সালাত বা নামাজ

বিতরের নামাযের দুআ কুনুত না জানলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০৪) : এক ব্যক্তি ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা’ দুআটি জানে না। তবে সে চাইলে শিখতে পারে। কিন্তু সে তা শেখার জন্য চেষ্টাও করে না। এমতাবস্থায় বিতর নামাযে অন্য কোনো দুআ পড়লে তার নামায সহিহ হবে কি?

ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়তে কষ্ট হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৮) : এখন প্রায় সব ট্রেনেই নামায আদায়ের ব্যবস্থা থাকে। তবে ট্রেন চলা অবস্থায় ঝাঁকুনির কারণে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই দাঁড়িয়ে নামায পড়া বেশ কষ্টকর। তাছাড়া নামায পড়া অবস্থায় ট্রেন দিক পরিবর্তন করলে কেবলা ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় সফরকালে ট্রেনে নামায পড়ব কীভাবে? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমজান মাসে কি বিতির নামাযের সব রাকাতেই জোরে কেরাত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৮৭) : রমযানে বিতিরের নামাযের প্রত্যেক রাকাতে জোরে কেরাত পড়তে হবে নাকি শুধু প্রথম দুই রাকাতে? ছোটদের জন্য লেখা একটি বইয়ে শুধু প্রথম দুই রাকাতে জোরে কেরাত পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ বক্তব্যটি কি সঠিক? আশা করি দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

ভুলে অযু ছাড়া নামায পড়ার পর মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৪) : কারো যদি এশার ফরয আদায়ের সময় অযু ভেঙ্গে যায়। নতুন অযু দিয়ে সে সুন্নত ও বিতর আদায় করে। পরে ওয়াক্তের ভিতরেই মনে পড়ে যে, এশার ফরয অযু ছাড়া পড়া হয়েছিল, তখন কি তাকে ফরযের সাথে সুন্নত ও বিতরও পুনরায় আদায় করতে হবে, না শুধু এশার ফরয আদায় করলেই চলবে?

মাসাহকারী ব্যক্রির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৭৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ফলে তার হাত ভেঙে যায়। হাতে প্লাস্টার করা হয়। এখন তিনি প্লাস্টারের উপর মাসেহ করে নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় ইমাম সাহেবের পেছনে আমাদের ইক্তিদা কি সহিহ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুন্নত নামাযের কি কসর আছে?

প্রশ্ন (১২৯৭৪) : আমি ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় সফর করি। আমার জানার বিষয় হল, সুন্নত নামাযের কি কসর করতে হয়? আর সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযের হুকুম কী?

আযানের মত ইকামতেরও কি জবাব দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৭১) : নামাযের ইকামতের সময় অনেককে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাই ইমাম সাহেব একদিন বললেন যে, ইকামতেরও জবাব দেওয়া উচিত। জানার বিষয় হল, আসলেই কি ইকামতের জবাব দেওয়া আবশ্যক?

ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৯) : আমি সবসময় ঘরে ফজরের সুন্নত পড়ে তারপর মসজিদ যাই। মাঝে মাঝে মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত শুরু হতে এখনো কিছু সময় বাকি। তাই আমি সে সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করি। আমার এক ভাগিনা আছে। সে মাদরাসায় পড়ে। একদিন সে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলে আমরা বাসায় একসাথে সুন্নত আদায় করে মসজিদে যাই। মসজিদে গিয়ে দেখি জামাতের সময় এখনো বাকি আছে তাই আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে দাঁড়িয়ে যাই। নামায শেষে সে আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে বলি যে, আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করেছি। তখন সে আমাকে বলে, ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যায় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার কথা কি ঠিক আছে?

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আযান দিলে কি আযান সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯৫৮) : আমাদের এলাকার মসজিদের পাশে একটি মাদরাসা আছে। তো মসজিদের আযানের দায়িত্ব মাদরাসার হিফজখানার ছাত্ররা পালন করে থাকে। যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। জানার বিষয় হলো, অপ্রাপ্তবয়স্কদের আযান দেওয়া সহিহ আছে কি?

সফরে বের হয়ে যোহরের নামায আদায় করার পর কোনো কারণে ওয়াক্তের মধ্যেই সফর বাতিল করে বাড়িতে ফিরে আসলে কি…

প্রশ্ন (১২৯৫৭) : আমি গত ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ৪/৫ মাইল দূরবর্তী স্টেশনে পৌঁছি এবং সেখানে যোহরের নামায কসর করি। কিন্তু পরবর্তীতে বিশেষ কারণে সফর বাতিল করে বাড়িতে এসে দেখি যোহরের ওয়াক্ত এখনো বেশ বাকি। এখন প্রশ্ন হল, আমাকে উক্ত যোহরের নামাযটি কি পুনরায় পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে?

ঈদের খুতবায় ইমাম সাহেব তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরা কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৫৫) : ঈদের খুতবায় ইমামের তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরাও কি তাকবীর বলবে না চুপ থাকবে? অনেককে তাকবীর বলতে দেখা যায়। সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

ইমাম সাহেব সাহু সিজদার জন্য সালাম ফিরানোর সময় মাসবুক ব্যক্তি কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।

মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদী কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৪২) : আমাদের মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে গেলে আমার একটা সমস্যা হয়। তা হলো, কখনো তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার কখনো আখেরী বৈঠকে দরূদ ও দুআ পড়ার আগে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। উল্লেখিত দুটি ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী হবে? জানানোর অনুরোধ রইল।

ফজরের সুন্নত পড়ার পর কি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৯৩০) : কেউ ফজরের সুন্নত ঘরে পড়ে যদি মসজিদে যায় এবং সময় থাকে তাহলে ঐ সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে পারবে কি? না পারলে কেন? এবং ঐ সময় কী আমল করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের সওয়াব পাওয়া যাবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নফল নামাযের তৃতীয় রাকাতে কেরাত না পড়লে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৮) : আমি চার রাকাত নফল নামায আদায় করেছি। কিন্তু তৃতীয় রাকাতে শুধু তাশাহ্হুদ পড়েছি; কোনো কেরাত পড়িনি। এমনকি সূরা ফাতেহাও না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এ নামাযের হুকুম কী?

মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৯২১) : মাসবুক ব্যক্তির দাঁড়ানোর সঠিক সময় কখন? অনেক সময় দেখা যায় যে, ইমাম প্রথম সালাম দেওয়ার সাথে সাথেই কেউ দাঁড়িয়ে যায় কিংবা কেউ ইমামের দুই সালাম দেওয়ার পর দাঁড়ায়। আমার জানার বিষয় হল, মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে কাতার খালি রেখে পিছনে দাঁড়ালে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২০) : একবার মসজিদে এসে ইমাম সাহেবকে রুকু অবস্থায় পাই। কাতার পর্যন্ত পৌঁছার আগে ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে যাওয়ার আশংকা ছিল তাই রাকাতটি পাওয়ার জন্য কাতার থেকে দূরে থাকতেই ইমামের একতেদা করি। অতপর এক রোকন পরিমাণ থেমে থেমে দু-এক কদম করে কাতারে গিয়ে মিলিত হই। জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে এভাবে হাঁটার দ্বারা কি নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে ভুলে তাশাহ্হুদ পড়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯১৯) : আমি কখনো কখনো দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহার পূর্বে ভুলবশত তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯১৭) : আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় রাতে রওনা করি। তাই এশার নামায ফেরিতে পড়া হয়। কিন্তু শেষবার আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে নামায আদায় করে রওনা করি। পরে যখন গাড়ি ফেরিতে আসে তখন আমি আবার নামাযে দাঁড়াই। তখন আমার মনে পড়ল যে, এশার নামায তো গাড়িতে উঠার আগেই পড়া হয়েছে। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন জানার বিষয় হল, যে নামায ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা কি আমাকে কাযা করতে হবে?