নাপাকী

মৃত ব্যক্তির গোসলকে ঘিরে কিছু কুসংস্কার।

প্রশ্ন (১১৭৫৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত ব্যাক্তিকে (মহিলা) গোসল করানোর ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার চালু রয়েছে, যা কোনো মাসআলার কিতাবে পাওয়া যায় না। যেমন- ১. যে ব্যক্তি নাপাক পরিষ্কার করে তাকে আর সেখানে থাকতে দেওয়া হয় না । তাদের ভাষ্যমতে সে নাকি নাপাক হয়ে গেছে। সে গোসল করার আগে আার কোনো কিছু স্পর্শ করতে পারবে না। ২. গোসল শেষে চোখে সুরমা দেওয়া হয়, নাকে কানে তুলা গুঁজে দেওয়া হয়। ৩. সাবান দিয়ে সারা শরীর তিন বার ধৌত করা হয়। ৪. বিভিন্ন রকমের জারি গান গাওয়া হয়। ৫. গোসল শেষ করে সবাই মাইয়্যিতের জন্য হাত তুলে ‍দোয়া করে। আমার জানার বিষয় হলো, এই সমস্ত কাজ করা কি সঠিক?

নামাযের মধ্যে প্রস্রাব বের হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭৪৭) : আমি প্রস্রাব করার পর ভালোভাবে ঢিলা ব্যবহার করি। তারপরেও বারবার আমার মনে সন্দেহ জাগে যে, মুত্রফোঁটা বের হয়েছে। নামাযের ভিতরে এমনটা বেশি মনে হয়। কিন্তু যাচাই করে কিছুই পাই না। এই বিষয়টা থেকে আমি কিভাবে বাঁচতে পারি? আর নামাযে থাকাবস্থায় প্রস্রাবের ফোঁটা বের হলে কি নামায ভেঙে যাবে?

মাইয়্যিতকে গোসল করানোর পর পুনরায় নাপাকি বের হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭৩৬) : আমার দাদাকে গোসল করানোর পর তার ইস্তিঞ্জার স্থান থেকে আবার নাপাকি বের হয়। আমার জানার বিষয় হলো, তাকে কি আবার গোসল করানোর দরকার ছিল?

ছোট বাচ্চা বমি করলে সেই কাপড়ে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৭৩৩) : আমার ছেলের বয়স পাঁচ মাস। মাঝে মাঝে দুধ খাওয়ানোর সময় আমার কোলে বমি করে দেয়। তখন আমি টিস্যু দিয়ে বমি মুছে বা হাত দিয়ে পরিষ্কার করেই ঐ কাপড়ে নামায পড়ি। কাপড় পরিবর্তন করি না। আমার জানার বিষয় হলো, দুধের শিশুর বমির বিধান কী? তা পাক, নাকি নাপাক? এই বমির কাপড়ে নামায আাদায় করলে কি আমার নামায হবে?

গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৬) : গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে যে ঘাম বের হয় তা কি নাপাক? সেই ঘাম যদি কাপড়ে লাগে তাহলে কি কাপড় নাপাক হয়ে যাবে? সেই ঘামযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া যাবে কি?

নাকের সর্দি নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৫) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নাকের সর্দি কি নাপাক? নামায পড়ার সময় বা অন্য কোনো সময় আমার নাকে সর্দি আসলে হাতের কাছে কোনো রুমাল না থাকলে তখন জামার আস্তিন দিয়ে ‍মুছে ফেলি। এতে কি আমার জামা নাপাক হয়ে যাবে? সেই জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি আমার নামায হবে?

নাপাক তোষক কিভাবে পাক করব?

প্রশ্ন (১১৬৪২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ঘুমের মধ্যে বেশখানি পেশাব বেরিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠার পর দ্রুত পেশাবের স্থান সহ আশেপাশে ধুয়ে পরিষ্কার করলাম। তারপর তোষকের যেই জায়গায় পেশাব লেগেছে সেখানেপানি ঢেলে হাত দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলাম। এখন আমার প্রশ্ন হলো, ১. আমি এভাবে ধৌত করার পর স্থানটি শুকিয়ে গেলে কি তোষক পাক হবে? ২. তোষক কি ৩ বার ধৌত করতে হবে? ৩. পানি দিয়ে তোষক পরিষ্কার করার সময় ওই পানি অন্য কোনো কাপড়ে লাগলে ওই কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে?

পেশাব ঝরার ব্যপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়?

প্রশ্ন (১১৬৪১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা। মাঝে মাঝেই আমার প্রস্রাবের স্থান থেকে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বের হয়। তারপর আমি তা ধুয়ে ফেলি। কিন্তু আমার সমস্যা হল, কিছুক্ষণ পর পর আমার মনে হয় যে, তা এখনো পড়ছে, কিন্তু আসলে পড়ছে না। এই অবস্থায় আমার কী করা উচিত? আমি কি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় কাপড় পাল্টিয়ে নামায আদায় করব?

পেশাব করার পর শুধু টিস্যু ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?

প্রশ্ন (১১৬৪০) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি প্রায় সময় পেশাব করার পর শুধু টিস্যু ব্যবহারেই ক্ষ্যান্ত থাকি। পানি ব্যবহার করি না। তো আমার জানার বিষয় হলো, পেশাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু টিস্যু ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?

গোসল ফরয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয়।

প্রশ্ন (১১৬০৪) : আমি গোসল ফরয অবস্থায় শুয়ে ছিলাম। পাশে স্ত্রী কুরআন তিলাওয়াত করছিল। তখন সে একটি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে। এখন আমার জানা বিষয় হলো, পবিত্রতা অর্জন করার পর কি আমার উপর উক্ত সিজদা আদায় করা ওয়াজিব হবে?

হিন্দু হোটেলে খাবার খাওয়া কি জায়েজ?

প্রশ্ন (১১৫৯৯) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ১) আমাদের এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট আছে, যার দুইজন মালিক আছে। একজন মালিক মুসলমান এবং আরেকজন মালিক হিন্দু। এই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খাওয়া কি ঠিক হবে? ২) আমাদের দেশের রেস্টুরেন্টগুলোতে কোনো রকমের তথ্য যাচাই-বাছাই করা ছাড়া গরু, মুরগী ইত্যাদির মাংস খাওয়া কি ঠিক?

শরীরে নাপাকি ছিঁটে আসলে কি শরীর নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১১৫৭৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর বা নাপাকি ধোয়ার সময় যদি নাপাকির ছিঁটা গায়ে লাগে তাহলে কি শরীর নাপাক হয়ে যাবে ? শরীরের কোন অংশে যদি নাপাকি লাগে তাহলে গোসল করার সময় সাধারণত গায়ে পানি ঢেলে গোসল করলেই হবে নাকি ঐ জায়গাটা আলাদা করে ৩ বার পরিষ্কার করে গোসল করতে হবে?

বীর্য কি নাপাক?

প্রশ্ন (১১৫৭৭) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার জানার বিষয় হলো, বীর্য কি পাক নাকি নাপাক?

ছারপোকার রক্ত মাখা জামা নিয়ে নামায পড়লে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১১৫৭৩) : আমাদের বাসায় ছারপোকার উপদ্রব অনেক বেশি। একদিন ফজরের সময় একটি জামা পরে নামায পড়ি। নামায পড়ার পরে দেখলাম তাতে বিভিন্ন জায়গায় ছারপোকার রক্ত লেগে আছে। রক্তমাখা জামা পরে কি আমার ফজরের নামায শুদ্ধ হয়েছে?

বাচ্চার পরিহিত ডায়াপারে নাপাক থাকাবস্থায় কোলে বসলে কি কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১১৫২৭) : আমি নামায পড়ার সময় বাচ্চাকে ডায়াপার পড়িয়ে খেলনা দিয়ে দূরে বসিয়ে রাখি। একদিন মাগরিবের নামাযের সময় দূরে বসিয়ে রাখা সত্ত্বেও সে খেলনা রেখে আমার কাছে চলে আসে এবং বৈঠকের সময় আমার কোলে বসে পড়ে। পরে তার ডায়াপার পরিবর্তন করতে গিয়ে দেখি, ভেতরে নাপাকি। নাপাকি যদিও আমার শরীরে লাগেনি, কিন্তু সে এ নাপাকি নিয়ে যে আমার কোলে বসল, এতে আমার নামাযের কোনো সমস্যা হয়েছে কি?

রশিতে নাপাক কাপড় শোকানোর পর সেই রশিতে আবার পবিত্র কাপড় শোকানো

প্রশ্ন (১১৫২০) : আমার প্রতিদিনই বাচ্চাদের জামা-কাপড় ধুতে হয়। তাই আমি বড় বালতিতে পানি নিয়ে সেখানে বাচ্চাদের নাপাক কাঁথা কাপড় একবার ভালোভাবে ধুয়েই তুলে রাখি। যেহেতু বাচ্চাদের কাপড়, তাই এগুলো পাক করার উদ্দেশ্যে তিনবার ধোয়া হয় না। পরে এগুলো ভালোভাবে চিপে রশিতে ছড়িয়ে দিই। কাপড়ের আর্দ্রতায় রশিও হালকা ভিজে যায়। এরপর এই রশিতেই আমাদের পবিত্র ভেজা কাপড় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন আমার প্রশ্ন হলো, রশিতে নাপাক কাপড় শুকানোর পর পবিত্র কাপড় দেওয়ার দ্বারা কি পবিত্র কাপড়গুলো নাপাক হয়ে যাবে?

নদীর ঘোলাটে পানি দিয়ে ওযু করলে কি ওযু হবে?

প্রশ্ন (১১৫০৯) : আমার বাড়িতে যাওয়ার পথে পদ্মা নদী পার হতে হয়। নদী পার হওয়ার সময় নামাযের সময় হলে ফেরিতে নামায পড়তে হয়। ফেরির ছাদে ওযুর জন্য যে পানির ব্যবস্থা থাকে, তা নদী থেকেই তোলা হয়। সেই পানি বেশ ঘোলাটে ও অস্বচ্ছ। আর লঞ্চ-ফেরির সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা এবং টয়লেটের ময়লাও নদীতে পড়ে। ফলে ঐ পানি দিয়ে ওযু করতে, বিশেষত কুলি করতে রুচি হয় না। জানার বিষয় হল, সেই পানি কি পাক? তা দ্বারা কি ওযু সহিহ হবে?

ওযু অবস্হায় ঘুমানোর ফজিলত।

প্রশ্ন (১১৪৮১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রাতে ঘুমানোর আগে ওজু করে ঘুমানো অনেক ফজিলত । ১. আমি ওজু করার পর ঘুমের আগের আমলগুলো করি। যেমন- আয়াতুল কুরসি পাঠ, তিন কুল পাঠ, সূরা বাকারাহ'র শেষ দূই আয়াত ইত্যাদি। কিন্তু এরপর প্রায়ই আবার পেশাবের বেগ আসে বা বায়ু বের হয়। এ অবস্থায় আবার ওজু করে কি আবার রাতের আমল করতে হবে? নাকি শুধু ওজু করলেই হবে? ২. বিয়ের পর ঘুমের আগে স্বামী স্ত্রী সহবাস হয় জানি। তখন তো ওজু করার ফজিলত পাবোনা। সেক্ষেত্রে কি বিছানায় যাওয়ার আগে ওজু করে নিলে আর আমলগুলো আগে করলে ফজিলত পাওয়া যাবে?