চিকিৎসা

ঔষুধ কোম্পানিগুলো ডাক্তারদেরকে যে ঔষুধ হাদিয়া দেয় তা কি বিক্রি করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৫) : আমি যেহেতু একজন ডাক্তার তাই প্রতিনিয়ত ঔষুধ কোম্পানিগুলো আমাকে কিছু ঔষধ শুভেচ্ছাস্বরূপ দিয়ে থাকে। প্রশ্ন হল, উক্ত ঔষধগুলো গ্রহণ করা যাবে কি না এবং তা বিক্রি করে টাকা ভোগ করা যাবে কি না? অনুগ্রহ করে মাসআলার সমাধান দিলে খুবই দয়া হয়। দ্বীনের উপর চলা আমার জন্য সহজ হয়। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

স্বামী মৃত্যুশয্যায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর মারা গেলে কি স্ত্রী মিরাছ পাবে?

প্রশ্ন (১২৪৭১) : কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার একটি লোক মারা যান। লোকটি অনেক ধনী ছিলেন। তিনি দুই বিবাহ করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী থেকে তার দুই ছেলে তিন মেয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী থেকে এক ছেলে। লোকটি মারা যাওয়ার পাঁচ মাস পূর্বে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম স্ত্রীর ঘরেই থাকতেন। তখন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের কথা অনুযায়ী তিনি কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডেকে বলেন, ‘আজ থেকে তুমি তালাক’। তালাক দেওয়ার দেড় মাস পর তিনি মারা যান। এখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না এ নিয়ে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কথা চলছে। তাই মুহতারামের নিকট দুটি বিষয়ে সঠিক সমাধান চাচ্ছি : ১. লোকটির দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না? ২. প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি হল, লোকটি ‘আজ থেকে তুমি তালাক’ এ কথা বলে বায়েন তালাকের নিয়ত করেছিল। তাই সে সম্পত্তি পাবে না। জানার বিষয় হচ্ছে, ‘তুমি তালাক’- বলে বাইন তালাকের নিয়ত করা যায় কি না?

মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করার পর তা বের হলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৪) : গত রোযায় কোনো এক রাতে এশার নামাযের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করি। পরে তারাবীহ পড়ানো শেষ হলে পায়জামায় হাত দিলে ভেজা ভেজা অনুভব হয়। জানার বিষয় হল, মলদ্বারের ভিতর ঔষধ প্রয়োগ করার পর তা যদি বের হয়ে যায়, তাহলে কি অযু ভেঙে যায়?

মুযারাবা চুক্তিতে মুযারাবার সম্পদ থেকে কী কী কাজে খরচ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৩৯৮) : বাইয়ে মুযারাবার মাঝে মুযারিব যদি মুযারাবা ব্যবসার মালামাল রাখার উদ্দেশ্যে কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনে নিজের জন্য কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসায়িক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে সে ঘরের ভাড়া বাবদ বা চিকিৎসা বাবদ মুযারাবার সম্পদ থেকে ব্যয় করতে পারবে কি না? আর মুযারিবের জন্য আর কী কী সুবিধা আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

অবৈধ পথে উপার্জন করা টাকার বিধান।

প্রশ্ন (১২৩৩১) : এক ব্যক্তি অনিয়ম করে কিছু টাকা আয় করেছে, যা সরকারি ফান্ডে জমা করা উচিত ছিল। কাজটি অন্যায় বোধোদয় হওয়ার পর ঐ টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়। আমি দীর্ঘদিন খোঁজ-খবর নিয়ে টাকাগুলো সরকারি কোনো ফান্ডে জমা দেয়ার দৃশ্যমান কোনো উপায় খুঁজে পাইনি। এছাড়া সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে (যেমন রাস্তা মেরামত, টিউবওয়েল বসানো ইত্যাদি) ব্যয় করার সুযোগও খুঁজে পাইনি। তাই কয়েকজন অত্যন্ত গরীব অসহায় রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ঐ টাকা থেকে কিছু টাকা খরচ করেছি। বাকি টাকা এ ধরনের অসহায় রোগীর চিকিৎসা বা অসহায় এতীমগণের ভরণ-পোষণ বা গরিব নতুন মুসলমানকে সাহায্য করে খরচ করতে চাই। কেননা আমার মনে হয়, এসকল খাতে খরচ করাও সরকারের দায়িত্ব। এই টাকা এইভাবে খরচ করা ঠিক হবে কি না দয়া করে জানাবেন। এছাড়া অন্য কোনো সহজ উপায় থাকলে মেহেরবানী করে জানাবেন।

রোযার ফিদইয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৭৪) : আমার এক মেয়ে আজ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত অনেক বেশি অসুস্থ। এত বেশি অসুস্থ যে, তা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু এতটুকু বলব যে, সে যে বেঁচে আছে এটা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। মাঝখানে তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ তার বয়স যখন আঠারো ছিল মারাত্মক অসুস্থতার কারণে ওজন ১৭ তে নেমে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তাকে হাজারো মানুষের দুআয় বাঁচিয়ে রেখেছেন। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, ১৫-১৬-১৭-১৮ বয়সগুলোতে সে লাগাতার রোযা ভাঙে। এছাড়া পরবর্তীতে ডাক্তারদের অনুরোধে আরো কিছু রোযা ভাঙে। এখন তার বয়স ত্রিশ। কষ্ট করে রোযা নামায যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। সে নিজেকে সুস্থ মনে করে এ হিসেবে যে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে বৈবাহিক জীবন যাপনের তাওফীক দিয়েছেন এবং অকল্পনীয়ভাবে সন্তানের মাও বানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সে সুস্থ নয়। কারণ এমন এমন কিছু জটিল রোগ আছে, যা বাহ্যদৃষ্টিতে নিরাময় হবে বলে মনে হয় না। বরং প্রায়ই তার থেকে শাখাগত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে থাকে, বাবা! রোযাগুলোর কী হবে? সেগুলোর কি ফিদয়া দেওয়া যায় না? তাই সে কি উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

ওষুধ খেয়ে বুকে দুধ আসলে সে দুধ পান করলে কি দুধ সম্পর্ক স্থাপন হবে?

প্রশ্ন (১২১১২) : আমরা এক ভাই এক বোন। আমার এক বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। আর আমার বোনের এক ছেলে। তার বয়স ৫ বছর। আমাদের পরিবারে আমার মেয়ের জন্য যেহেতু আমার দুলাভাই এবং ভাগ্নেই গাইরে মাহরাম তাই আমরা চিন্তা করছি, আমার বোন যদি আমার মেয়ের দুধ মা হয়ে যায় তাহলে তার জন্য আর পর্দা করতে হবে না। কিন্তু আমার বোনের এখন কোন দুধের বাচ্চা নেই। আমার মেয়েকে আমার বোন দুধ পান করাতে হলে ওষুধ খেতে হবে। এভাবে ওষুধ খাওয়ার পর যদি বুকে দুধ আসে এবং আমার মেয়েকে তা খাওয়ায় তবে আমার দুলাভাই কি আমার মেয়ের দুধপিতা এবং আমার ভাগ্নে আমার মেয়ের দুধভাই বলে গণ্য হবে? মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

হেবা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯০) : আমার আম্মা গত কয়েক মাস আগে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার দুই মাস আগে তিনি তার সব জায়গা-সম্পত্তি আমার ছোট ভাইকে হেবা করে গেছেন এবং আমার ছোট ভাই আম্মার মৃত্যুর আগেই সেগুলো আম্মার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে। কিন্তু বিষয়টা আমরা জানতাম না, শুধু আব্বা জানতেন। তাই আম্মার মৃত্যুর পর আমরা জায়গা-সম্পত্তি ভাগ করে নিতে চাইলে আব্বা বাধা দিয়ে বলেন, তোর মা তার জায়গা-সম্পত্তি তোর ছোট ভাইকে হেবা করে গেছে। বিষয়টা আমরা সবাই আব্বার দিকে তাকিয়ে মেনে নিলেও বড় ভাই মানতে পারছেন না। বরং আব্বার সাথে একরকম ঝগড়া করে গ্রামের বাড়িতে আম্মার রেখে যাওয়া একটা জমি দখল করে নেন এবং টিনশেড ঘর বানিয়ে পরিবারসহ তাতে থাকা শুরু করেন। উল্লেখ্য, আমার আম্মা মৃত্যুর আগে কয়েক বছর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং এ রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ই তিনি মারা গেছেন। তবে দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত থাকলেও এ কারণে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যায়নি। বরং মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় এক অবস্থায় ছিল। তা ছাড়া মৃত্যুর আগে তিনি প্যারালাইসিস ছাড়া ভিন্ন কোনো রোগে আক্রান্ত হননি। এখন মুহতারামের কাছে প্রশ্ন হল, আমার আম্মা তো মৃত্যুর আগে তার ছোট ছেলেকে জায়গা-সম্পত্তি হেবা করার সময় প্যারালাইজড ছিলেন। সুতরাং এ অবস্থায় তিনি যে হেবা করেছেন, তা কি কার্যকর হয়েছে? দয়া করে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

হিজামা কী?

প্রশ্ন (১১৮৮৭) : আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাবার হার্টের সমস্যা আছে। আবার মেরুদন্ডেও সমস্যা হয়েছে। অনেকে পরামর্শ দিয়েছে এর জন্য হিজামা করাতে। তাই আমি জানতে চাচ্ছিলাম, হিজামা কী? আর হিজামা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? কোথা থেকে হিজামা করা টা ভালো হবে?

কুফরি কালাম ও জাদু থেকে মুক্তির দোয়া ও আমল।

প্রশ্ন (১১৮৮৫) : আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার এক আত্মীয় আমাকে কুফুরী করে। সেটা আমি কোনো ভাবে জানতে পেরেছি। আমি রুকইয়া করে কুফুরী কাটাই। কিন্তু সে বারবার আমাকে কুফুরী করে। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমি এখন কী করতে পারি?

মাসিকের দিনগুলোতে মাসিক বন্ধ রাখলে সহবাস করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৮৫৪) : স্বামী বিদেশ থাকে। দীর্ঘদিন পর পর স্বামী দেশে আসলে জনৈকা নারী মাসিকের দিনগুলোতে ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখে। প্রশ্ন হল, মাসিক বন্ধ রাখলে সেই দিনগুলোতে সহবাস করতে পারবে কি?

পেশাবের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ইশারায় রুকু সেজদা করতে পারবে কি

প্রশ্ন (১১৮৩৩) : জনৈক ব্যক্তি পেশাবের রোগে আক্রান্ত। সে যদি দাঁড়িয়ে কিংবা বসে রুকু সেজদাসহকারে নামায আদায় করে তাহলে পেশাব বের হয়ে তার অজু নষ্ট হয়ে যায়। জানতে চাচ্ছি, সে কি মাজুর হিসেবে দাঁড়িয়েই নামায পড়বে নাকি বসে ইশারায় রুকু সেজদা আদায় করবে?

নারীদের জন্য মহিলা ডাক্তার না পেলে কি পুরুষ ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করা যাবে?

প্রশ্ন (১১৭৬২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার হারনিয়া রোগ ধরা পড়েছে। এখন অপারেশন করা খুবই জরুরি। কিন্তু অপারেশনের জন্য মহিলা ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সবাই পুরুষ ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করার পরামর্শ দিচ্ছে। আমি জানতে চাচ্ছি, পুরুষ ডাক্তার দিয়ে কি অপারেশন করা জায়েয হবে? এ ব্যাপারে শরীয়ত কী বলে?

চিকিৎসার মাধ্যমে আসা বুকের দুধ পান করলে কি হুরমত সাব্যস্ত হবে?

প্রশ্ন (১১৬৪৪) : আমার এক বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে রেখে আমার স্ত্রী মারা যায়। আমার মেয়ের খালা তার লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়। তার স্বামী, সন্তানাদিও আছে। সন্তানরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। তার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় বুকে দুধ আসে না। তাই দুধ আসার জন্য চিকিৎসা করা হয়। ফলে বুকে দুধ আসে। এখন আমার মেয়েকে তার খালা দুধ পান করায়। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আামর মেয়ের খালু কি তার দুধপিতা হবে? এবং মেয়েটি বড় হওয়ার পর তার খালুর সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে পারবে?

পণ্য ফেরত নেওয়া সুন্নত।

প্রশ্ন (১১৬১১) : আমার একটি ফার্মেসী আছে। আমরা শুধু নগদ বিক্রি করি। বাকি বিক্রি করি না। আমাদের কাস্টমাররা নগদ টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রুগী সুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বা অন্য কোনো কারণে যেসব ঔষধ তাদের প্রয়োজন পড়ে না সেসব ঔষধ তারা আমাদের কাছে নিয়ে আসলে আমরা যে দামে বিক্রি করেছি তার চেয়ে ২০% কম মূল্যে তাদের কাছ থেকে ক্রয় করে থাকি। এক্ষেত্রে আমরা নতুন চুক্তি করে তাদের থেকে ক্রয় করে থাকি। আমাদের প্রশ্নোক্ত ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

নড়াচাড়ায় পেশাব বের হলে বসে নামায আদায় করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩২৯) : জনৈক ব্যক্তি অবস্থা হল, সে একটু নাড়াচাড়া করলেই তার পেশাব বের হয়। যে কারণে দাঁড়িয়ে নামায পড়লে তার অজু নষ্ট হয়ে যায়। তবে সে বসে নামায পড়তে সক্ষম। জানতে চাচ্ছি, সেকি মাজুর হিসেবে দাঁড়িয়েই নামায পড়বে নাকি বসে বসে আদায় করবে?