বিবিধ

মেসের ভাড়াটিয়ারা তাদের ব্যবহৃত জিনিস ফেলে রেখে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২১৬) : আমি একটি মেস পরিচালক। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে প্যান্ট, বেডিং, বালিশ ইত্যাদি রেখে চলে যায়। কিন্তু পরে ঐগুলো আর নেয় না। এই জিনিসগুলো আমি কী করব?

অর্ডারকারী তার অর্ডারকৃত বস্তু না নিলে কি দোকানদার তা অন্যত্র বিক্রি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩২১৫) : ঢাকার একটি বড় মাদরাসার পাশে আমার একটি কাঠমিস্ত্রির দোকান আছে। অনেক সময় ছাত্ররা টেবিল বানানোর অর্ডার দিয়ে যায়। কিন্তু যে তারিখে নিয়ে যাওয়ার কথা ঐ তারিখে আর টেবিল নিতে আসে না। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমি কি ঐ টেবিল অন্যত্র বিক্রি করতে পারব? যদি অন্যত্র বিক্রি করা জায়েয হয় তাহলে অর্ডার নেয়ার সময় যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এর বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারবো কি? দয়া করে জানিয়ে উপকার করবেন।

টেইলার্সে কাজের চাপ বেশি হওয়ায় অন্য টেইলার্সে দিয়ে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২১২) : আমার একটি টেইলার্স আছে। এবং দর্জি হিসেবে মানুষের মাঝে আমার বেশ সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে। তাই মানুষ জামা-কাপড় বানানোর জন্য আমার টেইলার্সে ভীড় করে। ইদানিং আমার আশপাশে নতুন কিছু টেইলার্স হয়েছে। সেগুলোতে জামার মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও মানুষ শখ করে আমার টেইলার্সে অর্ডার দেয়। ঈদের সময় আমার টেইলার্সে অনেক চাপ পড়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে অর্ডার থাকে। কিন্তু আমি কাজ করে শেষ করতে পারি না। তাই কিছু কিছু অর্ডার কাস্টমারদের অগোচরে অন্য দর্জিদেরকে কিছু কম মজুরিতে দিয়ে দেই। যেমন, আমি কাস্টমার থেকে ৫০০ টাকা নিলে তাদেরকে দেই ৪০০ টাকা। এক্ষেত্রে কোনো কোনো অর্ডারের কাপড় আমি নিজে কেটে তাদেরকে শুধু সেলাই করতে দেই। আবার কোনো কোনো অর্ডার পুরোটাই তাদের হাতে সোপর্দ করি। তারা অপরিপক্ক হওয়ায় বাহ্যতই সে জামাগুলো একটু নিম্নমানের হয়। যা কাস্টমার সাধারণত ধরতে পারে না। জানার বিষয় হল, আমার জন্য এমনটি করা কি জায়েয? অন্যথায় এ পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

চার্চ নির্মাণের জন্য খ্রিস্টান মিশনারীর কাছে জমি বিক্রি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২১১) : আমাদের গ্রামে খ্রিস্টান মিশনারীদের একটি গ্রুপ উচ্চমূল্যে জমি ক্রয় করছে। এখানে তারা মিশনারী স্কুল, চার্চ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত করবে। তারা উচ্চমূল্য দেওয়ার কারণে আমার জমির আশেপাশের জমিগুলো ইতোমধ্যেই কিনে ফেলেছে। আমি প্রথমে তাদের কাছে জমি বিক্রি করব না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। কিন্তু এখন তারা তাদের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে এবং আমার জমিতে যাওয়ার জন্য সরু একটি রাস্তা রেখেছে। এদিকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভবন তৈরির পরিকল্পনা করবে। এতে আমার জমিতে যাওয়া-আসার রাস্তা বন্ধ হলে এবং ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা দায়ী থাকবে না। এমতাবস্থায় আমি যদি তাদের কাছে জমি বিক্রি না করি তাহলে ভবিষ্যতে জমিটি কারো কাছে বিক্রিও করতে পারব না। আবার কোন ফায়েদাও উঠাতে পারব না। সুতরাং জানতে চাচ্ছি, সেখানে চার্চ তৈরি এবং খ্রিস্টধর্ম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কি আমি তাদের নিকট জমি বিক্রি করতে পারব? এবং এর অর্থ কি আমার জন্য হালাল হবে?

জমি বন্ধক নিয়ে তা ভোগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৯) : আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক দেওয়ার নিয়ম হলো, যতদিন ঋণ আদায় না করবে ততদিন ঋণদাতা জমি ভোগ করবে, ঋণ আদায় করলে কোনো কর্তন ব্যতীতই জমি ফেরত দিবে। এখন কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে প্রচলিত নিয়মে জমি বন্ধক দিয়ে ঋণ নেয় এবং এই টাকা তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তাহলে তার সম্পূর্ণ আয় কি হারাম বলে গণ্য হবে? দয়া করে জানাবেন।

আমানতের টাকা অনুমতি না নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে কি উক্ত ব্যবসার লভ্যাংশ হালাল হবে?

প্রশ্ন (১৩১৮৮) : আমার এক চাচাতো ভাই বিদেশে থাকে। গত বছর সে বাড়িতে এসে একটা জমি পছন্দ করে এবং আমাকে বলে, এবার বাহিরে গিয়ে সে টাকা পাঠাবে। আমি যেন জমিটা তাকে কিনে দেই। বিদেশে গিয়ে সে আমার একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে একটা জটিলতার কারণে জমিটি কিনতে দেরি হচ্ছে দেখে ঐ টাকা থেকে প্রায় ৪-৫ লক্ষ টাকা আমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ফেলি। এখন ঐ জমির মালিক জমিটি বিক্রি করবে না। তাই এই ১৫ লক্ষ টাকা ঐ ব্যক্তিকে ফেরত দিয়ে দিব। এখন পরিচিত একজন বলছেন, তার যে পরিমাণ টাকা আমার ব্যবসায় খাটিয়েছি সে পরিমাণ টাকার লভ্যাংশ আমার জন্য হালাল হবে না। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, যদি তা আমার জন্য বাস্তবেই হালাল না হয় তাহলে আমি তা কী করব? আর ব্যবসায় তো আমার পরিশ্রম ছিল। তাহলে হালাল না হওয়ার কারণ কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

হিন্দুদের দেওয়া অনুদান মসজিদে ব্যয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৮২) : আমাদের এলাকায় হিন্দুদের একটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। এবার তারা আমাদের এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় তারা এলাকার মসজিদেও উন্নয়নের জন্য অনুদান দিতে চাচ্ছে। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, হিন্দুদের সংগঠনের দেয়া অনুদান মসজিদের জন্য গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? জায়েয হলে তা মসজিদের কোন কোন কাজে ব্যয় করা যাবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

ব্যাংক জব করে এমন ব্যক্তির ছেলেকে পড়িয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৭৬) : আমি একটা টিউশনির প্রস্তাব পেয়েছি। যে ছেলেকে পড়াতে হবে তার বাবা একটি সুদি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। আমার জানামতে এ চাকুরী ছাড়া তার অন্য কোনো আয় নেই। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, এ টিউশনি করা জায়েয হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব টেনশনে আছি। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমি যদি সেখানে টিউশনি করে শুধু টিউশন ফি গ্রহণ করি; বোনাস গিফ্ট ইত্যাদি গ্রহণ না করি তাহলেও কি আমার জন্য এই টিউশনি করা জায়েয হবে না?

মসজিদের জমি বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৩) : আমাদের গ্রামের মসজিদের কয়েকটি ওয়াক্ফকৃত জমি আছে। এগুলোর আয় দিয়ে মসজিদের ব্যয় বহন করা হয়ে থাকে। মসজিদের সেক্রেটারী এই ওয়াক্ফকৃত জমির একটি অংশ মুতাওয়াল্লীকে না জানিয়ে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ক্রেতা এই জায়গাটিকে পারিবারিক কবরস্থান বানিয়েছে। তবে এতে এখনো কোনো মুর্দা দাফন করা হয়নি। বিনিময় হিসেবে সে অন্যত্র সমপরিমাণ জায়গা ও কিছু নগদ টাকা দিয়েছে। জানার বিষয় হল, এই বিক্রি সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে এখন কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

কবরস্থানের গাছ, ঘাস ইত্যাদি কাটা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬০) : আমাদের এলাকায় একটি বড় ওয়াক্ফকৃত কবরস্থান আছে। আমাদের এলাকার লোকদের জন্য চার ভাগের এক ভাগ জায়গাই যথেষ্ট। তাই মুতাওয়াল্লী সাহেব চাচ্ছেন উক্ত অবশিষ্ট জায়গাতে গাছ রোপণ করতে এবং উক্ত কবরস্থানে অনেক লম্বা লম্বা ঘাস থাকার কারণে তা বিক্রি করতে চাচ্ছেন। এদিকে কিছু আলেম বলেছেন, কবরস্থানের ঘাস কাটা মাকরূহে তাহরীমী। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দ্বন্দ্ব চলছে। এখন হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, ১. উক্ত কবরস্থানে গাছ লাগানো এবং তা কাটা জায়েয হবে কি? ২. ঘাস কাটা জায়েয হবে কি? যদি জায়েয হয় তাহলে তা নিলামে (বিক্রি) করা যাবে কি? ৩. গাছ বা ঘাস বিক্রি করে কোন খাতে ব্যয় করতে হবে? কবরস্থানের খাত ছাড়া অন্য খাতে তা ব্যয় করা যাবে কি?

নিজের পিতার নাম না জানা থাকলে যিনি লালন-পালন করেছেন তার নাম পিতার জায়গায় ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫৯) : কোনো ব্যক্তি পথে কোনো শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে নিয়ে লালন পালন করে বড় করল। এখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে পরিচয়পত্রে বাবা হিসেবে ঐ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করতে পারবে কি? যদি না পারে তাহলে সে পিতার নামে কী লিখবে?

অস্থায়ী নামাযঘর কি মসজিদের হুকুমের আওতায় আসবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৮) : আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমার একটি জায়গা ওয়াক্ফ করেছি। জায়গাটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে এখন সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই অস্থায়ীভাবে নামায চালিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী উচুঁ জায়গাতে একটি ঘর বানিয়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ ঘরটিও সাধারণ মসজিদের মতই কি? এটাতে পাঞ্জেগানা নামায, জুমা, এতেকাফ সবকিছু আদায় করা যাবে কি?

মসজিদের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫৭) : মসজিদ কমিটির নিকট মসজিদের কিছু টাকা আছে। এখন কমিটির লোকজন চাচ্ছে, সেগুলো কোনো কাজে খাটিয়ে মুনাফা অর্জন করতে। তাই তারা একটি দোকান/ঘর এভাবে বন্ধক নিল যে, এক লক্ষ টাকা দোকান মালিককে দিয়ে তার থেকে দোকান বুঝে নিবে। অতপর সে দোকানটিকে দোকানের মালিক বা অন্য কারো নিকট ভাড়া দিয়ে দোকানের মাসিক ভাড়া মসজিদের ক্যাশে রাখবে। অতপর যখন মালিক এক লক্ষ টাকা দিয়ে দিবে তখন কমিটি তার দোকান তাকে বুঝিয়ে দিবে। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদের টাকা মুনাফার আশায় খাটানো অথবা কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে কি?

মসজিদ পুনঃনির্মাণের সময় নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৩৮) : আমাদের গ্রাম তিস্তা নদীর পারে অবস্থিত। গ্রামের জামে মসজিদটি আনুমানিক ১২ বছর পূর্বে নদী ভাংগনে হারিয়ে যায়। বর্তমান সময়ে নদীর হারিয়ে যাওয়া অনেক জমির সাথে মসজিদের জমিটিও উদ্ধার হয়। জায়গাটা নদীর তীরে হওয়ায় মানুষজন যার যার জমিতে দোকান-পাট করার পরিকল্পনা করছে। মসজিদের জমিটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করতে চাচ্ছে। তারা নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে মসজিদের নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দেওয়া যাবে কি?

সন্তানদেরকে কত বছর বয়স থেকে রোযার রাখার অভ্যাস করানো উচিত?

প্রশ্ন (১৩১৩১) : আমাদের সমাজে ধার্মিক পরিবারগুলোতে পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে ৭/৮ বছর বয়স থেকেই নামাযের প্রতি উৎসাহ দিতে শুরু করেন এবং এ ব্যাপারে তাদেরকে খুব সচেতন বলেই মনে হয়। কিন্তু রমযানের রোযার ব্যাপারে কখনো কখনো এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এমনকি কেউ কেউ তো সন্তানের বয়স ১১/১২ হওয়া সত্ত্বেও তাকে রোযা থেকে বিরত রাখেন। এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সন্তানের এখনও রোযার বয়স হয়নি। হযরতের নিকট জানার বিষয় হল, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের রোযার ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

মৃত ব্যক্তি ঋণ রেখে গেলে ওয়ারিসদের করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১০৯) : বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ওয়ারিশসূত্রে ২০০০০/- টাকা ও ১৬ শতাংশ জমি পাই। সকল টাকা-পয়সা জায়গা-জমি ঠিক পেয়েছি। তবে একটি জমি নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়, আব্বু আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। তবে আমাদের এক চাচা থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারি। আব্বু জীবিত থাকতেই জমিটি একজনের কাছে বন্ধক দিয়ে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। পরে এক উপযুক্ত খরিদ্দার পেয়ে ঋণদাতার সাথে এভাবে কথা হয় যে, ‘আমি অমুক তারিখের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করে দেব। আমাকে জমিটি এখনি বিক্রি করার জন্য দখলমুক্ত করে দেন।’ সে এতে রাজি হয় এবং আব্বু জমিটি বিক্রি করে দেন। কিন্তু আব্বু মৃত্যুর পূর্বে ঐ ঋণ পরিশোধ করেননি। আব্বু এ ব্যাপারে কোনো অসিয়তও করে যাননি। এখন হযরতের কাছে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানার আছে- ১. আব্বুর এ ঋণ পরিশোধ করা আমাদের জন্য জরুরি কি? ২. ঋণ আদায় করলে আমরা জমিটির মালিক হব কি? ৩. অন্যের কাছে বন্ধক রাখা অবস্থায় জমিটি বিক্রি করা আব্বুর জন্য ঠিক হয়েছে কি? এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

একই আয়াত একাধিক ব্যক্তি থেকে শুনলে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩১০৩) : আমি একজন শিক্ষক। আমি মক্তবে বাচ্চাদেরকে কুরআন শরীফ পড়াই। তাদের সবক শোনার সময় অনেক ক্ষেত্রে সিজদার আয়াত আসে এবং কখনও কখনও একই আয়াত একাধিক ছাত্র থেকে শুনতে হয়। হযরতের কাছে জানতে চাই, যদি এক বৈঠকে একই আয়াত একাধিক ছাত্র থেকে শুনি তাহলে কি একাধিক সিজদা করতে হবে?

মসজিদের মুতাওয়াল্লী মারা গেলে কি তার ছেলেকে মুতাওয়াল্লী বানানো জরুরি?

প্রশ্ন (১৩১০০) : আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি একটি মসজিদ ওয়াকফ করেছেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই সেই মসজিদের মুতাওয়াল্লী ছিলেন। এখন তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে মুতাওয়াল্লী হতে চাচ্ছে। সে বলছে, ‘আমার বাবা এই মসজিদ ওয়াক্ফ করেছেন এবং তিনি মুতাওয়াল্লীও ছিলেন। এখন তার মৃত্যুর পরে তার বড় ছেলে হিসেবে আমিই এই মসজিদের মুতাওয়াল্লী হব।’ কিন্তু এলাকাবাসী তাকে মুতাওয়াল্লী বানাতে চাচ্ছে না। অবশ্য অল্প কিছু মানুষ তাকে সমর্থন করছে। কিন্তু বাকিরা অন্য একজনকে মুতাওয়াল্লী বানাতে চাচ্ছে। আর ওয়াক্ফকারীও তার সন্তান মুতাওয়াল্লী হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি যে, এমতাবস্থায় আমাদের কী করণীয়?

ভাড়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩০৯৭) : আমাদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য একটি জেনারেটর ভাড়া করে আনা হয়। কথা ছিল, দুপুর থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেটর চলবে। কিন্তু সন্ধ্যার একটু পরে জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমরা তাড়াহুড়া করে বেশি ভাড়া দিয়ে অন্য একটি জেনারেটর ভাড়া নেই। এখন পূর্বের জেনারেটরের মালিক বলছে, তাকে পূর্ণ ভাড়ার চেয়ে সামান্য কম দিতে। জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে তার ভাড়ার হিসাব কীভাবে করতে হবে?

কিতাব ক্রয় করার জন্য টাকা নিয়ে উক্ত টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৯৬) : আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করি। আমি কিছু কিতাব ক্রয় করার জন্য আমার এক আত্মীয়ের কাছে ৪০০০/- টাকা ঋণ চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে ৪০০০/- টাকা হাদিয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন, এ টাকা তোমাকে হাদিয়া দিলাম কিতাব কেনার জন্য। কিন্তু এর দু’দিন পর একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পায়ে আঘাত পাই। এর চিকিৎসা বাবদ উক্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, উক্ত টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?