ের সাথে এই ঋণ চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে?

অগ্রীম ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৪) : আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার স্বার্থে অনেক সময় অগ্রীম বিক্রয় চুক্তি করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় অনেক ব্যবসায়ীকে দেখা যায় যে, তারা ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নেয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে আগাম বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে আমার (ক্রেতার) জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য সরবরাহ করা পর্যন্ত ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে কোনো কিছু বন্ধক নেওয়া কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অগ্রিম পণ্য ক্রয় করার পর পণ্য পরিশোধের সময় তার বাজার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৮৩) : আমাদের এলাকায় টাকা পয়সা ঋণ নেওয়ার একটা প্রচলন আছে। তা হলো, কারো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হলে অন্যের নিকট থেকে এই শর্তে টাকা নেয় যে, এখন এক হাজার টাকা দিব, এক/দুই মাস পর সে টাকার বিনিময়ে দুই মণ ধান দিতে হবে। মেয়াদ শেষে ঋণদাতা কখনো ধান না নিয়ে সে সময়ের বাজারদর হিসেবে ধানের মূল্য নিয়ে নেয়। অনেকে এ ধরনের লেনদেনকে সুদী কারবার বলে। কারণ, এর দ্বারা ঋণদাতার লাভ হয়। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উক্ত লেনদেনের শরয়ী হুকুম কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৫) : আমি একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করেছি যে, আমি তাকে ফসল বোনার সময় ২০,০০০/- টাকা দিব। বিনিময়ে সে আমাকে ৩ মাস পর ২ মন ফসল দিবে, যার মূল্য তখন আনুমানিক ৩২,০০০/- টাকা দাঁড়ায়। এরকম চুক্তি জায়েয কি না?

বই ছাপানোর পূর্বে অগ্রিম বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৪) : আমার একটি লাইব্রেরী আছে। অনেক সময় কোনো বইয়ের পূর্বের সংস্করণ শেষ হয়ে যায় বা পূর্বের কোনো বই নতুন করে ছাপা হয়। ফলে তখন অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আবার বই কী পরিমাণ বিক্রি হবে সে ব্যাপারেও ঝুঁকি থাকে। অগ্রিম বেশ কিছু কপি বিক্রয় হয়ে গেলে এ ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়। এজাতীয় ক্ষেত্রে অনেক লাইব্রেরী কম মূল্যে অগ্রিম বই বিক্রয় করে দেয়। ৩০-৩৫% পর্যন্তও ছাড় দিয়ে থাকে তারা। গ্রাহকগণও এর প্রতি আগ্রহী থাকে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে অগ্রিম বেচা-কেনা করতে কোনো সমস্যা আছে কি না? এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে কী কী বিষয় লক্ষণীয়?

অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৭) : আমাদের এলাকায় সাধারণত শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

কাউকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৬) : মুহতারাম! আমার জানার বিষয় হল, আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় এভাবে চুক্তি করা হয় যে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকে ১০ মন ধান কিনলাম। ধানের মৌসুমে ধান না দিয়ে ধানের মূল্য দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তারা ধানের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে ধানের মৌসুমে ঐ পরিমাণ ধানের মূল্য ঋণের টাকার থেকে বেশি হয়। এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না?

বাকিতে ক্রয় করা পণ্য হাতে পাওয়ার আগে অন্যত্র বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১১৭৫৩) : আমি এক ব্যক্তির সাথে ৬ মাসের মেয়াদে ১৬ হাজার টাকায় ২০ মন গম ক্রয় করার চুক্তি করি। এবং তাকে আমি ১৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে দেই। এখন আমার কিছু টাকার প্রয়োজন পড়ে। তাই আমি আমার এক প্রতিবেশীর কাছে নগদ ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ মন গম বিক্রি করে দেই। এবং তাকে বলি যে, যখন আমি গম পাব তখন আমি তোমাকে সেখান থেকে ১০ মন গম দিয়ে দিব। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমার উক্ত বিক্রি কি সহিহ হয়েছে?

পণ্য হস্তগত করার আগে অন্যত্র বিক্রি করা জায়েয নেই।

প্রশ্ন (১১৭৩৮) : আমার একটি মাকতাবা আছে। আমি ভারতের একটি মাকতাবা থেকে ‘সালাম’ চুক্তির ভিত্তিতে পাঁচ মাসের মেয়াদে পাচঁ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১০০ সেট ফাতাওয়ায়ে শামী ক্রয় করি। এই চুক্তির সময় আমি উক্ত মাকতাবাকে পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। চুক্তির পাঁচ মাস পূর্ণ হতে এখনো তিন মাস বাকি। এখন আমার জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকার প্রয়োজন। তাই আমি ঐ ১০০ সেট ফাতাওয়ায়ে শামী থেকে ৫০ সেট আমার পাশের এক মাকতাবার কাছে নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে চাচ্ছি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার এই বিক্রি কি জায়েয হবে?

পণ্য হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি করা নিষেধ।

প্রশ্ন (১১৬৫৫) : আমি ইটের ব্যবসা করি। প্রতি বছর নতুন ইট বের হওয়ার আগেই কিছু কম দামে ইটখোলার মালিক থেকে এক নাম্বার ১ লক্ষ ইট ক্রয় করে রাখি। নতুন ইট বের হওয়ার পর বিভিন্ন ক্রেতার কাছে উক্ত ইট বিক্রি করে থাকি। যেহেতু ইট রাখার জন্য আমার নিজস্ব কোনো খালি জায়গা নেই তাই আমার উক্ত ক্রয়কৃত ইট ইটখোলার মালিকের ইটের সাথে থাকে। কেউ আমার থেকে ইট ক্রয় করলে আমি তার কাছ থেকে মূল্য নিয়ে আমার দোকানের প্যাড খাতায় ইটের সংখ্যা লিখে দেই এবং ইটখোলার মালিকের মোবাইলে মেসেজ করে দেই। আর ক্রেতাকে বলে দেই। আপনি এই কাগজ অমুক ইট খোলার মালিককে দেখালে ইট খোলার মালিক আপনাকে ইট দিয়ে দেবে। জানার বিষয় হল, এভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা কি ঠিক?

অগ্রিম ১০ মণ গম কমে বিক্রি করা যাবে কি

প্রশ্ন (১০৮৫৮) : আমি এক ব্যক্তির সাথে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেছি যে, ১ বছর পর সে উন্নত জাতের ২০ মণ গম দিবে। কিন্তু কিছুদিন আগে টাকার খুব প্রয়োজন পড়ায় আরেক ব্যক্তির সাথে চুক্তি করেছি, তুমি আমাকে ৮ হাজার টাকা দাও আমি ১ বছর পর তোমাকে ১০ মণ গম দিব। জানতে চাচ্ছি, এই চুক্তি কি বৈধ হয়েছে?

বাইয়ে সালামের ক্ষেত্রে চালের পরিবর্তে টাকা নিতে পারবে কি

প্রশ্ন (৭৪৭৫) : যদি কোন ব্যক্তি ১০০০০ টাকা ধার নেয় এ শর্তের উপর যে, সে ঋণদাতাকে ছয় মাস পর ২০ মণ চাল দেবে। এখন উল্লিখিত সময় হওয়ার পর ঋণদাতার চালের প্রয়োজন না থাকায় বা ক্রয়-বিক্রয়ের ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য উভয়ের সম্মতিক্রমে চালের পরিবর্তে বাজার দর হিসেবে উক্ত চালের মূল্য গ্রহণ করা ঋণ দাতার জন্য জায়েয হবে কি?

মূল্য অগ্রিম প্রদান করে পণ্য বাকিতে গ্রহণ যাবে কি

প্রশ্ন (৭৪৭৪) : আমাদের এলাকায় নিয়ম আছে যে, কার্তিক মাসে কৃষকরা বিত্তশালী বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আলু উঠানোর পূর্বে আলুর উপর দাম ধরে অগ্রিম টাকা নেয়। এর বিনিময়ে ফাল্গুন মাসে আলু উঠানোর সময় শতকরা হারে এক মন করে আলু দিয়ে থাকে। বাজারে আলুর দাম কম হোক বা বেশি হোক- এর প্রতি কোনো লক্ষ্য রাখা হয় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে তা কি বৈধ?

আগে টাকা দিয়ে পরে ইট নেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (৭৪৩৬) : ইটের ভাটাগুলোতে এই নিয়ম চালু আছে যে, তারা কিছু মানুষ থেকে আগে টাকা নেয়। পরবর্তীতে ইট তৈরি হলে তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইট দেয়। এ ক্ষেত্রে তারা তাদের কাছ থেকেতখনকার মূ্ল্যের চেয়ে কম মূ্ল্যে ইটগুলো গ্রহণ করে। এভাবে লেনদেন করা জায়েয আছে কি?

হস্তগত করার পূর্বে পণ্য বিক্রি করা জায়েয আছে কি

প্রশ্ন (৭৪৩২) : আমি একটি কোম্পানির শোরুম থেকে একটি ল্যাপটপ ক্রয় করি। টাকাও পরিশোধ করি। রশিদ‌ও গ্রহণ করি। কিন্তু ল্যাপটপটি সাথে সাথে নিয়ে আসেনি। বিক্রেতাকে বলি, তিনি যেন আমার ল্যাপটপটি হেফাজতে রেখে দেন। আমি পরে এসে নিয়ে যাব। তিনি কার্টুনে ভরে আমার ল্যাপটপটি পৃথক করে রাখেন। পরবর্তীতে আমি বাসায় এসে আমার এক বন্ধুর কাছে ল্যাপটপটি বিক্রি করে দিই এবং রশিদটি তাকে দিয়ে দিই। সে গিয়ে ল্যাপটপটি নিয়ে এসে। জানতে চাই,আমার এবং আমার এবং বন্ধুর মাঝে সংঘটিত চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে?

গাছে আম আসার পূর্বেই আম বিক্রি করে দেওয়া কি জায়েয

প্রশ্ন (৭৪১৯) : আমাদের এলাকায় অধিকাংশ আম বাগানের মালিক গাছে আম আসার পূর্বেই ব্যবসায়ীদের কাছে অগ্রিম আম বিক্রি করে দেয়। এ ধরণের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ কিনা? যদি বৈধ না হয় তাহলে কিভাবে করলে সঠিক হবে তা বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

আগে টাকা দিয়ে পরে ইট নেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (৭০২৪) : ইটের ভাটাগুলোতে এই নিয়ম চালু আছে যে, তারা কিছু মানুষ থেকে আগে টাকা নেয়। পরবর্তীতে ইট তৈরি হলে তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইট দেয়। এ ক্ষেত্রে তারা তাদের কাছ থেকেতখনকার মূ্ল্যের চেয়ে কম মূ্ল্যে ইটগুলো গ্রহণ করে। এভাবে লেনদেন করা জায়েয আছে কি?