নাপাকী

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩০৯) : কয়েকদিন আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। ডাক্তার আমার শরীরে স্যালাইন দেওয়ার আগে আমি অযু করে নিয়েছিলাম, যেন সময়মত নামায পড়ে নিতে পারি। তবে আমার হাতে সুচ ঢুকানোর পর স্যালাইন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নলের ভেতর কিছুদূর পর্যন্ত রক্ত বেরিয়ে আসে। এরপর স্যালাইন ছাড়লে আবার তা শরীরের ভেতর চলে যায়। জানার বিষয় হল, ঐ দিন স্যালাইন চলা অবস্থায় উক্ত অযু দ্বারা আমি দুই ওয়াক্ত নামায পড়েছিলাম। ঐ নামাযের কী হুকুম?

চড়ুই পাখির বিষ্ঠা কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২২৮৪) : আমি একদিন বড় ভাইয়ের সাথে মসজিদে যাচ্ছিলাম। পথে এক গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় চড়ুই পাখির বিষ্ঠা এসে আমার জামায় পড়ে। মসজিদে পৌঁছে আমি জামা ধুতে চাইলে বড় ভাই বললেন, ধোওয়ার দরকার নেই। চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়। তাড়াতাড়ি জামাতে শরিক হয়ে যাও। নতুবা প্রথম রাকাত ছুটে যাবে। তার কথামত আমি তা না ধুয়েই নামায পড়ে নেই। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, বড় ভাইয়ের এই কথা কি সঠিক? চড়ুই পাখির বিষ্ঠা জামায় লেগে থাকা অবস্থায় আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

জামায় দুধের বাচ্চার বমি নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২২৫৮) : আমার সন্তানের বয়স ছয় মাস। দুধপান করার পর সে মাঝে মাঝেই বমি করে। আমার কাপড়ে লেগে যায়, যা প্রতি ওয়াক্তে পরিষ্কার করা কষ্টকর। আবার অনেক সময় মনেও থাকে না। প্রশ্ন হল, এভাবে দুধের শিশুরা বমি করলে সে কাপড়ে নামায পড়ার কী হুকুম?

ইস্তিঞ্জা সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৩২) : ১. একেবারে মাযুর ব্যক্তি নিজে নিজে ইস্তেঞ্জা করতে পারে না। তার ইস্তেঞ্জার কী বিধান হবে? তার স্ত্রী জীবিত নেই। এখন কি ছেলেরা তাকে ইস্তেঞ্জা করিয়ে দিতে পারবে? ২. মহিলাদেরও কি ইস্তেঞ্জার ক্ষেত্রে ঢিলা ব্যবহারের বিধান রয়েছে? ৩. ব্যবহৃত ঢিলা শুকিয়ে গেলে তা দ্বারা কি আবার ইস্তেঞ্জা করা যাবে? ৪. গাছের পাতা কি ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে? যদি জায়েয না হয় তাহলে শুধু এভাবে ইস্তেঞ্জা করার পর আদায়কৃত নামাযের কী হুকুম হবে?

পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করার বিধান।

প্রশ্ন (১২১১৩) : আমরা জানি, পানি না থাকলে অথবা পানি ব্যবহার না করা গেলে ওযুর প্রয়োজন আছে- এমন কোনো ইবাদত করার জন্য তায়াম্মুম করতে হয়। কিন্তু অনেকসময় ওযুর প্রয়োজন নেই- এমন ইবাদতের জন্য পানি থাকা সত্ত্বেও আমি তায়াম্মুম করি। যেমন, দ্বীনী দরস প্রদান বা যিকির করা ইত্যাদি। আবার কখনো পানি থাকা সত্ত্বেও শুধু পবিত্র অবস্থায় থাকার উদ্দেশ্যেও তায়াম্মুম করে থাকি। জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এভাবে তায়াম্মুম করা শরীয়তসম্মত হচ্ছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

জায়নামাযের এক কোণে নাপাক থাকলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১০৩) : গতকাল যোহর নামায পড়ার সময় জায়নামায থেকে একটু একটু দুর্গন্ধ আসে। নামায শেষে জানতে পারি আমার ভাগিনা সকালে প্রস্রাব করেছিল। তখন জায়নামাযের সামনের এক কোণে প্রস্রাব লেগেছে। তা থেকেই দুর্গন্ধ আসছে। কিন্তু নামাযের সময় আমার কোনো অঙ্গ সে নাপাক অংশে লাগেনি। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

নাপাক কাপড়ে তাওয়াফ করলে কি তাওয়াফ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১০২) : আমি উমরায় এসেছি। সাথে আমার দুই বছরের বাচ্চা আছে। আমি তাকে কোলে নিয়ে তাওয়াফ করার সময় সে পেশাব করে দেয়। ঐ অবস্থায়ই আমি তাওয়াফ শেষ করি। জানার বিষয় হল, নাপাক কাপড়ে আমার এই তাওয়াফ কি আদায় হয়েছে? এবং এক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আসবে কি?

তায়াম্মুম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৭১) : আমি কয়েকদিন খুব অসুস্থ ছিলাম। তাই ডাক্তার আমাকে পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিল। তখন আমি তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতাম। এর মধ্যে একদিন আমার গোসল ফরয হয়। যেহেতু আমার পানি ব্যবহার করা নিষেধ তাই তায়াম্মুম করেই নামায আদায় করি। এখন আমি সুস্থ হয়ে গেছি। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন আমি কি করব? আমি কি শুধু ওযু করেই নামায পড়তে পারব নাকি ঐ ফরয গোসল করতে হবে? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাছের রক্ত কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২০৫৭) : আমি একটি মাছের দোকানে মাছ কাটার কাজ করি। অনেক সময় মাছ কাটতে গেলে মাছের রক্ত আমার শরীরে এবং কাপড়ে লেগে যায়। জানার বিষয় হল, কাপড়ে মাছের রক্ত লাগলে সে কাপড় পরে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে, নাকি তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে?

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৫) : আমি মগের মধ্যে পানি ভরে বারান্দায় রেখে প্রস্রাব করতে যাই। এসে দেখি আমাদের ঘরের বিড়াল পানিতে মুখ ‍দিয়েছে। যেহেতু ঘরের বিড়াল, তাই আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অযু করে নিই। পরবর্তীতে আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে,এই পানি দিয়ে আমার ওযু হয়েছে কিনা। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, বিড়ালের ঝুটা পাক না নাপাক? উক্ত পানি দিয়ে অযু করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, উক্ত পানি ছাড়াও অন্য পানির ব্যবস্থা ছিল।

পানিতে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা পড়লে সেই পানি দিয়ে ওযু সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৩৯) : গতকাল ওযু করার সময় পাত্রে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা দেখেছি। পরে ঐ পানি দিয়েই ওযু শেষ করি। ঐ অযু দিয়ে আসরের নামায পড়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

কাপড়ের কোন অংশে নাপাকী লেগেছিল তা ভুলে গেলে কিভাবে পাক করবে?

প্রশ্ন (১২০১৮) : একবার আমার জামায় নাপাকী লেগেছিল। কিন্তু কাছে পানি না থাকায় তখন আমি জামাটি ধুতে পারিনি। পরে তা শুকিয়ে যায়। আর আমিও নাপাকীর জায়গা ভুলে যাই। পরে আমার এক বন্ধুর নিকট জিজ্ঞাসা করলে সে বলে কাপড়ের কিছু অংশ ধুয়ে নিলেই তো পাক হয়ে যাবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি , তার কথা ঠিক আছে? জামার কিছু অংশ ধুয়ে নিলেই কি জামা পাক হয়ে যাবে?

রাস্তার কাঁদা জামায় লাগলে উক্ত অবস্থায় নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০১৭) : আমাদের মসজিদে যাওয়ার রাস্তা কাঁচাবাজারের ভিতর দিয়ে। আর এই রাস্তায় সবসময় পানি জমে কাঁদা হয়ে থাকে। ফলে মসজিদে যাওয়ার সময় জামায় কাঁদা লেগে যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, কাঁদাযুক্ত জামা নিয়ে নামায পড়লে নামায সহিহ হবে কি?

জামায় কবুতরের বিষ্ঠা নিয়ে নামায আদায় করলে নামায সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০১২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ঈদগাহে ঈদের নামায পড়ার সময় একটি কবুতর এসে আমার গায়ে বিষ্ঠা ছেড়ে দেয়। উক্ত অবস্থায়ই আমি নামায শেষ করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

রাস্তার কাদা জামায় লাগলে কি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১১৮৯৯) : গতকাল বৃষ্টি হওয়ার পর আমি রাস্তায় বের হই। তো রাস্তায় হাঁটার সাময় আমার জামায় কাদা লেগে যায়। তো আমি জানতে চাচ্ছি, রাস্তার কাদা লাগার কারণে কি আমার জামা নাপাক হয়ে গেছে? তা নিয়ে কি আমি নামায পড়তে পারব?

নাপাক কাপড়ের উপর জায়নামায বিছালে নামায হবে কি

প্রশ্ন (১১৮৬৬) : কিছুদিন আগে আমি বিছানার উপর জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়ি। নামায শেষে আমার স্ত্রী বলে, তুমি যে জায়গায় নামায পড়েছ সেখানে বাচ্চা পেশাব করেছে। জানতে চাচ্ছি, আমার কি নামায হয়েছিল?

দুধে ছাগলের লেদা পড়লে তা বিক্রি করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৭৮০) : আমি ছাগলের দুধ দোহন করে তা বাজারে বিক্রি করি। দুধ দোহনের অত্যন্ত সতর্ক থাকি যেন ছাগলের লেদা দুধে না পড়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কখনো কখনো এক দুটি দুধে পড়ে যায়। সাথে সাথে তা উঠিয়ে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, উক্ত দুধ বাজারে বিক্রি করা যাবে কি?